২০শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।সোমবার

কক্সবাজারে জামায়াত নেতা গ্রেফতার।।থানা ঘেরাও

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাঁনচাল ও নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা সদর জামায়াতের আমির নুরুজ্জামান মঞ্জুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গত কাল রবিবার (২ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এদিকে জামায়াত নেতা মঞ্জুকে আটকের প্রতিবাদে চকরিয়া-পেকুয়া আসনের বিএনপি মনোনীত এমপি প্রার্থী এড: হাসিনা আহমদের নেতৃত্বে শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মী পেকুয়া থানা ঘেরাও করেছে। থানা কম্পাউন্ডে বিএনপি নেতাকর্মীরা বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ বিএনপি-জামায়াতের দুই কর্মীকে গ্রেফতার করেছে।
পুলিশ জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পেকুয়া সদর ইউনিয়নের জামায়াত নেতা নুরুজ্জামান মঞ্জুর বাড়িতে নির্বাচন বানচাল ও নাশকতা পরিকল্পনার ১৫-২০জন জামায়াত-শিবিরের ক্যাডার নিয়ে বৈঠক করেছিলা। ওইসময় গোপন সংবাদ পেয়ে পেকুয়া থানা পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালায়।

এসময় জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররা পালিয়ে গেলেও জামায়াত নেতা নুরুজ্জামানকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। পরে সেখান থেকে পেকুয়া থানায় নিয়ে আসা হয় নুরুজ্জামানকে।
এদিকে বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে জামায়াত নেতা নুরুজ্জামানকে গ্রেফতারে প্রতিবাদে পেকুয়া থানা ঘেরাও করেছে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাসিনা আহমদ। তার নেতৃত্বে শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মী পেকুয়া থানা ওসির কক্ষে আধা ঘন্টা অবস্থান করেন।
এসময় তিনি পেকুয়া থানার ওসি জাকির হোসেন ভুঁইয়ার কাছ থেকে জামায়াত নেতা নুরুজ্জামানকে ওয়ারেন্ট না থাকার পরও কেন গ্রেফতার করা হলো? ওসি বিএনপি নেত্রীকে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগ রয়েছে বলে জানানো হয়। এরইমধ্যে বিএনপি নেতাকর্মীরা থানার বাইরে তার মুক্তির দাবীতে বিক্ষোভ করতে থাকে। একপর্যায়ে হাসিনা আহমদ বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের নিভারণ করে থানা কম্পাউন্ড ছাড়তে বলেন। পরে তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে থানা এলাকা ছেড়ে চলে যান।

জামায়াত নেতা নুরুজ্জামানের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকী স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ পরিকল্পিতভাবে তার স্বামীকে গ্রেফতার করেছে। তার বিরুদ্ধে কোন ধরণের অভিযোগও ছিল না। এরপরও পুলিশ গ্রেফতার করেছে। প্রতারণাসহ কয়েকটি মামলা থাকলেও সেই মামলায় জামিনে রয়েছেন বলে তিনি জানান।
পুলিশ জানান, রাত ৮টার দিকে জামায়াত নেতা মিছবা উদ্দিন ও জসিম উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়।

এব্যাপারে পেকুয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা শাফায়াত আজিজ রাজু বলেন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা নুরুজ্জামানকে গ্রেফতার হওয়ার পর বিএনপি মনোনীত এমপি প্রার্থী এডভোকেট হাসিনা আহমদ নেতাকর্মী নিয়ে থানায় যান। ওইসময় ওসির কাছ থেকে জামায়াত নেতা গ্রেফতারে বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। এরপরই সেখান থেকে চলে আসি। তবে থানা ঘেরাওয়ের মতো কোন ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি জানান।
পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ জাকির হোসেন ভুঁইয়া বলেন, জামায়াত নেতা নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে নির্বাচন বানচাল ও নাশকতার অভিযোগ রয়েছে। এদিন দুপুরে নাশকতার জন্য জামায়াত-শিবিরের ক্যাডারদের নিয়ে তার বাড়িতে বৈঠক করেছিলো। বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতারের কথা জানান তিনি।

চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) কাজী মো. মতিউল ইসলাম বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকায় নাশকতার পরিকল্পনা করছে অভিযোগ পেয়ে মঞ্জুকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে নাশকতা পরিকল্পনা করার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি