1. ashiskumarsaha90@gmail.com : Ashish Saha : Ashish Saha
  2. dainikbanglerprottoy@gmail.com : banglar : Nibas Dhali
সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ১২:৫২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
শার্শায় বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালিত। ফারুয়াতে ডা.রনি’র নেতৃত্বে বন্যা কবলিত এলাকায়  চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে একটি মেডিকেল টীম । কপোতাক্ষের ভয়াল স্রোতে ভেঙে গেল সেতু, বিচ্ছিন্ন দুই পাড়ের মানুষ। কয়রায় বিষযুক্ত ১৫০ কেজি চিংড়ি সহ নৌকা জব্দ। কয়রা উপজেলা মতুয়া মহাসঙ্ঘের দপ্তর সম্পাদকের মৃত্যুতে উপজেলা মতুয়া মহাসঙ্ঘের শোক । কেশবপুরে বসুন্ধরা শুভসংঘের আয়োজনে চার কবি-সাহিত্যিকের জীবন ও কর্মের উপর আলোচনা। বিলাইছড়িতে বন্যা দুর্গতদের  পাশে সেনা জোন । বিলাইছড়িতে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা  আটলিয়া ইউনিয়নের স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত সাবেক চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান আর নেই। কেশবপুরের মঙ্গলকোটে ৩০ জন হতদরিদ্র পেল গবাদিপশু ও গাভী পালন প্রশিক্ষণ।

একজন ছকিনার জীবন কাহিনী

রিপোর্টার নাম
  • প্রকাশিত তারিখ : মঙ্গলবার, ৩ আগস্ট, ২০২১
  • ১০৫৫ বার পঠিত

একজন ছকিনার জীবন কাহিনী

ছকিনা একজন সাধারন কারিগরের অত্যন্ত সুন্দরী,ছিপছিপে, চটপটে এবং বেশ লম্বা মেয়ে। তিন বোনের মধ্যে ছকিনা দ্বিতীয় । সে যখন স্কুলে পড়তো, তখন স্কুলে ক্রিড়াপ্রতিযোগীতায় অংশ গ্রহন করত। সবগুলি প্রথম পুরস্কার তার ছিল। গানও ভাল গাইতে পারতো। এ ভাবে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনা করার পর এক স্কুল মাষ্টার জামাল তাকে বিয়ে করার জন্য পাগল প্রায়। তাদের বিয়ে ও হয়ে যায় পারিবারিক সন্মতিতে। বিয়ের বছর দুই ভালই চললো। তবে ডানপিটে মেয়ে হওয়ায় তার শশুর শাশুড়ী তাকে কিছুটা অপছন্দ করতো। কিন্তু কি করা, ছেলের পছন্দ তাই ভিতরে জ্বালা থাকলেও উপরে প্রকাশ করতো না। একদিন ছকিনার মা এবং ছোট বোনের ব্যবহারে জামাল অসন্তুষ্ট হয়, যা এসে বাবা মাকে বলে, তাতেই তাদের ভিতরের শুপ্ত আগুন জ্বলে উঠতে শুরু করে। অবস্হা দিনে দিনে অবনতির দিকে যেতে লাগলো ।
কিছু দিনের মধ্যেই স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলো। যুদ্ধের একপর্যায়ে আগষ্ট মাসের এক সকালে পাকবাহিনী গ্রামে ঢুকলো। গ্রামের লোক পালাতে শুরু করলো। ছকিনার শশুর বাড়ির লোকজন ও পালাতে লাগলো। সুন্দরী মেয়েদের একটু সাজগোছের অভ্যাস বেশী থাকে, তাই তার বের হতে দেরী হলো। মেলেটারী বাড়ীতে ঢুকলো। এই পাক আর্মি পাশের এক বড় নেতার ভাগনেকে ধরতেগিয়ে অল্পের জন্য ব্যর্থ হয়, তাই সম্ভবত তার ক্রোধ বেড়ে যায়। ফেরত আসতেই ছকিনা সামনে পড়ে যায়। দুর্ভাগী ছকিনা, বদনামের ভাগী হয়ে যায়। যুদ্ধ শেষ হলো , ৭/৮ মাস পরে তার একটি ছেলে হলো। কিছু কিছু লোক সন্দেহ করতে লাগলো । এক পর্যায়ে বিষয়টি জামালের কর্নগোচর হলো। তিনি স্ত্রীকে সন্দেহ করতে থাকেন। কিন্তু ছকিনা ব্যাপারটিকে প্রথম থেকেই অস্বীকার করে আসছিলো। একদিন এই ব্যাপারটিকে নিয়েই ছকিনাদের বাড়ীতে দ্বিতীয়বার ঝামেলা হয়। এর প্রেক্ষিতে তাকে তালাক প্রদান করা হয়, কিন্তু আদালত কর্তৃক বাতিল হয়ে যায়। এর পর আর এক বার, সে বারও আদালত তালাক বাতিল করে দেন। কিন্তু জামাল দমিবার পাত্র নহেন, তিনি আবার তাকে আটঘাট বেধে তালাক প্রদান করেন। ছকিনাও
দমিবার পাত্রী নন, সে কসম করে বসেছে , ঘর করতে হলে সে জামালের ঘরই করবে, প্রয়োজনে একদিনের জন্য হলেও। দেখতে দেখতে তার ছেলে বয়স ৭/৮ বছর হয়েগেল। ভাদ্র মাসের কোন একদিন দুপুরে তাকে খাওয়ার জন্য তার মা খুজছিল কিন্তু কোথাও খুজে পাওয়া যাচ্ছিল না। খুজতে খুজতে জানতে পারে, ছেলে পুকুরে গোসলে নেমেছিল, তার এক বন্ধুর সাথে। তার বন্ধু বলে পুকুরে পাট ভিজানো আছে, ঐ পাটের জাগের নীচে ঢুকেছে আর বের হয় নাই। কথামত তাকে পাটের জাগের নীচে মৃত অবস্হায় পাওয়া যায়। তাতে এক রূদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয় । কিছুদিন পর তাদের কেসের রায় ঘোষনা হয়, আদালত তালাককে অবৈধ ঘোষনা করলো।
এর ভিতর জামাল আবার বিয়ে করেছে, ও ঘরে দুইটা বাচ্চা হয়েছে, তাই বাধ্য হয়ে সতিনের ঘরই তাকে বেছেনিতে হলো। ছকিনার বর্তমান বয়স প্রায় ৬৫ হতে ৭০। জামাল মাষ্টার পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছে। বর্তমানে ছকিনার দিন মোটামুটি কষ্টেই কাটে। একছেলে একমেয়ে। কষ্ট থাকলেও আজও সে স্বীকার করে না , যে পাকিস্তানি আর্মির দ্বারা ধর্ষিতা হয়েছিল, সে বিরংগনা। এ রকম অনেক মহিলাই নিজের লোক লজ্জার ভয়ে স্বীকার না করে চেপে আছে। তারা সরকার কর্তৃক ঘোষিত সুযোগ সুবিধার চেয়ে লোক লজ্জাটাকে বেশী দামী মনে করে।

( লেখক :- ফজলুল হক মনোয়ার) ।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2021-2022
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: BDiT