
বকুল কুমার দেবনাথ :
ভেড়ামারা শহরের মধ্যবাজারে(স্বর্ণপট্টিতে) অবস্থিত অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিভা মডেল একাডেমী’তে অত্যন্ত আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে ‘ফল উৎসব ও মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ১৭ জুন, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ বাংলা ৩রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ রোজ
(বুধবার) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই যৌথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রতিভা মডেল একাডেমীর শিক্ষার্থীদের বাঙালির ঐতিহ্য ও বৈচিত্র্যময় দেশীয় ফলের সাথে পরিচিত করা এবং সন্তানের শিক্ষাদানে মায়েদের ভূমিকা জোরদার করার লক্ষ্যেই ব্যতিক্রমী এই আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল হরেক রকমের দেশীয় মৌসুমী ফলের সমাহার। বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের যৌথ উদ্যোগে সাজানো স্টলগুলোতে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, আনারস, লটকন, জামরুল, করমচা, সহ প্রায় ২৫-৩০ প্রজাতির ফল প্রদর্শন করা হয়। শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে বিভিন্ন ফলের পুষ্টিগুণ ও পরিচিতি অতিথিদের সামনে তুলে ধরে।
ফল উৎসবের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয় ‘মা সমাবেশ’। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মায়েরা অংশ নেন। সমাবেশে সন্তানের পড়াশোনা, নৈতিক চরিত্র গঠন এবং মানসিক বিকাশে মায়েদের করণীয় নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব এবং মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রতিভা মডেল একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক, বিশিষ্ট সাংবাদিক ফিরোজ মাহমুদ।
শিক্ষার মূল ভিত্তি গড়ে ওঠে পরিবার থেকে, আর একজন মা-ই হলেন সন্তানের প্রথম ও প্রধান শিক্ষক। সন্তানের জিপিএ-৫ পাওয়ার চেয়ে তাকে একজন ভালো ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা বেশি জরুরি। প্রধান অতিথি জনাব মোঃ আমিরুল আরাফাত উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভেড়ামারা তিনি বলেন ফাস্টফুড বা কৃত্রিম খাবারের অভ্যাস পরিহার করে সন্তানদের দেশীয় পুষ্টিকর ফল খাওয়ানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
সমাবেশে আগত মায়েরা তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয়। ফল উৎসবের মাধ্যমে শিশুরা যেমন আমাদের দেশীয় ফল সম্পর্কে জানতে পেরেছে, তেমনি মা সমাবেশের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাথে মায়েদের মেলবন্ধন আরও দৃঢ় হয়েছে।
আলোচনা সভা শেষে বিদ্যালয়ের ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠান শেষে আমন্ত্রিত অতিথি, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে দেশীয় মৌসুমী ফল বিতরণ করা হয়। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকবৃন্দ