
নিজস্ব প্রতিবেদক।
চলতি বছরের মে মাসে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৬২২ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ২৩১ জন। শনিবার (১৩ জুন) বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
সড়ক ছাড়াও রেলপথে ৪২টি দুর্ঘটনায় ৩৪ জন নিহত, নৌপথে ২১টি দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত হয়েছেন। সড়ক, রেল ও নৌপথ মিলিয়ে ৬৭৬টি দুর্ঘটনায় ৬৭১ জন নিহত এবং এক হাজার ৬৯৬ জন আহত হয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মে মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১৮৫ জন নিহত এবং ৫৫৮ জন আহত হয়েছেন। সবচেয়ে কম ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৮ জন নিহত ও ৬৭ জন আহত হয়েছেন।
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ১৩৬ জন বিভিন্ন পরিবহনের চালক, ১১০ জন পথচারী, ৬৯ জন নারী, ৫৯ জন শিশু, ৭৩ জন শিক্ষার্থী, ৪৯ জন পরিবহন শ্রমিক, আটজন শিক্ষক, এক আইনজীবী, দুজন পুলিশ সদস্য, দুজন বিজিবি সদস্য, একজন চিকিৎসক, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং তিনজন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী রয়েছেন।
দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বেশ কিছু সুপারিশ করেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। এরমধ্যে রয়েছে—ঈদযাত্রায় স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন। সারাদেশে উন্নত বিশ্বের আদলে আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা। প্রযুক্তি নির্ভর সড়ক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা এবং চালকদের উন্নত প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে লাইসেন্স প্রাপ্তি নিশ্চিত করা। গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাসড়কে ফুটপাতসহ সার্ভিস লেইনের ব্যবস্থা করা। কাঠামোগত সংস্কার করে সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ করা এবং চালকের বেতন ও কর্মঘণ্টা সুনিশ্চিত করা। মহাসড়কে ফুটপাত ও পথচারী পারাপারের ব্যবস্থা রাখা। রোড সাইন, রোড মার্কিং স্থাপন করা এবং মানসম্মত সড়ক নির্মাণ ও মেরামত সুনিশ্চিত করা। নিয়মিত রোড সেইফটি অডিট করা। ফিটনেস প্রদান পদ্ধতি আধুনিকায়ন, মেয়াদোর্ত্তীন গণপরিবহন উচ্ছেদ করা। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএর সক্ষমতা বাড়ানো। ট্রাফিক ট্রেনিং একাডেমি গড়ে তোলা ও পরিবহন সেক্টর পরিচালনায় বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করা।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল বিভিন্ন গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণে এ তথ্য পেয়েছে। প্রকৃত হতাহতের ঘটনা আরও বেশ কয়েকগুণ বাড়তে পারে। যা সংবাদপত্রে স্থান না পাওয়ায় তুলে আনা সম্ভব হয়নি বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।