
পরেশ দেবনাথ, বিশেষ প্রতিনিধি।
“যেতে নাহি দিব হায়, তবু যেতে দিতে হয়, তবু চলে যায়…” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ঝিকরগাছা উপজেলার গঙ্গানন্দপুর ডিগ্রী কলেজের ব্যবস্থাপনা বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক বাবু গোবিন্দ কুমার ঘোষ-এর অবসরজনিত বিদায় উপলক্ষে-বিদায় সংবর্ধনা ও আলোচনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য ও মানপত্র পাঠ করেন, কলেজের অধ্যক্ষ জনাব জয়ন্ত কুমার বিশ্বাস। উল্লেখ্য, সহকারী অধ্যাপক বাবু গোবিন্দ কুমার ঘোষ ১২/১১/১৯৯৭ ইং-সালে যোগদান করেন এবং ০৯/৫/২০২৬ সালে সফলতার সাথে কর্মজীবন শেষ করে অবসরে যান।
সোমবার (১৮ মে-২৬) কলেজ অডিটোরিয়ামে ঝিকরগাছা উপজেলার গঙ্গানন্দপুর ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ জনাব জয়ন্ত কুমার বিশ্বাস-এর সভাপতিত্বে এবং সহকারী অধ্যাপক আবুল বাশার খান ও মোঃ মিন্টু মিয়া-এর সঞ্চালনায় বিদায়ী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, অত্র কলেজের সুযোগ্য সভাপতি বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজসেবক জনাব মোঃ আরিফুজ্জামান।
বিদায় সম্ভাষণ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, উপাধ্যক্ষ জনাব মোহাম্মদ শাহজাহান সিরাজ, জনাব মোঃ আইয়ুব হোসেন, সহকারী অধ্যাপক মোঃ আবু সাঈদ, আবুল বাশার খান, জামাল উদ্দিন আহমেদ, বাবু অশোক কুমার দাস, গোবিন্দ কুমার ঘোষ, নাজমা খাতুন প্রভাষক জেসমিন আক্তার, ইয়াসিন হোসেন। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখে, বাণিজ্য বিভাগের দুইজন ছাত্রী আঁখি খাতুন ও রোকসানা সুলতানা জ্যোতি। তারা আবেগ আপ্লুত হয়ে বিদায়ী স্যারকে তাদের সমস্ত অপরাধ ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার মিনতি ও সাথে সাথে আশির্বাদ প্রার্থনা করে। অবশেষে তারা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। বিভিন্ন সহকর্মী সহ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও অন্যান্য সদস্য গণ বিদায় সম্ভাষণ জানান। কলেজের পক্ষ থেকে প্রথমে সদ্য বিদায়ী স্যারকে ফুলের শুভেচ্ছা জানানো হয়। মানপত্র, মেমেন্টো, ক্রেস্ট অন্যান্য সামগ্রী-সহ নগদ অর্থ প্রদান ও সভাপতি মহোদয় ব্যক্তিগতভাবে একটি হাত ঘড়ি ও একটি ক্রেস্ট উপহার দেন এবং বাকী জীবনটা সুস্থ শরীরে দিনাতিপাত করার প্রার্থনা করে বলেন, “আপনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি। মনে রাখবেন, কপোতাক্ষের পাড়ে এই প্রিয় কলেজটি আপনার জন্য সব সময় উন্মুক্ত থাকবে।”
গঙ্গানন্দপুর ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ জনাব জয়ন্ত কুমার বিশ্বাস কলেজের পক্ষ থেকে জনাব জয়ন্ত কুমার বিশ্বাস জানান, কর্মক্ষেত্রে আপনি ছিলেন আমাদের ছায়ার মতো। কখনও বড় ভাইয়ের স্নেহে, কখনও পরম বন্ধুর মতো। আমাদের পথ দেখিয়েছেন। কাজের চাপে হয়তো কোনোদিন কোনো ভুলত্রুটি হয়েছে, কোনো কটু কথা হয়েছে-বিদায়ের এই পবিত্র মুহূর্তে সিক্ত নয়নে আমাদের সেই অনিচ্ছাকৃত ভুলগুলো ক্ষমা করে দেবেন। অবশেষে মিষ্টিমুখ ও মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়।
ছবিঃ
১৮/০৫/২৬