1. dainikbanglerprottoy@gmail.com : admin : Nibas Dhali
  2. ashiskumarsaha90@gmail.com : Ashish Saha : Ashish Saha
শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
জেলা পরিষদ সদস্য দায়িত্ব পেলে বিলাইছড়ি উপজেলা হবে উন্নয়নের রোল মডেল । হুমকির মুখে নওয়াপাড়া নদী বন্দর। খুলনা মহানগর যুবলীগ নেতা শওকত হোসেনকে রাজধানী থেকে গ্রেপ্তার। জেলা পরিষদ সদস্য পদে আলোচনায় জয়সিন্ধু : একবার সুযোগ দিলে আনবে উন্নয়নে গতি। খুলনার ডাকবাংলা মোড়ে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত -১। নিখোঁজ ব্যবসায়ী সূজনকে রহস্যজনকভাবে উদ্ধার ঢাকার কড়াইল বস্তিতে হবে ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন। বিলাইছড়িতে  ইউএনও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। খুলনার দিঘলিয়ায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা আহত -৩। খুলনা নগরীতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে জরিমানা আদায়।

৩ হাজার মানুষের ৬ ঘন্টার স্বেচ্ছাশ্রমে দাঁড়িয়ে গেল দক্ষিণ বেদকাশীর ভাঙা বেড়ীবাঁধ।

রিপোর্টার নাম
  • প্রকাশিত তারিখ : সোমবার, ১৮ জুলাই, ২০২২
  • ২৭৪ বার পঠিত

অরবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনাঃ

দুর্ভোগ যেন পিছু ছাড়ছেনা কয়রার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের মানুষের। প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়ছে ইউনিয়টি। আবারো চরামুখার কপোতাক্ষ নদের বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে প্লাবিত হয় ৫ গ্রামের অসহায় মানুষ। তবে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে বাঁধটি বাধা সম্ভব হওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেল্ল ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ। সোমবার ভোর থেকেই হাজার হাজার মানুষ জড়ো হন ভাঙা ঐ বাঁধের স্থানে। ততক্ষণে ভাটার টান পড়েছে কপোতাক্ষ নদে। ভোর ৬ টায় দূর-দূরান্ত থেকে কেউ হেঁটে, কেউবা নৌকা-ট্রলারে করে নিজ নিজ দায়িত্বে ঝুড়ি-কোদাল নিয়ে বাঁধ বাঁধতে চলে এসেছেন। মাইক হাতে একজন আহবান জানালেন সবাইকে কাজে নেমে পড়ার জন্য। এরপরই শুরু হলো স্বেচ্ছাশ্রমে দক্ষিণ বেদকাশী এলাকার ভেঙে যাওয়া বাঁধ মেরামতের কাজ। কেউ বস্তায় মাটি ভরছেন আবার কেউ মাটির ঐ বস্তা নিয়ে ফেলছেন ভাঙা বাঁধের স্থানে। কেউবা ব্যস্ত খুঁটি পোঁতার কাজে। বসে ছিলেন না নারীরাও। ঘর্মাক্ত, ক্লান্ত মানুষকে পানি খাইয়ে, এটা ওটা এনে দিয়ে কাজ করছিলেন তারাও। এভাবে প্রায় দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৬ ঘন্ট টানা কাজ চলার পর জোয়ারের পানি আসার আগেই বাঁধ মেরামত করে ফেলতে সক্ষম হন এলাকাবাসী। এ কাজে যুক্ত হয়েছিলেন প্রায় ৩ হাজার মানুষ। দক্ষিণ বেদকাশীর চরামুখা এলাকার ঐ বাঁধ ভেঙে গিয়েছিল গত রোববার ভোররাতে। এতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৪/১ পোল্ডারের বেড়ীবাঁধের ৩০০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। নদী ভাঙনে ঘর-বাড়ি, জমিজমা সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে অনেক পরিবার। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ঐ ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার মানুষ। বাড়ি-ঘর হারিয়ে ছেলে-মেয়ে ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনেকেই খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন। ভেসে গেছে প্রায় তিন হাজার বিঘা চিংড়ি ঘের। ডুবে গেছে আমনের বীজতলা। গত রোববার ঐ বাঁধ মেরামতের চেষ্টা করেও পারেননি এলাকাবাসী। এ কারণে সোমবার অধিক সংখ্যক মানুষকে নিয়ে কাজ শুরু করেন তারা।
এলাকাবাসী বলেন, ভেঙ্গে যাওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব বাঁধ মেরামত করতে হয়। আর তা নাহলে একদিকে যেমন পানির স্রোতের টানে ভাঙন এলাকা গভীর হতে থাকে, অন্যদিকে প্রতিদিনই জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয় নতুন নতুন এলাকা। ভাঙন এলাকা একবার গভীর হয়ে গেলে সেখানে বাঁধ দেওয়া কঠিন।
ইতিমধ্যে ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন কয়রা-পাইকগাছার সাবেক সাংসদ ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের খুলনা জেলা শাখার সহসভাপতি এ্যাডঃ সোহরাব আলী সানা, কোষাধ্যক্ষ ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুল আলম, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এসএম শফিকুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিমেষ বিশ্বাস ও বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদের খুলনা জেলা শাখার সহসভাপতি ও কয়রা উপজেলা শাখার সভাপতি অরবিন্দ কুমার মণ্ডল।
বাঁধ না ভাঙলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঘুম ভাঙে না উল্লেখ করে দক্ষিণ বেদকাশী এলাকার স্বাধীন সমাজকল্যাণ যুব সংঘের সভাপতি মোঃ আবু সাঈদ খান বলেন, একবার বাঁধ ভাঙলে কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তলিয়ে যায়। অবকাঠামো নাজুক হয়ে পড়ে। বাঁধ ভাঙলে সংস্কার করা হয়, ভাঙার আগে বার বার বলা সত্ত্বেও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় না। দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের অন্তত ৩টি পয়েন্টে বেড়িবাঁধ জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।

দক্ষিণ বেদকাশী গ্রামের রবিউল ইসলাম বলেন, ভাঙনের কারণে আমার ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে পড়েছে। কোথায় থাকব জানি না। রান্না করার কোন ব্যবস্থা নেই। বাঁধ না হলে ছেলে মেয়ে নিয়ে কি করব ভেবে পাচ্ছি না। সে কারণে সবকিছু ফেলে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ মেরামতের কাজে নেমেছি। ক্ষোভ ও হতাশা ভরা কন্ঠে তিনি বলেন, স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না করা হলে আমাদের দুর্ভোগ কমবেনা।
দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আব্দুস সালাম খান বলেন, পানিতে তলিয়ে গেছে দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের পাঁচ গ্রাম। ভেসে গেছে তিন হাজার বিঘা চিংড়ি ঘের। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ১০ হাজার মানুষ। বাঁধ মেরামতে বস্তা ও বাঁশ-খুঁটি দিয়ে সহায়তা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মশিউল আবেদিন বলেন, স্বেচ্ছাশ্রমে মানুষ প্রাথমিকভাবে রিংবাঁধ দিয়ে পানি আটকাতে পেরেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বস্তা ও বাঁশ দিয়ে সহযোগীতা করেছে। পানি আটকানোর পর মূল ক্লোজারে কাজ শুরু করা হবে।
কয়রা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এস এম শফিকুল ইসলাম বলেন, নদী ভাঙন যেন কয়রার মানুষের পিছু ছাড়ছে না। যখনই কয়রার মানুষ ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে ঠিক তখনই আবার কোন না কোন জায়গায় নদী ভাঙন দেখা দেয়। প্রাথমিকভাবে রিংবাঁধ দিয়ে পানি আটকানো সম্ভব হয়েছে। জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনিমেষ বিশ্বাস বলেন, উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসনের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে বাঁধ বাধার কাজের ও পানিবন্দি মানুষের জন্য সহযোগীতা করা হয়েছে। উপকূলীয় জনপদ কয়রা উপজেলার মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ যাতে দ্রুত শুরু হয় এ জন্য উর্দ্ধতন কতৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।

কয়রা, খুলনা প্রতিনিধি
তারিখঃ- ১৮/০৭/২২ ইং।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2021-2022
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: BDiT