২২শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৭ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।সোমবার

সাতক্ষীরায় সপ্তাহব্যাপী ভগবত-গীতা পাঠ অনুষ্ঠানে দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত ৭ জন, আটক-৪ জন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:সাতক্ষীরার শ্যামনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের সপ্তাহব্যাপী ভগবত-গীতা পাঠ অনুষ্ঠানে দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত ৭ জন, আটক-৪ জন।

বুধবার রাত ৮টার দিকে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বাধঘাটা গ্রামের হরিমন্দির ও কালীমন্দির সংলগ্ন মাঠে এ হামলা চালানো হয়।

আহতদের মধ্যে মারাত্মক জখম তিনজনকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

সাতদিন ব্যাপী ভগবত ও গীতা পাঠ অনুষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সভাপতি রণজিৎ বরকন্দাজ জানান, বাধঘাটা গ্রামের রঞ্জন মন্ডলের বাড়ির পাশে হরিমন্দির ও কালীমন্দির সংলগ্ন পাঠে গত ৮ মার্চ থেকে সাতদিন ব্যাপী ভগবত ও গীতা পাঠ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর উপজেলা ও জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা সেখানে হাজির হন। তারা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে ভগবত ও গীতা পাঠ শ্রবণ করেন।

তিনি জানান, অনুষ্ঠান শুরুর পর থেকে মৌলবাদী একটি মহল নামাজের সমস্যা, পড়াশুনা ও ঘুমের সমস্যা সহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করে। তারা উপস্থিত লোকজনদের সেখান থেকে চলে যাওয়ার জন্য হুমকি ধামকি দেয়।

রণজিৎ বরকন্দাজের অভিযোগ, বুধবার সন্ধ্যা থেকে গীতা পাঠ করছিলেন ভারতের শ্রীধাম বৃন্দাবনের হরিচাঁদ দাস ব্রহ্মচারী। রাত সাতটার দিকে বাধঘাটা গ্রামের আকরাম হোসেন বাবু, মিলন হোসেন, গোলাম মোস্তফা, আবুল হোসেন , মফিজুর রহমানসহ কয়েকজন গীতাপাঠ বন্ধ করার কথা বলে।রাজী না হওয়ায় তারা চলে যায়।

একপর্যায়ে ওই পাঁচজনের নেতৃত্বে ১৪/১৫ জন হাতে লাঠি, লোহার রড ইত্যাদি নিয়ে অনুষ্ঠান বন্ধ করতে এলে আয়োজক কমিটির সদস্যরা বাধা দেয়। এ সময় হামলাকারীরা গোকুল মন্ডল, সমীর মন্ডল, বনমালী মন্ডল, সুধাংশু মন্ডল ও সুরেশ মন্ডলসহ সাতজনকে পিটিয়ে জখম করে। মারাত্মক আহত অবস্থায় গোকুল, সমীর ও বনমালীকে শ্যামনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

খবর পেয়ে রাত ১০টার দিকে পুলিশ হামলাকারী চারজনকে আটক করে। আটককৃতরা হলেন বাধঘাটা গ্রামের আকরাম হোসেন বাবু, মিলন হোসেন, গোলাম মোস্তফা ও আবুল হোসেন।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ মান্নান আলী ভগবত অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান আয়োজক কমিটির সভাপতি রণজিৎ বরকন্দাজ বাদী হয়ে মামলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অরবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনাঃ

খুলনার কয়রায় জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৬ জুলাই মঙ্গলবার দুপুর ১২ টায় উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ খুলনা জেলার আয়োজনে ও কয়রা উপজেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় এ সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুলী বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সচেতনতামূলক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান জি এম মোহসিন রেজা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসিমা আলম।
এসময় আরও উপস্হিত ছিলেন, কয়রা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম বাহারুল ইসলাম, উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সরদার নুরুল ইসলাম কোম্পানি, দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আছের আলী মোড়ল, মহারাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ শিকারী, বাঙ্গালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ গাজী, আমাদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জুয়েল সহ সাতটি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ।

নিরাপদ খাদ্যের মূল প্রবন্ধ উপস্হাপন করেন খুলনা জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার মোঃ মোকলেছুর রহমান।

কয়রায় নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত।

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি:

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুরের দায়ের কোপে ভাতিজা বউ শিউলী আক্তার খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০) স্বপরিবারে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় তার চাচা শ্বশুর মৃত নেওয়াজ আলীর পুত্র সোলায়মান মিয়া তাদেরকে ডাকা ডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। দরজা খুলে শরিফুল ও তার স্ত্রী শিউলী ঘর থেকে বের হলে সোলায়মান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। এক পর্যায়ে সোলায়মানের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। সোলায়মান দা’ দিয়ে শিউলীর ঘাড়ে কোপ দিলে শিউলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সোলায়মান দা নিয়ে শরিফুলকে ধাওয়া দিলে শরিফ প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিয়ে প্রণে বাঁচায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
নিহত শিউলী একই উপজেলার মুজাটি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর মেয়ে। গত ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিউলর ৫ মাসের মেয়ে শিশুসহ ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে শিউলীর ৬ বছরের মেয়ে লামিয়া এর সাথে সোলায়মানের পুত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার জেরেই সকালে নিহতের বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে এ খুনের ঘটনা ঘটান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, শনিবার সকালে উপজেলার গোয়ারী উত্তর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুড়ের দায়ের কোপে ৩ সন্তানের জননী খুন।