২০শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৫ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।শনিবার

শ্যামনগরে এক দিনে সাত হাজার দুই শত জনকে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রদান করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

রনজিৎ বর্মন শ্যামনগর(সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি ঃ

 

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় ৭ আগষ্ট ১২ টি ইউনিয়নের ১২টি কেন্দ্রে সাত হাজার দুই শত জনকে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রদান করা হবে।

 

১২ টি ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি কেন্দ্রে ৬ শত জন হিসাবে সব কেন্দ্র মিলিয়ে এক দিনে ৭ হাজার ২ শত জনকে এ ভ্যাকসিন প্রদান করা হবে। সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩ টা পর্যন্ত ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম চলবে। প্রত্যোকটি কেন্দ্রে ৩টি বুথ খোলা হবে। প্রতিটি বুথে ২ জন ভ্যাকসিনেটর ও ৩ জন স্বেচ্ছাসেবক থাকবেন। সে হিসাবে প্রতিটি কেন্দ্রে ৬ জন ভ্যাকসিনেটর ও ৯ জন স্বেচ্ছাসেবক থাকবেন। জানা যায় উপজেলায় ৪ আগষ্ট পর্যন্ত ৩৯,৩২০ জন কোভিড-১৯ টিকা গ্রহণে রেজিঃ করেছেন।

 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ অজয় কুমার সাহা সুত্রে প্রকাশ উপজেলার টিকা প্রদান কেন্দ্র গুলি হল ভূরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ, কাশিমাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ, শ্যামনগর ইউনিয়ন পরিষদ, ঈশ^রীপুর ইউনিয়ন পরিষদ,নুরনগর ইউনিয়ন পরিষদ, কৈখালী ইউনিয়ন পরিষদ,রমজাননগর ইউনিয়ন পরিষদ, মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদ, আটুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ, পদ্মপুকুর ইউনিয়নে কেন্দ্র হল গড়কুমার পুর ৪৭ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গাবুরা ইউনিয়নের কেন্দ্র হল চাঁদনীমুখা মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

 

আগামী ৭ আগষ্ট ভ্যাকসিন কার্যক্রম সুষ্ঠ ও সুন্দরভাবে সফল করতে ইতিমধ্যে ইউপি চেয়ারম্যানবৃন্দ প্রচার প্রচারণা শুরু করেছেন, ইউনিয়ন পরিষদে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রস্তুতি সভা করছেন।

 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আরও বলেন ভ্যাকসিন কার্যক্রমকে সফল করতে প্রতিটিকেন্দ্রে আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীও থাকবেন। এ ছাড়া স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক সুপারভাইজার হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং মেডিকেল অফিসারবৃন্দ সকল কেন্দ্রে মনিটরিং করবেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা গত ৩ আগষ্ট স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে এবং ৪ আগষ্ট উপজেলা প্রশাসন,সকল ইউপি চেয়ারম্যান ,শ্যামনগর থানা পুলিশ সহ অন্যান্যদের সাথে কার্যক্রমকে সফল করতে সভা করেছেন বলে জানান।

 

এ দিকে শ্যামনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সুত্রে জানা যায় , গত ৪ আগষ্ট পর্যন্ত উপজেলায় মোট কোভিড-১৯ পজেটিভ রোগীর সংখ্যা ৫৮৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৩৭০ জন ও মহিলা ২১৬ জন। বর্তমান চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৩৩ জন। মারা গেছেন ২০ জন। মোট সুস্থ হয়েছেন ৪৩৩ জন। এর মধ্যে মহিলা সুস্থ হয়েছেন ১৮০ জন ও পুরুষ সুস্থ হয়েছেন ২৫৩ জন। এ পর্যন্ত করোনা রোগী স্যাম্পল প্রদান করেছেন ২১৪২ জন।

 

জানা যায় শ্যামনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দৈনিক ৪০ থেকে ৫০ জন স্যাম্পল প্রদান করে থাকেন। ৪ আগষ্ট করোনা পজিটিভ হয়েছেন ১৯ জন ।এর মধ্যে পুরুষ ১২ জন ও মহিলা ৭ জন।

 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ অজয় কুমার সাহা কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম সফল করতে সকলের সহযোগিতা চান।

 

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আ.ন.ম আবুজর গিফারী বলেন ইউনিয়ন পর্যায়ে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম সফল করতে ৫ আগষ্ট বিকালে সকল ইউপি চেয়ারম্যান সহ অন্যান্যদের উপস্থিতিতে সভা করা হয়েছে। সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সুষ্ঠ ভাবে ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

 

ছবি- শ্যামনগরে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন কার্যক্রম সফল করতে উপজেলা প্রশাসন ও ইউপি চেয়ারম্যান সহ অন্যান্যদের সাথে সভা।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অরবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনাঃ

খুলনার কয়রায় জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৬ জুলাই মঙ্গলবার দুপুর ১২ টায় উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ খুলনা জেলার আয়োজনে ও কয়রা উপজেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় এ সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুলী বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সচেতনতামূলক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান জি এম মোহসিন রেজা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসিমা আলম।
এসময় আরও উপস্হিত ছিলেন, কয়রা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম বাহারুল ইসলাম, উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সরদার নুরুল ইসলাম কোম্পানি, দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আছের আলী মোড়ল, মহারাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ শিকারী, বাঙ্গালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ গাজী, আমাদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জুয়েল সহ সাতটি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ।

নিরাপদ খাদ্যের মূল প্রবন্ধ উপস্হাপন করেন খুলনা জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার মোঃ মোকলেছুর রহমান।

কয়রায় নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত।

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি:

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুরের দায়ের কোপে ভাতিজা বউ শিউলী আক্তার খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০) স্বপরিবারে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় তার চাচা শ্বশুর মৃত নেওয়াজ আলীর পুত্র সোলায়মান মিয়া তাদেরকে ডাকা ডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। দরজা খুলে শরিফুল ও তার স্ত্রী শিউলী ঘর থেকে বের হলে সোলায়মান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। এক পর্যায়ে সোলায়মানের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। সোলায়মান দা’ দিয়ে শিউলীর ঘাড়ে কোপ দিলে শিউলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সোলায়মান দা নিয়ে শরিফুলকে ধাওয়া দিলে শরিফ প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিয়ে প্রণে বাঁচায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
নিহত শিউলী একই উপজেলার মুজাটি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর মেয়ে। গত ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিউলর ৫ মাসের মেয়ে শিশুসহ ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে শিউলীর ৬ বছরের মেয়ে লামিয়া এর সাথে সোলায়মানের পুত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার জেরেই সকালে নিহতের বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে এ খুনের ঘটনা ঘটান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, শনিবার সকালে উপজেলার গোয়ারী উত্তর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুড়ের দায়ের কোপে ৩ সন্তানের জননী খুন।