২১শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৬ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।রবিবার

বিধিনিষেধ ধাপে ধাপে শিথিল হবে বুধবার থেকে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে শাটডাউন হিসেবে পরিচিতি পাওয়া চলমান কঠোর বিধিনিষেধ বুধবার থেকে ধাপে ধাপে শিথিল করা হবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ে রোববার দুপুরে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘গত দিন সভায় যেটি আলোচনা হয়েছে, সেখানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী সভাপতিত্ব করেছেন। সেখানে সিদ্ধান্ত ছিল ১০ তারিখ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা। ১১ তারিখ থেকে ধাপে ধাপে শিথিল করার সিদ্ধান্ত। যদিও শনাক্তের হার কমছে, কিন্তু মৃত্যুর হার দুই শর ওপরে আছে।

‘সে বিষয় অবশ্যই আমাদের নজর রাখতে হচ্ছে। আগামীতে কী পর্যায়ে শিথিল করব, সেটি নিয়ে আজকে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত পাব। সেটি আজ বা কাল জানাতে পারব।’

বিধিনিষেধ শিথিল করা হলে দীর্ঘদিন পর ঘুরবে গাড়ির চাকা, খুলবে দোকানপাট, অফিস-আদালত।

ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘আজকে (রোববার) প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর আজ বা কাল সকালে হয়তো প্রজ্ঞাপন দিতে পারব। কতটুকু শিথিল তা প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের পর জানতে পারব।

‘আমাদের পরামর্শ ধাপে ধাপে। কোনটি কখন খোলা হবে কতটুকু পরিসরে খোলা হবে, সেটি দেখতে হবে, তবে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি যাতে প্রতিপালন হয়, সেদিকে কঠোর ব্যবস্থা থাকবে।’

স্বাস্থ্যবিধি মানার ওপর জোর দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু দোকানপাট খুলতে হবে, সবাই যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে সেদিকে আমাদের জোর থাকবে। গতকাল থেকে গণটিকা চালু করেছি। এটি ১২ তারিখ পর্যন্ত চলমান থাকবে। আমরা চাইব সবাই যেন মাস্ক পরে।

‘আমরা টিকা কার্যক্রমের মধ্যে যারা দোকানদার, যাদের বাইরে যেতে হয়, ইমাম, মুয়াজ্জিন, ড্রাইভার, হেলপারদের প্রায়োরিটি দিয়েছি। যাদের বাইরে আসতে হয়, মানুষের সাথে মিশতে হয়, তাদের প্রায়োরিটি দিচ্ছি। ধাপে ধাপে আস্তে আস্তে সীমিত পরিসরে শিথিল করার চিন্তা আছে।’

তিনি বলেন, ‘গণটিকা কার্যক্রমে প্রতি ইউনিয়নে ৬০০ জনকে টিকা দিয়েছি। যারা সবজি ব্যবসায়ী, রিকশাচালকসহ যাদের বাইরে আসতে হয়, বিভিন্ন কারণে যেসব মানুষের সংস্পর্শে আসতে হয়, তাদের বেছে নিয়েছি।

‘সেখানে বয়স্ক ও মুক্তিযোদ্ধা আছে। আমাদের যেহেতু জীবিকাও নিশ্চিত করতে হবে, তাই আমরা বলেছি তারা যাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা নিতে পারেন।’

মাস্ক না পরাকে শাস্তির আওতায় আনতে অধ্যাদেশ জারির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গত সভায় এটি আলোচনা হয়েছে। আমরা নিশ্চয়ই এ বিষয়ে আগামীতে কোনো নির্দেশনা পাব। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

জনসচেতনতার ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘মানুষকে সচেতন করে পাড়ামহল্লার করোনা প্রতিরোধ কমিটিগুলোকে আরও কার্যকর করে মানুষ যেন মাস্ক পরে, জনসমাগম এড়িয়ে যায়, সেটি দেখতে বলা হয়েছে। বিভিন্ন কমিটি এটি নিয়ে কাজ করছে। আগামীতে মাস্ক পরা নিশ্চিতে তারা কাজ করবেন।’

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘদিন ধরে চলা কঠোর বিধিনিষেধ শেষ হবে ১০ আগস্ট, মঙ্গলবার।

ঈদের আগে থেকেই চলছে এ বিধিনিষেধ। মাঝে ঈদের জন্য ৮ দিন শিথিল করে বিধিনিষেধ শুরু হয় ২৩ জুলাই থেকে। এটি চলার কথা ছিল ৫ আগস্ট পর্যন্ত। তবে সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনায় তা আরও ৫ দিন বাড়ানো হয়।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অরবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনাঃ

খুলনার কয়রায় জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৬ জুলাই মঙ্গলবার দুপুর ১২ টায় উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ খুলনা জেলার আয়োজনে ও কয়রা উপজেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় এ সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুলী বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সচেতনতামূলক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান জি এম মোহসিন রেজা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসিমা আলম।
এসময় আরও উপস্হিত ছিলেন, কয়রা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম বাহারুল ইসলাম, উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সরদার নুরুল ইসলাম কোম্পানি, দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আছের আলী মোড়ল, মহারাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ শিকারী, বাঙ্গালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ গাজী, আমাদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জুয়েল সহ সাতটি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ।

নিরাপদ খাদ্যের মূল প্রবন্ধ উপস্হাপন করেন খুলনা জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার মোঃ মোকলেছুর রহমান।

কয়রায় নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত।

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি:

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুরের দায়ের কোপে ভাতিজা বউ শিউলী আক্তার খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০) স্বপরিবারে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় তার চাচা শ্বশুর মৃত নেওয়াজ আলীর পুত্র সোলায়মান মিয়া তাদেরকে ডাকা ডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। দরজা খুলে শরিফুল ও তার স্ত্রী শিউলী ঘর থেকে বের হলে সোলায়মান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। এক পর্যায়ে সোলায়মানের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। সোলায়মান দা’ দিয়ে শিউলীর ঘাড়ে কোপ দিলে শিউলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সোলায়মান দা নিয়ে শরিফুলকে ধাওয়া দিলে শরিফ প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিয়ে প্রণে বাঁচায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
নিহত শিউলী একই উপজেলার মুজাটি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর মেয়ে। গত ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিউলর ৫ মাসের মেয়ে শিশুসহ ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে শিউলীর ৬ বছরের মেয়ে লামিয়া এর সাথে সোলায়মানের পুত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার জেরেই সকালে নিহতের বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে এ খুনের ঘটনা ঘটান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, শনিবার সকালে উপজেলার গোয়ারী উত্তর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুড়ের দায়ের কোপে ৩ সন্তানের জননী খুন।