২২শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৭ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।সোমবার

করোনার মধ্যে ডেঙ্গুর হানা , আতঙ্কে খুলনাবাসী।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

খুলনা প্রতিনিধি।

খুলনা অঞ্চলে করোনার মধ্যে ডেঙ্গু হানা দিয়েছে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনজন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। এদিকে ডেঙ্গুর প্রকপ প্রতিরোধে খুলনা মেডিকেলে চলছে ডেঙ্গু ওয়ার্ড তৈরির প্রস্তুতি।

খুমেক হাসপাতাল সূত্রে প্রকাশ, সোমবার ভোর রাত পৌনে চারটার দিকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সজীব (৩২) নামে এক রোগি ভর্তি হয়েছেন। তিনি বাগেরহাট মোড়লগন্জের কচুবুনিয়ার দেলোয়ারের ছেলে। এদিন বিকাল ৬ টার দিকে একই জেলার রামপাল উপজেলার বাশতলি এলাকার অপুর ছেলে অতিস (৪) এক শিশু ভর্তি হয়েছেন।

এছাড়া রাত ৯ টার দিকে নড়াইল লোগাগড়ার লুটিয়া এলাকার কানু ঘোষের ছেলে লিংকন ঘোষ(১০) ভর্তি হয়েছেন।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. রবিউল ইসলাম বলেন, খুলনায় এখনও ডেঙ্গুর প্রভাব বিস্তার করেনি। তবুও আমাদের সকল প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। গত বছর ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় বর্তমান ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতালে ব্যবহার করা হয়েছিল। কিন্তু এ বছর সেখানে করোনা আক্রান্ত রোগীদের ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ফলে ওই ওয়ার্ড ডেঙ্গু রোগীর জন্য আর ব্যবহার করা যাচ্ছে না। তবে হাসপাতালের ২টি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১০ শয্যার একটি ওয়ার্ড প্রস্তুত করা হবে। আগামী বৃহস্পতিবার (০৫ আগস্ট) চিকিৎসকদের সাথে বৈঠক করে ডেঙ্গু ওয়ার্ডের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু সংক্রমণ মশার মাধ্যমে ছড়ায়। ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে মশা কামড় দিয়ে অন্যব্যক্তিকে কামড়ালে ডেঙ্গু ছড়ায়। এ জন্য মানুষকে সচেতন হতে হবে। মশার লার্ভা ধ্বংস করতে হবে। জমে থাকা বৃষ্টির পানি, বাসাবাড়ির ছাদে ফুলের টবে, বিভিন্ন স্থানে ডাবের খোলা, প্লাস্টিক, ফ্রিজের নিচে জমে থাকা পানি ও মাটির পাত্রে জমে থাকা পানি এবং বাড়ির আঙিনা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

এদিকে নগরীতে মশার উপদ্রব বেড়েছে। সন্ধ্যার পর মশার যন্ত্রণায় টেকা দায় হয়ে পড়েছে। এমনকি দিনের বেলায়ও মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠতে হচ্ছে। এমনটা অভিযোগ নগরবাসীর। তবে মশার উপদ্রব ঠেকাতে নগরীতে ব্যাপক কার্যক্রম চলামান রয়েছে বলে জানিয়েছেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আব্দুল আজিজ।

তিনি বলেন, মশার উপদ্রবরোধে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের কাজ চলমান রয়েছে। কেসিসির ৪৬টি ফগার মেশিন রয়েছে। আরও ২০টি ফগার মেশিনের ওয়ার্ক অর্ডার হয়েছে। প্রতিদিনই ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশক নিধন অভিযান চলমান আছে। এছাড়া মশা নিধনে আমাদের ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চলছে। বৃষ্টি হলে কালো তেল স্প্রে করা হচ্ছে। আর সব নালায় লার্ভাসাইট স্প্রে করা হয়েছে। এতে মশার উপদ্রব কমে যাবে।

এদিকে জেলা করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সভায় খুলনা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডাঃ মেহেদী নেওয়াজ বলেছেন, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৃথক ওয়ার্ড প্রস্তুত করা হচ্ছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় প্লেটেলেট প্রদান কার্যক্রম নিশ্চিতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সেল্ফ সেপারেটর মেশিন প্রয়োজন। যার মাধ্যমে সুস্থ মানুষের রক্ত হতে প্লেটেলেট আলাদা করে প্রয়োজনে ডেঙ্গু আক্রান্তদের শরীরে দেওয়া যাবে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অরবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনাঃ

খুলনার কয়রায় জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৬ জুলাই মঙ্গলবার দুপুর ১২ টায় উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ খুলনা জেলার আয়োজনে ও কয়রা উপজেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় এ সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুলী বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সচেতনতামূলক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান জি এম মোহসিন রেজা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসিমা আলম।
এসময় আরও উপস্হিত ছিলেন, কয়রা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম বাহারুল ইসলাম, উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সরদার নুরুল ইসলাম কোম্পানি, দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আছের আলী মোড়ল, মহারাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ শিকারী, বাঙ্গালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ গাজী, আমাদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জুয়েল সহ সাতটি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ।

নিরাপদ খাদ্যের মূল প্রবন্ধ উপস্হাপন করেন খুলনা জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার মোঃ মোকলেছুর রহমান।

কয়রায় নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত।

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি:

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুরের দায়ের কোপে ভাতিজা বউ শিউলী আক্তার খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০) স্বপরিবারে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় তার চাচা শ্বশুর মৃত নেওয়াজ আলীর পুত্র সোলায়মান মিয়া তাদেরকে ডাকা ডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। দরজা খুলে শরিফুল ও তার স্ত্রী শিউলী ঘর থেকে বের হলে সোলায়মান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। এক পর্যায়ে সোলায়মানের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। সোলায়মান দা’ দিয়ে শিউলীর ঘাড়ে কোপ দিলে শিউলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সোলায়মান দা নিয়ে শরিফুলকে ধাওয়া দিলে শরিফ প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিয়ে প্রণে বাঁচায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
নিহত শিউলী একই উপজেলার মুজাটি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর মেয়ে। গত ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিউলর ৫ মাসের মেয়ে শিশুসহ ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে শিউলীর ৬ বছরের মেয়ে লামিয়া এর সাথে সোলায়মানের পুত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার জেরেই সকালে নিহতের বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে এ খুনের ঘটনা ঘটান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, শনিবার সকালে উপজেলার গোয়ারী উত্তর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুড়ের দায়ের কোপে ৩ সন্তানের জননী খুন।