1. ashiskumarsaha90@gmail.com : Ashish Saha : Ashish Saha
  2. dainikbanglerprottoy@gmail.com : banglar : Nibas Dhali
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ০৬:২১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
শ্যামনগরে সততা চর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন। ফুলতলায় চাঞ্চল্যকর সাব্বির হ’ত্যা: দীর্ঘ ৪ মাস পর ১ ও ৩ নম্বর আসামি গ্রেপ্তার। গাজীপুর পুবাইলে বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়া সড়কে বাঁশের সাঁকো: দুর্ভোগ কমাতে বিএনপি নেতা জাকির সরকারের উদ্যোগ। কয়রায় সুশীলনের প্রকল্প অবহিতকরতণ সভা । কয়রায় ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক সেবা মাস উপলক্ষে মত বিনিময় সভা । কেশবপুরে জামায়াতের উদ্যোগে বুড়িহাটী যুবকদের মাঝে ফুটবল বিতরণ। সাতক্ষীরায় দুর্নীতি প্রতিরোধে শ্যামনগরে বিতর্ক ও রচনা। তালায় পূবালী ব্যাংকের ক্যাশলেস সেবা উদ্বোধন। কেশবপুরে দুই দিনব্যাপী মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত। কেশবপুর বিএনপি’র উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত।

কয়রায় কলেজ ভবনের ছাঁদ ধ্বসে পড়ায় আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী।

রিপোর্টার নাম
  • প্রকাশিত তারিখ : শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬
  • ১২ বার পঠিত

অরবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনাঃ 
খুলনার কয়রায় কলেজ ভবনের ছাঁদ ধ্বসে পড়ায় অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে।

 গতকাল ১৭ জুলাই শুক্রবার উপকূলীয় উপজেলা কয়রার মহারাজপুর ইউনিয়নের কপোতাক্ষ নদের তীরে অবস্থিত গাজী আব্দুল জব্বার স্কুল অ্যান্ড কলেজের মূল ভবনের ছাঁদ ধ্বসে পড়ে। ছাঁদটি ধ্বসে পড়ায় ও সাপ্তাহিক ছুটির দিন থাকায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি । দীর্ঘ ৮ বছর ধরে পরিত্যক্ত ও জরাজীর্ণ এই ভবনেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছিল নবম, দশম ও একাদশ শ্রেণীর পাঠদান। টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ছাঁদ ধ্বসে পড়ার পর থেকে এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের দূর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির মূল দোতলা ভবনটির অবস্থা অত্যন্ত কঙ্কালসার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ফ্যাসিলিটিজ ডিপার্টমেন্টের অধীনে ১৯৯৫ সালে প্রথম তলা এবং ২০০১ সালে দ্বিতীয় তলার ভবন নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। কিন্তু আইলা, ইয়াস ও রিমালের মতো একের পর এক প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড়ে বাঁধ ভেঙে বারবার নোনা পানিতে দীর্ঘ সময় ডুবে থাকার কারণে ভবনটি দ্রুত কার্যক্ষমতা হারায়। বর্তমানে ভবনটির দরজা, জানালা ও দেয়ালের অস্তিত্ব বলতে প্রায় কিছুই নেই। চারদিকের পিলার ও ছাঁদ ফেটে রড বেরিয়ে এসেছে। এর আগেও ছাঁদের পলেস্তারা ও চাঙড় খসে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় একটি ছোট টিনশেড ঘরে গাদাগাদি করে ক্লাস নিতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষকরা। বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ রবিউল ইসলাম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের মধ্যে আমাদের বা শিক্ষার্থীদের কারোরই পাঠদানে মন বসে না। টিনশেডের অল্প জায়গায় এত শিক্ষার্থী নিয়ে আমরা ক্লাস করাতে চরম হিমশিম খাচ্ছি।

স্থানীয় বাসিন্দা আলহাজ্ব দ্বীন মোহাম্মদ জানান, এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান একসময় অত্যন্ত ভালো ছিল। কিন্তু ভবনের এই বেহাল দশার কারণে অভিভাবকরা আতঙ্কে সন্তানদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে বিদ্যালয়টি এখন ছাত্রশূন্য হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ঝুঁকি এড়াতে ও নতুন ভবনের দাবীতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার আবেদন করেও কোনো প্রতিকার মেলেনি বলে জানান শিক্ষকরা।

 প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাইফুল হায়দার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষার উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করতে এই ভবন দ্রুত সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণ করা জরুরী। আমরা সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হলেও এখনো কোনো সুফল মেলেনি।

কয়রা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আবুল কালাম আজাদ ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থার কথা স্বীকার করে বলেন,এখানে নতুন ভবনের আশু প্রয়োজন। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে নতুন একটি ভবন বরাদ্দের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

 স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এ বিষয়ে আশার বাণী শুনিয়ে বলেন, গাজী আব্দুল জব্বার স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা আমাদের অগ্রাধিকার। আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে কথা বলেছি। আশা করছি খুব দ্রুতই এখানে নতুন ভবন ও সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

তবে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবী, আর কোনো আশ্বাস বা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নয়, অতি অল্প সময়ে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীর শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে নির্বিঘ্নে পাঠদান ও তাদের জীবন সুরক্ষায় জরুরী ভিত্তিতে নতুন বহুতল ভবন নির্মাণ করা হোক।

কয়রা, খুলনা প্রতিনিধি 
তারিখঃ ১৮/০৭/২৬ ইং।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2021-2022
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: BDiT