1. ashiskumarsaha90@gmail.com : Ashish Saha : Ashish Saha
  2. dainikbanglerprottoy@gmail.com : banglar : Nibas Dhali
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
বিলাইছড়িতে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত । কেশবপুরে যাচাই-বাছাই শেষে প্যারামেডিকেল এ্যান্ড টেকনোলজি ফাউন্ডেশন পুনরায় চালু। বিলাইছড়িতে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল  । সরিষাবাড়ীতে আ.লীগের অপতৎপরতা ঠেকাতে ছাত্রদলের প্রতিবাদ মিছিল। কালীগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছেলের পরীক্ষায় নাম্বার কম দেওয়ায় শিক্ষিকাকে নির্যাতন। মণিরামপুরে শিক্ষককের ১৫ দিনব্যাপী আইসিটি প্রশিক্ষণ সমাপ্ত। মণিরামপুরে কপোতাক্ষ নদ থেকে অবৈধ দুয়ারি জাল জব্দের পর অগ্নিসংযোগ। শ্যামনগরে প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণ প্রতিরোধে অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা। কেশবপুরে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের আরও একজন গ্রেফতার। পাটকেলঘাটায় ৪ বোতল কোরেক্স নামক মাদক সহ ২ জন গ্রেফতার।

কেশবপুরে যাচাই-বাছাই শেষে প্যারামেডিকেল এ্যান্ড টেকনোলজি ফাউন্ডেশন পুনরায় চালু।

রিপোর্টার নাম
  • প্রকাশিত তারিখ : মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬
  • ৫ বার পঠিত

পরেশ দেবনাথ, কেশবপুর, যশোর।

কেশবপুরের প্যারামেডিকেল এ্যান্ড টেকনোলজি ফাউন্ডেশন তদন্ত শেষে পুনরায় চালু হয়েছে। যশোরের কেশবপুরে দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যসেবা, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরশীলমূলক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনাকারী কেশবপুর প্যারামেডিকেল এ্যান্ড টেকনোলজি ফাউন্ডেশন (পিটিএফ) প্রশাসনিক তদন্ত, কাগজপত্র যাচাই-বাছাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পর্যালোচনা শেষে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এ. কে. আজাদ (ইকতিয়ার জানান, প্যারামেডিকেল এ্যান্ড টেকনোলজি ফাউন্ডেশন (পিটিএফ) ১৮৬০ সালের সোসাইটি রেজিস্ট্রেশন এ্যাক্টের ২১ নম্বর নিবন্ধন আইন অনুযায়ী নিবন্ধিত KHS-443/2016 এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এন.এস.ডি.এ) কর্তৃক অনুমোদিত Reg.No. STP-JAS-002777 একটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক প্রশিক্ষণ, দক্ষ জনবল তৈরি, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে।
তিনি দাবি করেন, কিছু ব্যক্তি ও স্বার্থান্বেষী মহল প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ও তথ্য প্রচার করলে প্রশাসন তদন্তের স্বার্থে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখে। তবে এক মাসের ও বেশি সময় শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বন্ধ থাকায় প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক ও সুনামগত ক্ষতির স্বীকার হয়েছে।
এ বিষয়ে কেশবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী মেশকাতুল ইসলাম মহোদয়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয় পর্যালোচনার জন্য সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিল, পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করে প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে।
প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, এখানে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন আত্মনির্ভরশীল মুলক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। প্রতি সপ্তাহে অভিজ্ঞ এমবিবিএস চিকিৎসক ও অন্যান্য প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামের জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক দ্বারা প্রশিক্ষণার্থীদের ক্লাস গ্রহণ করেন। তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক শিক্ষার সমন্বয়ে পরিচালিত প্রশিক্ষণ শেষে পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রত্যয়নপত্র প্রদান করা হয়।
প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান এ. কে. আজাদ (ইকতিয়ার) আরও বলেন, “আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে বহু তরুণ-তরুণী স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। অনেকে বিভিন্ন বে-সরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করছেন। এই প্রতিষ্ঠান শুধু প্রশিক্ষণই দেয় না, বরং মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আত্মনির্ভরশীলতা গড়ে তুলতেও ভূমিকা রাখছে।”
তিনি আরও বলেন, “করোনা মহামারির সময় আমাদের এখান থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা ও স্বেচ্ছাসেবীরা সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। বিভিন্ন এলাকায় স্বাস্থ্যসচেতনতা কার্যক্রম, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, ওষুধ সহায়তা, মানবিক সহযোগিতা এবং জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হয়েছে। অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।”
প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, কিছু ব্যক্তি ও কিছু গণমাধ্যম যথাযথ তথ্য যাচাই না করেই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করেছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদেরকে ভবিষ্যতে তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান।
এদিকে, প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ার খবরে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে সন্তোষ ও স্বস্তি ফিরে এসেছে। কেশবপুরের সচেতন নাগরিকরা জানান, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের আস্থা অর্জন করে সুনামের সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
স্থানীয় ভ্যানচালক, রিকশাচালক, অটোরিকশা চালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রতিষ্ঠানটির সাময়িক বন্ধে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তাদের মতে, প্রতিষ্ঠানটি এলাকার বহু শিক্ষার্থী ও বেকার তরুণ-তরুণীর জন্য দক্ষতা অর্জন ও কর্মসংস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
সচেতন মহলের দাবি, কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে অবশ্যই নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। তবে যাচাই-বাছাইয়ের আগে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করলে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে কেশবপুর প্যারামেডিকেল এ্যান্ড টেকনোলজি ফাউন্ডেশন (পিটিএফ) আরও বিস্তৃত পরিসরে স্বাস্থ্যসেবা ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
চেয়ারম্যান এ. কে. আজাদ ইকতিয়ার প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “সত্য তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় আমার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই। আমরা আইন মেনে বৈধভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছি। ভবিষ্যতেও শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও মানবকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে আমরা চাই, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য প্রণোদিত অভিযোগের কারণে যেন কোনো সেবামূলক প্রতিষ্ঠান অযথা হয়রানির শিকার না হয়।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, কেশবপুর প্যারামেডিকেল এ্যান্ড টেকনোলজি ফাউন্ডেশন (পিটিএফ) আগামীতেও দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী তৈরি, জনসেবা এবং মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।
ছবিঃ
২৩/০৬/২৬

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2021-2022
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: BDiT