
অরবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনাঃ
খুলনার কয়রায় সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরণ শেষে নৌকায় ঘুমন্ত অবস্থায় দুই জেলেকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। পরে তাদের সুন্দরবনের হেতালবুনিয়া খাল এলাকা থেকে উদ্ধার করে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছে। তবে হামলায় কারা জড়িত, তা তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
১৪ সেপ্টেম্বর সোমবার রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে সুন্দরবনের কোবাদক ফরেস্ট স্টেশনের আওতাধীন বাটলুয়া নদীসংলগ্ন হেতালবুনিয়া খাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত দুই জেলেরা হলেন—কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের গোলখালী গ্রামের ওসমান সরদারের ছেলে তরিকুল ইসলাম (৩২) এবং তাহের সরদারের ছেলে শরিফুল ইসলাম (৩০)। তারা কোবাদক ফরেস্ট স্টেশন থেকে বৈধ পাশ নিয়ে সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরণ করতে গিয়েছিলেন।
আহত জেলেদের চাচা আব্দুল গনি সরদার বলেন, সকালে হঠাৎ সাইদ নামের এক জেলের মোবাইল নম্বর থেকে তার কাছে ফোন আসে। সাইদ তাকে দ্রুত ট্রলার নিয়ে সুন্দরবনে আসতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, হেতালবুনিয়া খালের চরে তার দুই ভাতিজাকে কুপিয়ে ফেলে রাখা হয়েছে। পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত সুন্দরবনে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানেই তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রেজাউল ইসলাম বলেন, আমার ওয়ার্ডের দুই জেলেকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে জখম অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার রাতে কাঁকড়া আহরণ শেষে তারা নৌকায় ঘুমিয়ে ছিলেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তবে কারা এ হামলা চালিয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় স্থানীয় জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
কয়রা থানার ওসি মোঃ রাশেদুল আলম
বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। তবে ভূক্তভোগী জেলেদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্খা গ্রহণ করা হবে।