
পরেশ দেবনাথ, বিশেষ প্রতিনিধি ।
কেশবপুরে বিরল প্রজাতির এক কালোমুখ হনুমান শহরের বুকে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় ছোটাছুটি করছিলো। সংবাদকর্মী আব্দুর রহমান হনুমানের কাছে এগিয়ে গেলেই কাঁধে উঠে বসে। তিনি দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকার কেশবপুর প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্বরত আছেন। তার আকুতি দেখে স্থানীয় মেডিক্যালে নিয়ে যান তিনি। প্রাথমিক চিকিৎসার পর হনুমানটি নিজেই ফিরে যায়। সোমবার (০৩ আগস্ট-২৬) দুপুরে যশোরের কেশবপুর ত্রিমোহিনী মোড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুকে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় হনুমানটি শহরের ত্রিমোহিনী মোড়ে এসে মানুষের সহযোগিতা পাওয়ার জন্য ছোটাছুটি করছিল। এ সময় স্থানীয় সংবাদকর্মী আব্দুর রহমান হনুমানটির কাছে এগিয়ে গেলেই তার কাঁধে উঠে বসে। তখন ওই মানবিক সংবাদ কর্মী হনুমানটিকে কাঁধে করে পায়ে হেঁটে পাশের আলফা মেডিক্যাল ফার্মেসিতে নিয়ে যান। হনুমানটির আকুতি দেখে দ্রুত ফার্মেসির কর্মচারীরা চিকিৎসা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেন।
মানবিক সংবাদকর্মী আব্দুর রহমান বলেন, পারলাম না, পড়ে গেলাম তার মায়ায় যশোরের কেশবপুর কালো মুখো হনুমান আমার কাছে এসে বারবার তার ক্ষতস্থানের দিকে ইঙ্গিত করছিল, পরে দেখলাম তার বুকে একটা বড় ধরনের ক্ষত সাথে সাথে আমার ঘাড়ে চেপে বসলো হনুমানটি।
তার এমন আকুতিতে বিলম্ব না করে দ্রুত আলফা মেডিক্যাল ফার্মেসিতে নিয়ে যাই। সেখানে কাঁধ থেকে নেমে হনুমানটি টেবিলের উপরে বসে যায়। তখন ফার্মেসির মালিক আনোয়ার হোসেনসহ কর্মচারীরা হনুমানটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া শুরু করেন।
তিনি আরো জানান, জীবনে এমন একটি মুহূর্ত আসবে তা জানা ছিল না। কাঁধে করে হনুমানটিকে চিকিৎসা করাতে পেরে মনটা খুবই ভালো হয়ে গেল। পরে সে চলে গেল। দিয়ে গেল বুক ভরা ভালোবাসা।
এ ব্যাপারে আলফা মেডিক্যাল ফার্মেসির ডাক্তার আনোয়ার হোসেন বলেন, হনুমানটির ক্ষত স্থানে ভায়োডিন ও লেবালন পাউডার লাগানোর পর স্বস্তিবোধ করতে থাকে। পরে সুস্থ বোধ করায় হনুমানটি তাদের দলে ফিরে যায়। তবে হনুমানটি কিভাবে আহত হয় তা কেউ বলতে পারেননি।
হনুমান জাতি কথা বলতে পারে না তবে, কোথায় গেলে চিকিৎসা ও বিচার পাওয়া যাবে সেটুকু বোধ তাদের আছে। স্থানীয়রা এই দৃশ্য দেখে সকলে হতবাক হয়েছেন। সাহায্যদাতা মানবিক সাংবাদিক ও আলফা মেডিক্যাল ফার্মেসিতে কর্মরত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
ছবিঃ
০৪/০৮/২৬