1. ashiskumarsaha90@gmail.com : Ashish Saha : Ashish Saha
  2. dainikbanglerprottoy@gmail.com : banglar : Nibas Dhali
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১১:১৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
অপসাংবাদিকতার শিকার এক নারীর জুতাপেটা খেলেন মণিরামপুরের এক সাংবাদিক। বিষচক্রের কবলে সুন্দরবন, নজরদারীতে ১৩৫ জন। কেশবপুরে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২ এর শুভউদ্বোধন করা হয়েছে। বিলাইছড়ি উপজেলা কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহারে কঠিন চীবর দান সম্পন্ন। কেশবপুরের মঙ্গলকোট বাজার রংধনু একাডেমিতে ফলদ গাছের চারা বিতরণ। কেশবপুর বসুন্ধরা শুভসংঘের আয়োজনে ধীরাজ ভট্টাচার্যের জন্মবার্ষিকী উদযাপন। শ্যামনগরে সাইবার ক্রাইম বিষয়ে সচেতনতামূলক সভা ও কুইজ। দুর্গম রাইমংছড়ায় সরকারি সহযোগিতা ছাড়াই চলছে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পুরোনো বইয়ে পাঠদান। সুন্দরবনে দস্যুতা বন্ধের দাবীতে কয়রায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত । কেশবপুরের মজিদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির পলাশ-এর পিতার দাফন সম্পন্ন।

কেশবপুর বসুন্ধরা শুভসংঘের আয়োজনে ধীরাজ ভট্টাচার্যের জন্মবার্ষিকী উদযাপন।

রিপোর্টার নাম
  • প্রকাশিত তারিখ : শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬
  • ৭ বার পঠিত

পরেশ দেবনাথ, বিশেষ প্রতিনিধি

উপমহাদেশের প্রখ্যাত চলচ্চিত্র অভিনেতা সাহিত্যিক, পুলিশ-কেশবপুরের কৃতী সন্তান ধীরাজ ভট্টাচার্যের ১২১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে যশোরের কেশবপুরে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ধীরাজ ভট্টাচার্যের জীবন, কর্ম, অভিনয়জীবন এবং টেকনাফের মাথিনের সঙ্গে আলোচিত প্রেমকাহিনি নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর-২৬) কেশবপুরের ঐতিহ্যবাহী পাঁজিয়া গ্রামে অবস্থিত যশোরের প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পাঁজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বসুন্ধরা শুভসংঘ কেশবপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বসুন্ধরা শুভসংঘ কেশবপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ অসীম কুমার ঘোষ। সঞ্চালনা করেন, পাঁজিয়া সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংসদের সহ-সম্পাদক মানব মণ্ডল। প্রধান আলোচক ছিলেন ধীরাজ ভট্টাচার্যের জীবনীগ্রন্থের লেখক সহকারী অধ্যাপক তাপস মজুমদার।

ধীরাজ ভট্টাচার্যের জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা করেন, পাঁজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উজ্জ্বল ব্যানার্জী, পাঁজিয়া সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংসদের সভাপতি নজরুল ইসলাম খান, বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক সুব্রত চক্রবর্তী এবং অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী বিদিশা ব্যানার্জী বিন্দু।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বসুন্ধরা শুভসংঘ কেশবপুর উপজেলা শাখার নির্বাহী কমিটির সদস্য নুরুল ইসলাম খান, বসুন্ধরা শুভসংঘ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য স্বস্তিকা ঘোষ, সাংবাদিক রায়হান রনিসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

বক্তারা বলেন, ধীরাজ ভট্টাচার্য ১৯০৫ সালের ৫ নভেম্বর কেশবপুরের পাঁজিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। এই পাঁজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়েই তাঁর শিক্ষাজীবনের সূচনা।
দেশভাগের আগে তিনি পরিবারের সঙ্গে কলকাতায় চলে যান। কর্মজীবনের শুরুতে পুলিশ বিভাগে যোগ দেন। পরবর্তী সময়ে চলচ্চিত্রে অভিনয় এবং সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে পরিচিতি লাভ করেন। অভিনয়ে নায়ক ও খলনায়ক—দুই চরিত্রেই তিনি দর্শকের প্রশংসা অর্জন করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘যখন পুলিশ ছিলাম’ ও ‘যখন নায়ক ছিলাম’।
বক্তারা ধীরাজ ভট্টাচার্য ও টেকনাফের মাথিনের প্রেমকাহিনির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। পুলিশে চাকরিরত অবস্থায় বদলি হয়ে তিনি চট্টগ্রামে যান। পরে দায়িত্ব পান টেকনাফে। সেখানে মগ রাজার কন্যা মাথিনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাথিনকে বিয়ে না করে তিনি কলকাতায় ফিরে যান। কথিত আছে, প্রিয় মানুষকে হারিয়ে মাথিন টেকনাফ থানার একটি কূপের পাশে অনশন শুরু করেন এবং একপর্যায়ে মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তী সময়ে কূপটি ‘মাথিনের কূপ’ নামে পরিচিতি লাভ করে। এই প্রেমকাহিনি বাংলা সাহিত্যের লাইলী-মজনু ও শিরি-ফরহাদের প্রেমকাহিনির সঙ্গে তুলনা করা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, ধীরাজ ভট্টাচার্য শুধু একজন চলচ্চিত্র অভিনেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন সাহিত্যিক ও বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী মানুষ। পাঁজিয়ার মতো একটি গ্রাম থেকে উঠে এসে উপমহাদেশের চলচ্চিত্রজগতে নিজের অবস্থান তৈরি করেছিলেন তিনি। তাঁর জন্মভূমিতে এমন আয়োজন নতুন প্রজন্মের কাছে এই গুণী ব্যক্তিত্বের জীবন ও অবদান তুলে ধরতে সহায়ক হবে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজেদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এই কৃতী প্রাক্তন শিক্ষার্থীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠান উপভোগ করে। আলোচনা সভা শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ছবিঃ
০৫/১১/২৬

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2021-2022
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: BDiT