1. ashiskumarsaha90@gmail.com : Ashish Saha : Ashish Saha
  2. dainikbanglerprottoy@gmail.com : banglar : Nibas Dhali
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
পাঁজিয়া পূরবী খেলাঘর আসরের উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভা। শ্যামনগরে গ্রাম পুলিশ ও বাজার ব্যাবস্থাপনা সদস্যদের বর্জ্য ও স্যানিটেশন সক্ষমতা বৃদ্ধি বিষয়ক প্রশিক্ষণ। কেশবপুর এস এস,সি-৮৬ বন্ধু কল্যাণ ফোরামের আয়োজনে বৃক্ষরোপণ। বিলাইছড়িতে ডাউন পাড়া সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির  প্রাক নিবন্ধন সভা  অনুষ্ঠিত। সুন্দরবন অভ্যন্তর থেকে ৪৫০ কেজি কাঁকড়া ও ১৫০ কেজি মাছ সহ ২ জেলে আটক। কেশবপুরে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে র‍্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভেড়ামারায় শ্রী শ্রী রঘুনাথ জিউর মন্দিরে উৎসবমুখর পরিবেশে শুভ রথযাত্রা অনুষ্ঠিত। কেশবপুরে ভুয়া ইনকাম ট্যাক্স কর্মকর্ত আটক। কেশবপুরে জুলাই শহিদ দিবস পালিত। বিলাইছড়িতে নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে  বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সৌজন্য সাক্ষাৎ।

কালের বিবর্তনে কর্মব্যস্ত কুমার পাড়া এখন শুনসান, নীরবতা

রিপোর্টার নাম
  • প্রকাশিত তারিখ : বুধবার, ২৮ জুলাই, ২০২১
  • ৩৬৪ বার পঠিত

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি।

বাঙালির শত বছরের পুরনো ঐতিহ্য মৃৎশিল্প।
কিন্তু কালের বিবর্তনে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে এই শিল্পের প্রসার। অনেকেই পেশায় থাকলেও, মাটির তৈরি সামগ্রীর চাহিদা না থাকায় অভাব-অনটনে সংসার চালাতে হিমসিম খাচ্ছে তারা।
একবেলা আধবেলা খেয়ে দিনানিপাত করছেন অনেক মৃৎশিল্পী। এক সময়ের কর্মব্যস্ত কুমার পাড়ায় এখন শুনসান নিরবতা।

আধুনিক জিনিসপত্রের ভিড়ে , সরকারি পৃষ্ঠ পোষকতা না থাকা এবং মাটির দাম বৃদ্ধি, খড়ি সহ নানা সংকটে বা পরিস্থিতিতে এ শিল্প হারিয়ে যেতে বসেছে বলে জানান রাজশাহীর বাঘা উপজেলার কুমারেরা।

বাঘা উপজেলার নারায়ণপুর, পাকুড়িয়া, সরেরহাট, আড়ানী গ্রামের অসংখ্য পরিবার এ পেশার সঙ্গে জড়িয়ে থাকলেও কিছু দিনের ব্যবধানে প্রায় শতাধিক পরিবারের বেশি পরিবার এ পেশা ছেড়ে ভিন্ন পেশায় যুক্ত হয়েছে। উপজেলা সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মাটি সংগ্রহ করে মাটির সামগ্রী তৈরির কাজে ব্যস্ত থাকতেন মৃৎশিল্পীরা বলেও জানাযায়।

আড়ানী পৌর এলাকায় ১৫-২০ টি পরিবার এ কাজের সাথে যুক্ত। এদের মধ্যে সুজয় পাল , ছবি রানি পাল, বিধান পাল বলেন, যুগ যুগ ধরে বংশ পরম্পরায় আমরা মাটির জিনিস তৈরি করে আসছি। এ পেশার সঙ্গে আমরা জড়িত থাকলেও আমাদের উন্নয়নে বা আর্থিক সহায়তায় সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। সরকারি ও বিভিন্ন এনজিও বা সমিতি থেকে সহযোগিতা পেলে হয়তো বাপ-দাদার আমলের স্মৃতিকে ধরে রাখা সম্ভব হতো।

পাকুড়িয়া গ্রামের মৃৎশিল্পী শিবু কুমার,মঙ্গল কুমার,অনিল,উজ্জল,ইদ্রশিত,বিশ্বজিৎ, সুশান্ত,অবনীল,সুর্দশন সহ প্রায় ১৫-১৭ টি পরিবার এই মৃৎশিল্পের কাজের সাথে যুক্ত। তারা জানান সব রকমের মাটি দিয়ে এ শিল্পের কাজ হয়না। এ শিল্পের জন্য মাটির দাম ৬০০-৭০০ টাকা ট্রলি, তার পরেও এই মাটি অনেকেই দিতে চায় না। খরির দাম ১২০ টাকা মণ খেজুর গাছের খরি ছাড়া অন্য তে কাজ হয়না, এর সাথে কাঠের গুড়াও লাগে।

সরেরহাট এলাকার এক নারী মৃৎশিল্পী জানান, প্রথমে মাটি তৈরি করে তার পর বিভিন্ন জিনিস পত্র তৈরি করতে হয়। মাটির তৈরি এসব সামগ্রী শুকানো, রং করাসহ পুরোপুরিভাবে প্রস্তুত করতে সাত দিন সময় লাগে। পরে বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া হয় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়।

নারায়নপুর পালপাড়ার মৃৎশিল্পের সাথে সংশ্লিষ্টরা জানান, বিভিন্ন নানামুখী সংকটের কারণে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী এ শিল্প। ফলে এর ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। স্টিল, চিনামাটি, মেলামাইন ও প্লাস্টিকের জিনিসপত্র বাজারে আসার পর মানুষ আর মাটির তৈরি হাঁড়ি, থালা, গ্লাস, মসলা বাটার পাত্র, মাটির ব্যাংক ও খেলনা সামগ্রী ইত্যাদি ব্যবহার করছেন না। এখন শুধু গবাদিপশুর খাবারের জন্য গামলা, কলস, রিং পাট, মাটির ব্যাংক, মাটির পাতিল ও সংখ্যা লঘুদের পূজা-পার্বণের জন্য নির্মিত কিছু সামগ্রীর চাহিদা রয়েছে। গ্রামাঞ্চলের কিছু মানুষ অবশ্য এখনও দৈনন্দিন প্রয়োজনে কিছু মাটির তৈরি পাত্র ব্যবহার করেন। কিন্তু মাটির তৈরি সৌখিন জিনিসপত্রের বাজার চাহিদা তেমন একটা নেই বললেই চলে। এক সময় কম দামে মাটি সংগ্রহ করা গেলেও এখন মাটি কিনতে হয় অনেক বেশি দামে। এছাড়া মাটি ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়। ফলে কুমার সম্প্রদায়ের সদস্যরা বাধ্য হয়ে অন্য পেশায় জড়িয়ে পড়ছেন। মাটির তৈরি সামগ্রীতে শেষ আঁচড় দিচ্ছেন কুমারেরা।

বাঘা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন – সাধারণ সম্পাদক অ্যাড
লায়েব উদ্দিন লাভলু বলেন ,মাটির জিনিস পত্রের চাহিদা কমতে থাকায় এবং দূরের এলাকা থেকে বেশি দামে মাটি কিনতে হয় বলে মৃৎশিল্পীরা দিন দিন এ ঐতিহ্য থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে। তবে কিছু সংখ্যক পরিবার বংশ পরম্পরার কারণে এ শিল্প ধরে রেখেছে। এ শিল্পের জন্য সরকারিভাবে যদি কোনো সহযোগিতার ব্যবস্থা করা যায়, তবে বাঙালির ঐতিহ্যময় এ শিল্প ধরে রাখতে পারবে মৃৎশিল্পীরা

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2021-2022
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: BDiT