১৪ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।শুক্রবার

লালমনিরহাটে ভারতীয় ফেনসিডিলের পরিবর্তে জায়গা করে নিয়েছে “এস কাফ”।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

মোঃ মাসুদ রানা রাশেদ:

আমদানি নিষিদ্ধ ফেনসিডিল পাওয়া যাচ্ছে না সীমান্ত জেলা লালমনিরহাটে। বিষয়টি জানার পর অনেকেই হয়তো স্বস্তি পাবেন। ভাববেন আমার ছেলেটা এবার তাহলে শোধরাবে। আমার ভাইটি তাহলে ফেনসিডিলের মত এই মরন নেশা ছেরে ঘরে ফিরে মায়ের কোল জোড়াবে। বাবার বাধ্য সন্তান হয়ে ব্যবসা সামলাবে। কিন্তু তা আর হয় কিভাবে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় আর সীমান্তে কড়াকড়ি নজরদারীর কারণে ফেনসিডিল এখন দুষ্প্রাপ্য হলেও, নতুন মাদক “এস কাফ” দখলে নিয়ে নিচ্ছে ফেনসিডিলের জায়গা। আর এই মাদক ইতিমধ্যে ভারত সীমান্ত পার হয়ে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। “এস কাফ” নামের নতুন এই মাদক বাংলাদেশে আনছে যারা তারাই ইতিপূর্বে ফেনসিডিলের কারবার করতো।

 

জানা গেছে, লালমনিরহাট জেলার দূর্গাপুর, মোগলহাট সীমান্ত রুট ও কুলাঘাট-বড়বাড়ী রুট দিয়ে ভারত থেকে আসা ফেনসিডিলের জায়গায় এখন “এস কাফ” নামের মাদক পাচার হয়ে আসে। পাচার হওয়া এসব মাদকদ্রব্য তুলে দেয়া হয় খুচরা ও পাইকারী বিক্রেতাদের হাতে। আর তা স্থানীয় ফেনসিডিল সেবীদের চাহিদা মিটিয়ে চলে যাচ্ছে বাহিরে। ফেনসিডিল দুষ্প্রাপ্য হওয়ায় নতুন এই মাদক সেবন করে বুদ হয়ে থাকছে যুবকেরা।

 

ফেনসিডিলের মতো দেখতে আর কোডিট ফসফেট মেশানো এ মাদক সেবনকারীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, “এস কাফ” নামের নতুন মাদক সেবন করলে, অনুভূতি অনেকটা ফেনসিডিল সেবনের মতো হলেও, অনেক সময় পেটে ব্যথা অনুভব হয়, মাঝে মাঝে মাথা ব্যথা করে, শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছোট ছোট ফুটকুনি ওঠে আর তা অনেক চুলকায়। মুখ শুকিয়ে আসে।

 

এদিকে অনেক মাদকসেবীর অভিভাবক বলছে, কোনও ভাবেই কি মুক্তি মিলবেনা সন্তানদের। দেশে একের পর এক আসছে নতুন নতুন মাদকের ফর্মূলা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করে, শহরের বটতলা এলাকার এক মাদকসেবীর বাবা ও এক কলেজ শিক্ষক বলেন, রক্ষা করুন আমাদের দেশের ভবিষ্যত প্রজন্মকে। সে সাথে বর্ডার জুড়ে মাদক চোরাকারবারি বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

 

নতুন এই মাদক সম্পর্কে লালমনিরহাট মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক খাইরুল বাশার সাংবাদিকদের বলেন, এটি যদি ভারত থেকে এসে থাকে সে ক্ষেত্রে আমরা তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলতে পাড়বো সেটি মাদক কি না। আর সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে আমরা ব্যবস্থা নিবো।

মোঃ মাসুদ রানা রাশেদ, লালমনিরহাট প্রতিনিধি। ০১৭৩৫৪৩৮৯৯৯

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি