২০শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।সোমবার

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার শানেরহাট ইউনিয়নে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৪০টি পরিবার পানি বন্দি।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর জেলা প্রতিনিধিঃ

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার শানেরহাট ইউনিয়নে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৪০টি পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। গত কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টির কারণে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী বাসিন্দাদের অভিযোগ প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত ওই প্রকল্পের অনেক কাজ অসমাপ্ত রয়েছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন তারা।

প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সুত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পে প্রথম পর্বে ২২৫টি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে শানেরহাট দামোদরপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে ৪০টি ভূ- গৃহহীন পরিবারের ঘর বরাদ্দ হয়। ১৭৫ বর্গফুট আয়তনের ১টি মুল টিনের ঘরে ১২টি পিলারসহ বারান্দায় ৫টি এবং ল্যাট্রিনে ৪টি পিলার সম্বলিত ঘর নির্মাণে প্রতিটি ঘরে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। প্রকল্প কমিটির সভাপতি তৎকালীন ইউএনও টিএমএ মমিন নিজেই ওই সব ঘর নির্মাণ করেন।

ঘর নির্মাণে পার্শ্ববর্তি ঘোড়াঘাট উপজেলা থেকে শ্রমিক ভাড়া করে ঘরের মেঝে ঢালাই ছাড়াই পিলার স্থাপন করা হয়েছিল। আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা দফির মন্ডল বলেন, দু বছর আগে আমাদের ৪০টি পরিবারের জন্য ঘর বানিয়েছে এখনও অনেক কাজ বাকি আছে। দামদরপুর গ্রামে এক সাথে আমরা ৪০টি পরিবারের লোকজন বসবাস করছি অতি কষ্ট করে। রোমানা বেগম বলেন, আমাদের ৪০টি পরিবারের জন্য ২০ টি টিউবওয়েল দরকার সেখানে মাত্র ৬টি টিউবয়েল রয়েছে, তার মধ্যে একটি অচল হয়ে পুকুরের মধ্যে রয়েছে।

ভারি বৃষ্টি হলেই আমরা পানি বন্দি হয়ে পড়ি। এছাড়াও তিনি বলেন পানির কারণে আমাদের ঘরের মাটি পুকুরে ভেঙে পড়েছে। ছেলে মেয়েদের নিয়ে বড় কষ্টে থাকতে হয় চারিদিকে পানি আর পানি। রাস্তার উপর দিয়ে পানি বাথরুমে যাওয়া যায় না। বিলের মধ্যে অল্প মাটি কেটে উঁচু করে ঘর ও রাস্তা বানিয়েছে আমাদের খোঁজ কেউ নেয় না। আপনারা সরকারের কাছে আমাদের কস্টের কথা

জানান। শানেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মন্টু বলেন, বিলের মধ্যে

আশ্রয়ণ প্রকল্পের সিদ্ধান্ত তৎকালীন ইউএনও’র। সিডিউল অনুযায়ী নিজের তদারকিতে কাজ সম্পন্ন করেছে বিগত ইউএনও টিএমএ মমিন সাহেব।

উনি নিজে কাজ তদারকি করেছেন। ইতোমধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কয়েকটি

টিউবওয়েল বসিয়ে দেয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিরোদা রানী রায় জানান, সরেজমিন পরিদর্শণ করে আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসরত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে শীঘ্রই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি