২০শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।সোমবার

পাহাড়ে পর্যটন শিল্পে ধস, করোনায় পর্যটকের জনশূন্য

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

 

রাঙ্গামাটি সদর প্রতিনিধি

বিশ্বব্যাপী মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রভাবে দেশের ভ্রমণ ও পর্যটন খাতে বড় ধরনের ধস নেমেছে। বন্ধ হয়ে গেছে রাঙ্গামাটির জনপ্রিয় পর্যটন স্পটগুলো। দেশের সবচেয়ে বড় জেলা পার্বত্য রাঙ্গামাটির হোটেল-মোটেল গুলোতে সরকারি প্রজ্ঞাপনের আদেশে বন্ধ করে দেওয়া স্পটগুলো বর্তমানে দীর্ঘদিন ধরে পর্যটকের জনশূন্য।

ইতিমধ্যে করোনা ভাইরাসের প্রভাব বেড়ে যাওয়ায় পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির বিভিন্ন পর্যটন স্পটগুলোতে ভ্রমণের উপর কড়াকড়ি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। প্রতিদিন অব্যাহত রয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান। বন্ধ হয়ে গেছে দামিদামি সব ধরনের হোটেল-মোটেল। একইসাথে রাঙ্গামাটির পর্যটন খাতে নেমে এসেছে বিশাল ধস।

করোনাভাইরাসের কারণে পর্যটকদের নিরুৎসাহিত করতে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন থেকে বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। জেলা প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার সকল পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত পর্যটকদের আগমন নিরুৎসাহিত করা হল।

রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক মো: মিজানুর রহমান জানান, পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত রাঙ্গামাটির সকল পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্রে পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এই নির্দেশনা যদি কেউ অমান্য করে, তার বিরুদ্ধে জেল জরিমানা ও আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রাঙ্গামাটি জেলা আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে পর্যটন বন্ধ থাকায় মহামারি করোনা তাদের জীবনের অনেক হিসাবই পাল্টে দিয়েছে। করোনা ভাইরাসের ছোবলে সারা দেশের সঙ্গে আতঙ্কে রাঙ্গামাটির মানুষও। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ছাড়িয়ে মানুষ এখন অনেকটা রীতিমতো দিশেহারা। এমন পরিস্থিতি মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে রাঙ্গামাটির পর্যটন খাতের ওপর।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, করোনা ভাইরাসের প্রভাবে এরই মধ্যে হঠাৎ ফাঁকা হয়ে গেছে, সরকারি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সসহ জেলার সবক’টি পর্যটন স্পট ও আবাসিক হোটেল-মোটেল। এসব পর্যটন স্পট ও হোটেল-মোটেল এখন জনশূন্য।
প্রভাব পড়েছে রেস্টুরেন্ট এবং খাবার হোটেলেও। বেকার হয়ে পড়েছেন অনেকে, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকারের আদেশ অনুযায়ী অধিক জনসমাগম এবং পর্যটন এলাকায় ভ্রমণে বিরত থাকার নির্দেশনার পাশাপাশি সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।

রাঙ্গামাটি সরকারি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পর্যটন এলাকাটি জনশূন্য একদম নাই বললে চলে। ফাঁকা দাঁড়িয়ে রয়েছে মনোরম ঝুলন্ত ব্রীজ। কর্মচারীরা ছাড়া আশপাশে কোথাও লোকজনের ঘোরাঘুরি নেই। কর্মচারীরা জানান, এমনিতে লোকজন আসছে না। তাছাড়া সরকারের নির্দেশনায় পর্যটন এলাকায় প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হয়েছে।

সরকারি পর্যটন কমপ্লেক্সে ছাড়াও রাঙ্গামাটি শহরের পর্যটনস্পটে গিয়ে কথা তারা জানান, জেলা পুলিশের পলওয়েল পার্ক, সুখীনীলগঞ্জের মিনি চিড়িয়াখানা, রাঙ্গামাটি রিজিয়নের আরণ্যক হলিডে রিসোর্ট, শুভলং ঝর্ণা, কাপ্তাই এবং বাঘাইছড়ির সাজেকের পর্যটন এলাকাসহ সব পর্যটনগুলোতে এখন জনশূন্যতা। ফাঁকা হয়ে গেছে ওই সব পর্যটন এলাকা, বলতে গেলে পাহাড়ে করোনায় পর্যটন শিল্পের উপর বিস্তর প্রভাব পড়েছে। অনেকে সরকারি প্রণোদনার জন‍্য অপেক্ষায় আছেন।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি