১৭ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৩রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।সোমবার

ছদ্মবেশে বিমানবন্দরে বিমান প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

সোনাই নিউজ : একজন মাওলানা সাহেবের সন্তান বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলী। হবিগঞ্জের মাধবপুরের সন্তান নিজেকে একটু ভিন্নভাবেই মেলে ধরতে চান। মন্ত্রিত্ব পাওয়ার পর থেকেই নিজেকে অসামান্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন মাহবুব আলী। এ পর্যন্ত তার দায়িত্বানুভূতি ও সক্রিয়তায় অনেকেই ভড়কে গেছেন। ছদ্মবেশে বিভিন্ন বিমানবন্দরও করেছেন পরিদর্শন। এসব করছেন কোনো প্রটোকল ছাড়াই। যাত্রী সেজে গত ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে তিনি হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। বিমানবন্দর ও বিমানসূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনবার পরিদর্শনে গেছেন বিমান প্রতিমন্ত্রী। এর একটিতে তিনি কাউকে না জানিয়ে নিজের পরিচয় গোপন রেখে গিয়েছেন। মঙ্গলবারও তিনি হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন। এটাও বলতে গেলে ছিল ঝটিকা পরিদর্শন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ নির্দেশনায় চট্টগ্রামের হযরত শাহ আমানত বিমানবন্দর পরিদর্শন শেষে মঙ্গলবার হঠাৎই তিনি শাহজালালে অবতরণ করেন। অপরদিকে কয়েকদিন আগে রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত বিমানের জেলা বিক্রয় অফিস পরিদর্শনে তিনি নিজের পরিচয় গোপন রাখেন। যাত্রীর পরিচয়ে সেখানকার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।

বিমান সূত্র জানায়, কোনো প্রকার প্রোটকল ছাড়া শুধু নিজের ড্রাইভারকে নিয়ে ছদ্মবেশে মতিঝিলে বিমানের জেলা বিক্রয় অফিস পরিদর্শনের সময় প্রায় ৩০ মিনিট গ্রাহক সেজে বসে ছিলেন প্রতিমন্ত্রী। বিমানকর্মীরা বুঝে ওঠার আগেই তিনি স্থান ত্যাগ করেন। সেখানে সেবাদানের ধীরগতি এবং বিমানকর্মীদের সিটে না থাকার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলী।
বিপণন বিভাগের বিভিন্ন দিক ও বিভাগে অনিয়ম দূর করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালককে মন্ত্রণালয়ে তলব করেছেন তিনি। ফলে প্রতিমন্ত্রীর গোপন সফরের ভয়ে বিমানবন্দরে কার্যরত বিভিন্ন সংস্থা ও এয়ারলাইেন্সর কর্মকর্তা কর্মচারীরা আতঙ্কিত।

এদিকে, মঙ্গলবার সকালে প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী সিভিল এভিয়েশন চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল নাইম হাসান, মেম্বার (অপস) এয়ার কমডোর মোস্তাফিজুর রহমান ও বিমানের এমডি ক্যাপ্টেন মোসাদ্দিক আহমেদকে নিয়ে শাহআমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যান। পরিচালক উইং কমান্ডার সারওয়ার-ই-জাহান তাদের অভ্যর্থনা জানান।

এরপর শাহআমানত বিমানবন্দর সম্পর্কে গত এক বছরের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রীকে ব্রিফিং দেন পরিচালক উইং কমান্ডার সারওয়ার-ই-জাহান।

ব্রিফিং শেষে প্রতিমন্ত্রী বিমানবন্দরে থাকা মাস্কটগামী যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী তাদের কোনো সমস্যার কথা জানতে চাইলে কয়েক যাত্রী বিমানবন্দরের সার্বিক সেবার মান মোটামুটি সন্তোষজনক বলে অভিমত প্রকাশ করেন। এরপর প্রতিমন্ত্রী প্রত্যেক বিভাগ ঘুরে টয়লেটে গিয়ে দেখতে পান ময়লা ও টিস্যু পেপার নেই। এখানে দাঁড়িয়ে তিনি এ সমস্যা দূরীকরণের জন্য আরও তৎপর হওয়ার নির্দেশ দেন। এ সময় মাহবুব আলী শাহআমানত বিমানবন্দরে কার্গো কমপ্লেক্স সম্প্রসারণ ও মাস্টারপ্ল্যান তৈরির পরামর্শ দেন।

বিকেলে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমেও একইভাবে বিভিন্ন পয়েন্টে গিয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী।

দুই বিমানবন্দরেই টয়লেট অপরিষ্কার, যাত্রীসেবা, বিমানের সময়সূচি ও লাগেজ ডেলিভারি দেয়ার ক্ষেত্রে বেশকিছু অনিয়ম দেখতে পেয়েছেন তিনি। কর্মকর্তাদের ডেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অনিয়ম বন্ধ করে আদর্শমান নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। যদি কোনো যাত্রীর কাছ থেকে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের অভিযোগ তার কানে যায়, তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন অ্যাডভোকেট মাহবুব আলী।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি