১৪ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৩০শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।রবিবার

কুড়িগ্রামে বাচ্চু মিয়ার অভিমানেই কেটে গেল ২৭ বছর।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

 

 

নয়ন দাস,কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ

 

গল্প কাহিনীর মত ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়েছে লোকজনের মুখে মুখে। চারপাশের মানুষসহ দূর-দূরান্তের মানুষও আগ্রহ ভরে আসছেন তাকে দেখতে। ঘটনাটি কুড়িগ্রাম শহরের পলাশবাড়ী এলাকার। এই গ্রামের ৩৬ বছর বয়সের টগবগে যুবক বাচ্চু মিয়া অভিমান করে বাড়ি ছেড়ে নিরুদ্দেশ হয়েছিলেন আড়াই যুগ আগে। তাকে ফিরে পাওয়া গেল দীর্ঘ ২৭ বছর পর। অসুস্থ বাচ্চু মিয়া এখন আছেন ভাতিজা শফিকুলের কাছে।

 

জানা গেছে, কুড়িগ্রাম পৌরসভার পলাশবাড়ী গ্রামের মৃত কান্দুরাম মামুদের পুত্র জহর উদ্দিন বাচ্চু (৬৫) ১৯৯১ সালে পার্শ্ববর্তী কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের আগমনী গ্রামের জাহেদা বেগম (৫০)কে বিয়ে করেন। ১৯৯৪ সালে তাদের ঘরে পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। ৬ মাস বয়সী পুত্র ও স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যান বাচ্চু মিয়া। সেখানে স্ত্রীর সাথে মনোমালিন্য হওয়ায় রাগ করে বেরিয়ে পড়েন। এরপর বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর করেও তার কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। ফলে তাকে মৃত ভেবে ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়ে দেন পরিবারের লোকজন।

 

বাচ্চু মিয়ার স্ত্রী জাহেদা বেগম জানান, লোকটার বুদ্ধিসুদ্ধি কম ছিল। কিন্তু রাগলে হিতাহিত জ্ঞান থাকতো না। সামান্যতেই তুলকালাম কাণ্ড বাঁধিয়ে ফেলত। এর আগেও একবার নিরুদ্দেশ হয়ে কিছুদিন পর আবার ফিরে আসে। কিন্তু দ্বিতীয়বার চলে যাওয়ার পর আর কোনো যোগাযোগ করেনি। পরে আমরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে ৬ মাসের বাচ্চাকে নিয়ে বাপের বাড়িতে চলে আসি। সেখানেই কষ্টেসৃষ্টে ছেলেকে মানুষ করি।

 

বাচ্চু মিয়ার ভাতিজা বাস ড্রাইভার শফিকুল জানান, আমার চাচা ১৯৯৪ সালে শ্বশুরবাড়ি থেকে অভিমান করে বাসে উঠে চলে যান যশোরের অভয়নগর উপজেলার সুন্দলী ইউনিয়নের হিন্দু অধ্যুষিত গোবিন্দপুর গ্রামে। সেখানেই চিরকুমার হিসেবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে কেটেছে তার জীবনের দীর্ঘ ২৭টি বছর। প্রথমে তিনি সুন্দলী ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত মুকুন্দ মল্লিকের বাড়িতে আশ্রয় নেন। এখানে কেটে যায় বেশ কয়েকটি বছর। কেউ তার ঠিকানা না জানলেও তাকে ভালোবেসে কাছে টেনে নেন। ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বিকাশ মল্লিক জীবন-জীবিকার জন্য তাকে একটি ভ্যানগাড়ি কিনে দিয়েছিলেন। এছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদের দোতলায় একটি কক্ষে তার থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছিল। সেখানেই কেটেছে তার সুদীর্ঘ ২০টি বছর। চাকরি না করেও পরিষদের আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা­ থেকে শুরু করে সার্বিক দেখা-শোনার কাজ করতেন তিনি। এর পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সৎকার, বিয়েসহ যে কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে ছিল তার অবাধ পদচারণা। আচার-আচরণে তিনি পরিষদের চেয়ারম্যান, সচিব, মেম্বারসহ স্থানীয়দের সবার কাছেই আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন।

 

দীর্ঘ ২৭ বছর পর আকস্মিকভাবে গত ৩০ সেপ্টেম্বর নিজ জন্মস্থানে ফিরে আসেন জহির উদ্দিন বাচ্চু মিয়া। তাকে দেখে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন তার পরিবার ও প্রতিবেশিরা। বর্তমানে ভাতিজা শফিকুলের বাসায় অবস্থান করছেন তিনি। একমাত্র ছেলে জাহিদুল ইসলাম (২৭) ঢাকায় রাজমিস্ত্রীর কাজ করে। বাবার ফিরে আসার কথা শুনে ঢাকা থেকে মাকে নিয়ে শফিকুলের বাড়িতে দেখতে এসেছিল। কয়েকদিন থাকার পর কর্মস্থলে চলে গেছে সে। জাহিদুল বাবার তিরোধানের পর জায়গাজমি বিক্রি করে নানাবাড়ি আগমনীতে বাড়ি করেছে। সেখানেই মাকে নিয়ে থাকে সে।

 

এদিকে বয়স বেড়ে যাওয়ায় নানা রোগ-ব্যাধিতে ভুগছিলেন বাচ্চু মিয়া। তার সবচেয়ে কাছের লোক সুন্দলী ইউনিয়ন পরিষদের চৌকাদার শেখর এবং তার স্ত্রী তাকে বুঝিয়েছেন ‘তোমার বয়স হয়েছে। অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকো। কখন কী হয়, কে দেখবে? এখন সময় হয়েছে, পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার। জন্মস্থানে গিয়ে দেখো, পরিবারের কেউ আছে নাকি। তাদের সাথে সাক্ষাৎ করো। যদি গ্রামে গিয়ে দেখো তার অন্যত্র বিয়ে হয়ে চলে গেছে তাহলে গ্রামের একটু মাটি নিয়ে আসো। সেই মাটি দিয়ে যাতে এখানকার মানুষ কবর দিতে পারে।’ এমন অনেক কথাবার্তা বলে বাচ্চু মিয়াকে বুঝিয়ে কুড়িগ্রামে ফেরৎ পাঠানো হয়। বর্তমানে তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা ভালো নেই। তিনি বারাবার ফিরে যেতে চান সুন্দলী ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে। সেখানকার মায়া কাটতে পারছেন না তিনি।

 

বাচ্চু মিয়ার প্রতিবেশী ইউসুফ আলী জানান, গ্রামবাসী মনে করেছিল বাচ্চু মিয়া মারা গেছেন। দীর্ঘ ২৭ বছর পর সে ফেরত আসায় প্রতিবেশী ও তার পরিবারের লোকজন খুব খুশি হয়েছে।

 

এ ব্যাপারে সুন্দলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিকাশ রায় কপিল মুঠোফোনে জানান, ইউনিয়নের প্রতিটি মানুষ তাকে ভালোবাসে। গাছের প্রতি তার ভালোবাসা ছিল, অনেক গাছ সে লাগিয়েছে। তার ব্যবহার ভালো ছিল। মুসলিম হলেও তিনি হিন্দু মানুষ মারা গেলে সৎকারে অংশ নিতেন। ইউনিয়নে কারো বাড়িতে ভালো রান্না হলে তাকে দাওয়াত দেওয়া হতো। এককথায় সবার সাথে তার সুসস্পর্ক ছিল। তার পরিবারের লোকের কাছে তাকে ফেরত পাঠাতে পেরে একদিকে আমাদের দুঃখ হলেও বড় আনন্দ, তিনি তার পরিবার পেয়েছেন।

 

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি:

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুরের দায়ের কোপে ভাতিজা বউ শিউলী আক্তার খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০) স্বপরিবারে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় তার চাচা শ্বশুর মৃত নেওয়াজ আলীর পুত্র সোলায়মান মিয়া তাদেরকে ডাকা ডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। দরজা খুলে শরিফুল ও তার স্ত্রী শিউলী ঘর থেকে বের হলে সোলায়মান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। এক পর্যায়ে সোলায়মানের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। সোলায়মান দা’ দিয়ে শিউলীর ঘাড়ে কোপ দিলে শিউলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সোলায়মান দা নিয়ে শরিফুলকে ধাওয়া দিলে শরিফ প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিয়ে প্রণে বাঁচায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
নিহত শিউলী একই উপজেলার মুজাটি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর মেয়ে। গত ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিউলর ৫ মাসের মেয়ে শিশুসহ ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে শিউলীর ৬ বছরের মেয়ে লামিয়া এর সাথে সোলায়মানের পুত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার জেরেই সকালে নিহতের বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে এ খুনের ঘটনা ঘটান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, শনিবার সকালে উপজেলার গোয়ারী উত্তর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুড়ের দায়ের কোপে ৩ সন্তানের জননী খুন।

অররবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনা ঃ

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে আসাদুল ইসলাম (১৯) নামে কয়রার এক কলেজছাত্র গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

৯ জুলাই, মঙ্গলবার ভোরে আসাদুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম সরদারের ছেলে। আমাদী জায়গীমহল খান সাহেব কোমর উদ্দীন কলেজে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মেয়ের সঙ্গে পরিচয় হয় আসাদুলের। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন কলেজছাত্র আসাদুল। কিন্তু প্রেমিকা বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তাকে ভিডিও কলে রেখে নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।

কলেজছাত্রের প্রতিবেশী ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, আসাদুল ইসলামের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের একটি মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে জানতাম। মেয়েটির সঙ্গে কয়েকবার দেখাও করেছেন তিনি। পরে ঐ মেয়েটিকে বিয়ের জন্য আসাদুল তার পরিবারকে জানান। তার পরিবার তাদের বিয়েতে রাজি হয়। কিন্তু পরে জানতে পারি মেয়েটি রাজি হয়নি। হয়তো সেই দুঃখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

কয়রা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহিম হোসেন জানান, কলেজছাত্রটি আলাদা ঘরে থাকতেন। সেখানেই তার মরদেহ পাওয়া গেছে। তার সোজাসুজি রাখা ভিডিও কল চালু অবস্থায় একটি মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে অপর প্রান্তে থাকা কাউকে ভিডিও কলে রেখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। তার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে কয়রার যুবকের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা।

মহম্মদপুরের দীঘা ইউনিয়নের দীঘা গ্রামে স্বামী -স্ত্রী বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা – ভিভিও লিংক https://www.facebook.com/share/v/9BEDCU22mRgdpqjn/?mibextid=oFDknk

মহম্মদপুরের দীঘা ইউনিয়নের দীঘা গ্রামে স্বামী -স্ত্রী বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা – ভিভিও লিংক https://www.facebook.com/share/v/9BEDCU22mRgdpqjn/?mibextid=oFDknk

মহম্মদপুরের দীঘা ইউনিয়নের দীঘা গ্রামে স্বামী -স্ত্রী বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা – ভিভিও লিংক https://www.facebook.com/share/v/9BEDCU22mRgdpqjn/?mibextid=oFDknk

মহম্মদপুরের দীঘা ইউনিয়নের দীঘা গ্রামে স্বামী -স্ত্রী বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা – ভিভিও লিংক

মহম্মদপুরের দীঘা ইউনিয়নের দীঘা গ্রামে স্বামী -স্ত্রী বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা – ভিভিও লিংক