২১শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।মঙ্গলবার

কালের কণ্ঠ শুভসংঘের উদ্যোগে শাজাহানপুর ৩০০ অসহায়েদর মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

নাজিরুল ইসলাম, শাজাহানপুর বগুড়া প্রতিনিধি:

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় ৩০০ অতিদরিদ্র পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে কালের কণ্ঠ শুভসংঘ। এছাড়া করোনা সুরক্ষায় সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়।

আজ বৃহস্পতিবার উপজেলার মাঝিড়া মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় এই ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করে শুভসংঘের সদস্যরা।

ত্রাণ বিতরণের প্রধান অতিথি জেলা আওয়ামী লীগের সদস‍্য ও উপজেলা চেয়ারম্যান প্রভাষক সোহরাব হোসেন সান্নু বলেন, আমি বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। দেশে অনেক বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু তারা এগিয়ে আসেনি। করোনার এই ক্রান্তিকালে বসুন্ধরা গ্রুপ এগিয়ে এসেছে। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। কালের কণ্ঠ শুভসংঘের মাধ্যমে সারা দেশেই ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করছে। তাদের সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।

বয়স ভারি হয়েছে তোফাজ্জেল মিয়ার। কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন তিন বছর হলো। এক ছেলে জাহিদুল থাকলেও তার পরিবারেও টানাপড়েন। দুই ছেলেই প্রতিবন্ধী। নিজের সংসার চালাতেই হিমশিম খান তাই দেখভাল করতে পারেন না বাবা-মাকে। তোফাজ্জেল বলেন, ‘ছোলও হামাক ভাত দেয় না আমিও তাকে ভাত দিবার পারি না। হামরা তাই পৃথক খাই। কি করমু কও বাবা। ছোলেই খাইয়া বাঁচবার পারে না।’
শুভসংঘের ত্রাণ পেয়ে তিনি বলেন, ‘হামারে যে দিছে তারে যেন আল্লায় আরো ভালো করে। হামাকের যেন আরও দিবার পারে। এই চাল দিয়্যা হামরা দুজন ১৫ দিন খাবার পারিমু। তোমরা জন্য দোয়া করমু।’
ত্রাণ পেয়ে আজিরুন বেগম নামের এক উপকারভোগী বলেন, ‘হামি একলা মানুষ। মাইনষেরতে চাইয়া খাই। তোমাকেরা হামারে দিলে খাবার পারি না দিলে পারি না। বসুন্ধরা মালিকত এই খাবার দিয়া হামি এক মাস খাবার পারমু। তার জন্যি দোয়া করমু। হামাকের যেন আরও দিবার পারে।’

ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আহমেদ, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন, কালের কণ্ঠ শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান, কালের কণ্ঠর ব্যুরোপ্রধান লিমন বাসার, শুভসংঘ বগুড়া জেলার উপদেষ্টা মোস্তফা মাহমুদ শাওন, মাঝিড়া মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি মো. নুরুজ্জামান, শুভসংঘের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শরীফ মাহ্দী আশরাফ জীবন, বগুড়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শিশির মোস্তাফিজ, সদস্য মশিউর রহমান জুয়েল, শেরপুর শাখার উপদেষ্টা আব্দুল হালিম দুদু, সভাপতি মো. খোরশেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান আতিকসহ মিজানুর রহমান, রব্বানি, আসলাম হোসেন, এনামুল হক, মুঞ্জুরুল হক, আলমঙ্গীর হোসেন, রফিকুল ইসলাম, সানোয়ার, শাহজাহানপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, শুভসংঘের উত্তরা ইউনিভার্সিটির সাবেক সভাপতি আলমগীর হোসেন রনি, প্রভাষক আব্দুল আজিজ।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি