১৪ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৩০শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।রবিবার

করোনার সময়ও বিএনপি মিথ্যাচার করে জাতিকে বিভ্রান্ত করছে: হানিফ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

সরকারের বিরুদ্ধে নির্লজ্জ মিথ্যাচার করে জনগণকে বিভ্রান্ত না করতে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল সাহেব সুযোগ পেলেই মিথ্যাচার করেন। এই করোনার সময়ও তারা জাতিকে বিভ্রান্ত করছে, মিথ্যাচার করছে। আপনারা বর্তমান সরকারকে সহায়তা না করেন, অন্তত নির্লজ্জ মিথ্যাচার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করবেন না।’

আজ সোমবার রাজধানীর মিরপুর গালর্স আইডিয়াল কলেজে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপ-কমিটির আয়োজনে করোনায় ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে সহায়তা সমাগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে এ আহবান জানান।

মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল একটা ভালো কাজ করেছে তারা আজ দেখাতে পারে না। বিএনপি ঈর্ষান্বিত হয়ে মিথ্যাচারে ব্যস্ত। এই করোনার দুর্যোগের সময়ও বিএনপির শীর্ষ নেতারা সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ডিসেম্বরের মধ্যে আমরা আশি ভাগ জনগণকে যাতে ভ্যাকসিনের আওতায় আনতে পারি সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে যাতে এক কোটি মানুষকে টিকা দিতে পারি, সে লক্ষ্যে কাজ চলছে। আমাদের টিকা মজুদ আছে এবং এক সপ্তাহে প্রতিটি ইউনিয়নে পাঁচ হাজার জনকে টিকার আওতায় নিয়ে আসা হবে। এক সপ্তাহের মধ্যে এক কোটিরও বেশি ব্যক্তি টিকার আওতায় আসবে।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘মির্জা ফখরুলরা সরকারের কোন উন্নয়ন দেখেন না। ঢাকায় মেট্রোরেল চালু হচ্ছে, পায়রা বন্দর হচ্ছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন চার হাজার মেগাওয়াট থেকে চব্বিশ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে, কর্ণফুলী টানেল হচ্ছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হচ্ছে। এগুলোর কোনটাই বিএনপির চোখে পড়ে না।

সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপি, উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য এ কে এম রহমত উল্লাহ এমপি, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি:

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুরের দায়ের কোপে ভাতিজা বউ শিউলী আক্তার খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০) স্বপরিবারে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় তার চাচা শ্বশুর মৃত নেওয়াজ আলীর পুত্র সোলায়মান মিয়া তাদেরকে ডাকা ডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। দরজা খুলে শরিফুল ও তার স্ত্রী শিউলী ঘর থেকে বের হলে সোলায়মান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। এক পর্যায়ে সোলায়মানের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। সোলায়মান দা’ দিয়ে শিউলীর ঘাড়ে কোপ দিলে শিউলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সোলায়মান দা নিয়ে শরিফুলকে ধাওয়া দিলে শরিফ প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিয়ে প্রণে বাঁচায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
নিহত শিউলী একই উপজেলার মুজাটি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর মেয়ে। গত ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিউলর ৫ মাসের মেয়ে শিশুসহ ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে শিউলীর ৬ বছরের মেয়ে লামিয়া এর সাথে সোলায়মানের পুত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার জেরেই সকালে নিহতের বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে এ খুনের ঘটনা ঘটান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, শনিবার সকালে উপজেলার গোয়ারী উত্তর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুড়ের দায়ের কোপে ৩ সন্তানের জননী খুন।

অররবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনা ঃ

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে আসাদুল ইসলাম (১৯) নামে কয়রার এক কলেজছাত্র গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

৯ জুলাই, মঙ্গলবার ভোরে আসাদুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম সরদারের ছেলে। আমাদী জায়গীমহল খান সাহেব কোমর উদ্দীন কলেজে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মেয়ের সঙ্গে পরিচয় হয় আসাদুলের। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন কলেজছাত্র আসাদুল। কিন্তু প্রেমিকা বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তাকে ভিডিও কলে রেখে নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।

কলেজছাত্রের প্রতিবেশী ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, আসাদুল ইসলামের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের একটি মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে জানতাম। মেয়েটির সঙ্গে কয়েকবার দেখাও করেছেন তিনি। পরে ঐ মেয়েটিকে বিয়ের জন্য আসাদুল তার পরিবারকে জানান। তার পরিবার তাদের বিয়েতে রাজি হয়। কিন্তু পরে জানতে পারি মেয়েটি রাজি হয়নি। হয়তো সেই দুঃখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

কয়রা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহিম হোসেন জানান, কলেজছাত্রটি আলাদা ঘরে থাকতেন। সেখানেই তার মরদেহ পাওয়া গেছে। তার সোজাসুজি রাখা ভিডিও কল চালু অবস্থায় একটি মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে অপর প্রান্তে থাকা কাউকে ভিডিও কলে রেখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। তার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে কয়রার যুবকের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা।