২৪শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।শুক্রবার

আধুনিক কৃষিব্যবস্থার কারণে দিনকে দিন হারিয়ে যাচ্ছে দেশী প্রজাতির ধান।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

শেখ আবদুল্লাহ আনোয়ারা,প্রতিনিধি ।

 

এ দেশে এক সময় হাজার হাজার রকম দেশি ধান জাতের আবাদ করা হতো। গত শতাব্দীর পাঁচ বা ছয়ের দশকেও এ দেশে এদের সংখ্যা ছিল বেশ কয়েক হাজার। এখন থেকে আশি বছর আগে বিশিষ্ট ধান বিজ্ঞানী ড. পি হেক্টর এ দেশে বিভিন্ন মৌসুমে আবাদী ধানের স্থানীয় জাতের সংখ্যা ১৮,০০০ বলে উল্লেখ করেছেন।

আধুনিক কৃষিব্যবস্থার কারণে দিনকে দিন হারিয়ে যাচ্ছে দেশী প্রজাতির ধান। হাইব্রিড ও উচ্চ ফলনশীলের (উফশী) সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে আনোয়ারায় চাষাবাদ থেকে প্রায় বিলুপ্তির পথে ৪০ প্রজাতির মত দেশীয় ধান।

কৃষি অধিদপ্তরের সূত্রে মতে, ২০১০ এর পূর্বে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় প্রায় ৭০ প্রজাতির স্থানীয় ধানের চাষ হতো, সেখানে এখন হয় মাত্র ২০-২৫ প্রজাতির ধান।

 

খাদ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদা, ফসলি জমি ভরাট এবং কলকারখানার ফলে কৃষিজমির পরিমাণ কমে যাওয়া, জমির উর্বরতা হ্রাসের কারণে কৃষক এখন চান্দিনা, মালা, ব্রিশাইল, ব্রি বালাম, আশা, সুফলা, প্রগতি, মুক্তা, ময়না, এই ধরণের দেশীয় বীজের পরিবর্তে হাইব্রিড কিংবা উফশী জাতের ধান আবাদের দিকে ঝুঁকছেন। কারণ স্থানীয় জাতের ধানের তুলনায় হাইব্রিডের উৎপাদন অনেক বেশি।

 

কৃষি কর্মকর্তারা মনে করেন, নতুন নতুন উচ্চ ফলনশীল বিভিন্ন প্রজাতির ধান বাজারে আসতেছে। ফলে কৃষকরা আগের দেশীয় ধান থেকে মুখ ফিরিয়ে নতুন ধানের দিকে ধাবিত হচ্ছে। কারণ কোনো একটা জমিতে একনাগারে ৪-৫ বছর একই ধানের চাষ করা হলে এর পরবর্তীতে গিয়ে জমিটাতে ফলন কমে আসে। যার কারণে কৃষকরা এক জমিতে একই বীজ বার বার রোপন না করে বরং ২-৩ বছর পর পর অধিক ফলনের আশায় বীজ পরিবর্তন করে ফেলে। আর তাছাড়াও আগের দেশীয় ধানে কানি প্রতি পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ টন অর্থাৎ ৮০-৯০ আড়ি ধান হতো পক্ষান্তরে এখন হাইব্রিড ধানের বীজ রোপন করলে কানি প্রতি ছয় থেকে সাড়ে ছয় টন অর্থাৎ, ১০০-১২০ আড়ি ধান পাওয়া যায়। যা দেশীয় বীজের তুলনায় অনেক বেশি।

 

এই বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান বলেন, উচ্চ ফলনশীল, উন্নত মানের বিভিন্ন ধানের বীজ বাজারে আসতেছে। যেসব বীজে দেশীয় বীজের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বেশি ফলন পাওয়া যায়। কৃষকরা তাদের খরচ পুষিয়ে অধিক ফলনের আশায় দেশীয় বীজ পরিহার করে উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিডের প্রতি ঝুঁকছে। আর এসব দেশীয় বীজ যাতে একেবারেই হারিয়ে না যায় সেজন্য এসমস্ত বীজগুলো সংরক্ষণের চেষ্টা চলছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি