1. ashiskumarsaha90@gmail.com : Ashish Saha : Ashish Saha
  2. dainikbanglerprottoy@gmail.com : banglar : Nibas Dhali
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
কয়রার ৪০ বনজিবী পেলেন নৌকা, জাল ও লাইফ জ্যাকেট । খুলনায় প্রথমবারের মতো ঘোষিত হলো “ঊষার আলো দুর্গাপূজা অ্যাওয়ার্ড- ২০২৬”। রংপুরে ছয় মাস সংসার করে স্বামীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা। কালীগঞ্জে মাদক বিরোধী মিনিবার ফুটবল টুনামেন্ট অনুষ্ঠিত। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শ্যামনগরে ৭১টি মন্দিরে ড.মনিরুজ্জামানের শুভেচ্ছা উপহার। বিলাইছড়িতে নেতৃত্ব বিকাশ ও সামাজিক উন্নয়ন বিষয়ক তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু। কয়রায় আন্তর্জাতিক দূর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত । খুলনা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের মনিটরিং সেল গঠন  রতন মিত্র আহবায়ক ও সুমন দাস সদস্য সচিব । কেশবপুরে অভিভাবক ও কিশোরীদের সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত। কেশবপুরে জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে স্ক্রিনিং ক্যাম্প অনুষ্ঠিত।

চুনারুঘাটে নালুয়া চা বাগানে মহাবিপন্ন প্রজাতির বন রুই উদ্ধার

রিপোর্টার নাম
  • প্রকাশিত তারিখ : বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২০
  • ৭৭৯ বার পঠিত

সোনাই নিউজ: হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার নালুয়া চা বাগান মহাবিপন্ন প্রজাতির বনরুই পাওয়া গেছে।

৪ মার্চ বুধবার সকাল ৮টায় ওই বাগানের গোলটিলা এলাকার রিক্সাচালক উসমান আলী ঘুম থেকে উঠে ঘর থেকে বের হয়ে যখন হাত মুখ ধোয়ার জন্য নলকূপে যান তখন পাশেই থাকা কুয়ার মাঝে নড়াচড়ার শব্দ শোনেন। কিছুটা ভয় আর কৌতুহল নিয়ে এগিয়ে যান কুয়ার কাছে। গিয়ে দেখেন একটি অপরিচিত প্রাণী কুয়ার ভেতর নড়াচড়া করছে। এরপর সবাইকে নিয়ে খুন্তি দিয়ে মাটি খুড়ে কুয়ার ভেতর থেকে উপরে নিয়ে আসেন প্রাণীটি। এই প্রাণীটি হলো মহাবিপন্ন প্রাণী বনরুই।

কিছু ভণ্ড কবিরাজ বনরুই মেরে দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে তথাকথিত ওষুধ তৈরির নাম করে ব্যবসা ফাঁদছে। যদিও এসব ওষুধের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জহিরুল হক শাকিল।

পরে সেটির কোমরে রশি বেঁধে বাড়ীর আঙ্গিনায় আটকে রাখেন তিনি। মুহূর্তেই খবরটি রটে গেলে তার বাড়ীতে শত শত লোকজন এসে ভিড় জমায় প্রাণীটিকে এক নজর দেখার জন্য। তবে শিশুদের মাঝে ছিল ব্যাপক উৎসাহ।

রিক্সা চালক উসমান আলী বলেন ‘আমি কুয়ার মাঝে শব্দ ও নড়াচড়া দেখে প্রথমে ভয় পেয়েছিলাম। কিন্তু পরে দেখি এটি আক্রমণ না করে মাথা লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। সবাইকে নিয়ে মাটি খুঁড়ে এটিকে ওপরে নিয়ে আসি। এটি দেখতে খুবই সুন্দর। লোকজন দেখে অনেক আনন্দ পেয়েছে। এর ওজন ৫ কেজি এবং ৪ ফুট লম্বা হবে।’

নালুয়া চা বাগানের শ্রমিক নেতা ও আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের মেম্বার নটবর রুদ্র পাল বলেন ‘এই প্রাণী আমার জীবনেও দেখিনি। আমি জানার পর সবাইকে বলেছি যাতে কেউ এটিকে আঘাত না করে। এটিকে সুস্থ অবস্থায় বন বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

এদিকে বন বিভাগের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগ খবর পেয়ে বুধবার দুপুরে নালুয়া চা বাগানে উপস্থিত হয়ে বনরুইটিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। পরে সেটিকে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবু এমপি, হবিগঞ্জ বন বিভাগের ডেপুটি ফরেস্টার রেহান মাহমুদ, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের রেঞ্জ অফিসার আব্দুল মোতালেব ও সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান কো-ব্যবস্থাপনা কমিটির সহ-সভাপতি আবুল কালাম।

হবিগঞ্জ বন বিভাগের ডেপুটি ফরেস্টার রেহান মাহমুদ জানান, সুস্থ অবস্থায় বনরুইটিকে উদ্ধার করে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের গভীর জঙ্গলে অবমুক্ত করা হয়েছে। মুহূর্তের মাঝেই এটি গভীর জঙ্গলে হারিয়ে যায়। প্রাণীটি বিপন্ন। এক সময় চুনারুঘাট উপজেলার পাহাড় ও বনাঞ্চলে এটি প্রচুর পরিমাণ দেখা যেত।

হবিগঞ্জ সরকারী বৃন্দাবন কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড, সুভাষ চন্দ্র দেব জানান, হবিগঞ্জের বনাঞ্চলে এই প্রাণিটির আবাস ছিল। বিশেষ করে ছন ও ঝোপ-জঙ্গলে এগুলো দেখা যেত। এটি প্রাণিকূলে একমাত্র আঁশযুক্ত স্তন্যপায়ী প্রাণি। সারা শরীরে মাছের মতো আঁশের ফাঁকে ফাঁকে থাকে শক্ত লোম। স্বভাবেও অতি অদ্ভুত। কুঁজো হয়ে দুলতে দুলতে চলে, লম্বা লেজ গাছের ডালে জড়িয়ে ঝুলেও থাকতে পারে। বিপদ বুঝলে সামনের দুই পায়ের ভেতর মাথা ঢুকিয়ে লেজ দিয়ে পুরো দেহ ঢেকে বলের মতো করে নেয়। সামনের পা দিয়ে কোনো কিছু আঁকড়ে ধরতে পারলে শক্তিশালী প্রাণিও সহজে এদের কোনো ক্ষতি করতে পারে না। আর এভাবেই এ নিরীহ প্রাণিটি শত্রুর হাত থেকে আত্মরক্ষা করে থাকে। সারাদিন গর্তে ঘুমিয়ে কাটায় আর রাতে খাবারের খোঁজে বের হয়ে মাটি শুঁকতে থাকে। পিঁপড়ার বাসা বা উঁইপোকার ঢিবির খোঁজ পেলে শক্তিশালী নখের থাবা দিয়ে ভেঙে গুড়িয়ে ফেলে। এরা মাটির নিচে প্রায় ছয় মিটার গর্ত করে বাসা বাঁধে। শীতকাল প্রজনন মৌসুম। সাধারণত একটি বা দুইটি বাচ্চা দেয়।

তিনি জানান, বিশ্বে ৮ প্রজাতির বনরুইয়ের দেখা মেলে। তারমধ্যে বাংলাদেশে মালয়, ভারতীয় ও চায়না বনরুই ছিল। বর্তমানে চায়না বনরুই ছাড়া অন্য প্রজাতির বনরুইয়ের দেখা মিলছে না। কেননা বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পাচার হওয়া স্তন্যপায়ী প্রাণী হচ্ছে বনরুই।

তিনি আরও বলেন, বনরুইয়ের ইংরেজি নাম ‘Pangolin’ চায়না বনরুইয়ের বৈজ্ঞানিক নাম ‘Manis pentadactyla’। দাঁত নেই বলে আগে দন্তহীন স্তন্যপায়ী প্রাণির দলে অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে বর্তমানে এদের আলাদা একটি দল ফোলিডাটার (Pholidata) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার সদস্য একমাত্র বনরুই। হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট ও চট্টগ্রামে এক সময় প্রচুর পরিমাণ বনরুই থাকলেও এখন তেমন একটা দেখা মিলে না। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ পরিষদ (আইইউসিএন) এই প্রাণীকে মহাবিপন্ন প্রাণী হিসাবে চিহ্ণিত করেছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2021-2022
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: BDiT