
পরেশ দেবনাথ, বিশেষ প্রতিনিধি।
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের জনক মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতি বিজড়িত কপোতাক্ষ নদের তীরে বটবৃক্ষ কালবৈশাখী ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। গাছটি উপড়ে নদীর ভিতরে পড়েছে। মধুসূদন এই বটবৃক্ষ কে নিয়ে একটি ছনেট রচনা করেন। তার এই ছোটবেলার স্মৃতি বটবৃক্ষ আজকে সমাপ্তি ঘটলো।
শনিবার (০২ মে-২৬) দুপুরে হঠাৎ আঘাত হানা ভয়ংকর কালবৈশাখীর ঝড়ে গাছটি উপড়ে পড়ে। প্রচণ্ড ঝড়ের দাপটে ক্যাম্পাসজুড়ে অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়ে এবং ভেঙে পড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটি। ছিঁড়ে যায় বিদ্যুতের তার, ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিভিন্ন স্থাপনা ও সাইটের অংশবিশেষ। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাময়িকভাবে দর্শনার্থীদের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাগরদাঁড়ির একমাত্র ঐতিহ্য প্রায় আড়াই’শ বছরের প্রাচীন বটবৃক্ষটি শণিবার দুপুরের দিকে আচমকা আকাশ কালো হয়ে আসে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই ঝড়ের তীব্রতা ভয়াবহ রূপ নেয়। ঝড় থামার পর ক্যাম্পাসজুড়ে দেখা যায় ধ্বংসস্তূপের মতো দৃশ্য—ভাঙা ডালপালা, ছিঁড়ে পড়া তার ও লণ্ডভণ্ড পরিবেশ।
স্বানীয় বাসিন্দারা জানান, বটবৃক্ষটি নিয়ে অনেক স্মৃতি রয়েছে। এটি দেখতে দেশ-বিদেশ থেকে অনেকে আসেন। আর হয়তো কোনো পর্যটকের পদধূলি এখানে পড়বে না। এটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতিময় বটবৃক্ষ। বটবৃক্ষটি ভেঙে পড়ায় তারা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
কবির বাড়ির পূর্ব দিকে প্রায় ৫’শ মিটার দূরে কপোতাক্ষ নদের তীরে জেলে পাড়ায় এ বটবৃক্ষের অবস্হান। এটি প্রায় ২০ শতক জমির উপর বিস্তৃত। কবির বাড়িতে যাওয়া দর্শনার্থীরা ও এ বটবৃক্ষ দেখতে যেতেন। এই বটবৃক্ষের তলায় সনাতন ধর্মালম্বীরা পূজা অর্চনা করেন।
মধুসূদন একাডেমির পরিচালক ও মধুসূদন-গবেষক কবি খসরু পারভেজ জানান, ‘বটবৃক্ষ’ কবিতাটি কবি ফ্রান্সের ভার্সাই নগরীতে ১৮৬৫ সালে লেখেন। এ কবিতা চতুর্দশপদী কবিতা।
ছবিঃ
০৩/০৫/২৬