
মুক্তাগাছায় ভাঙারি ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা
মুক্তাগাছা প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলায় লোকমান হোসেন (৬৫) নামে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে উপজেলার জগন্নাথবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত লোকমান হোসেন বাঁশাটি ইউনিয়নের পান্নাথবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভাঙারি ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লোকমান হোসেন গত ২০ বছর আগে তার মেয়েকে পাশের গ্রাম জগন্নাথবাড়ির হাফিজ উদ্দিনের সাথে বিয়ে দেন। আগামীকাল শুক্রবার (৩ এপ্রিল) হাফিজ উদ্দিনের মেয়ের (নিহত লোকমানের নাতনি) বিয়ের দিন-তারিখ ঠিক হয়। কিন্তু নাতনির বিয়ের আগেই জামাতা হাফিজ উদ্দিন ও তার চাচাতো বোন পারুল আক্তারের মধ্যে পূর্বে ধারকৃত পাঁচ হাজার টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে ঝগড়া লাগে। সেই ঝগড়া ফিরাতে গিয়ে নিহত হন লোকমান হোসেন।
গত কিছুদিন আগে হাফিজ উদ্দিন পারুল আক্তারের কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকার ধার নেন। পারুল ধারের টাকা ফেরত চাইলে ভাই-বোনের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা এবং পরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ঝগড়ার বিষয়টি জানতে পেরে লোকমান হোসেন তার ছেলে নাজমুল হোসেনকে সাথে নিয়ে মেয়ের বাড়িতে যান এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে নাতনির বিয়ের পরদিন টাকা পরিশোধের আশ্বাস দেন।
তার কথা অমান্য করে পারুল আক্তারের লোকজন উত্তেজিত হয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে লোকমান হোসেন ও তার ছেলের ওপর হামলা চালায়। এতে গুরুতর আহত হন লোকমান হোসেন। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। হামলায় তার ছেলে নাজমুল হোসেন গুরুতর আহত হন।
এ ঘটনার পর থেকে নিহতের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবার ও স্বজনরা এ ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
মুক্তাগাছা থানার ওসি (তদন্ত) জুলুস খান পাঠাঁন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।