
আকিকুর রহমান রুমন:-
হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে মেয়েদের স্কুল,কলেজ ও মাদ্রাসায় যাতায়াতের পথে ইভটিজিং এবং বাড়ির নারীদের গোসলের দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্হানীয় দুই বিএনপি নেতার লোকজনের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের নারী-পুরুষ সহ অন্তত অর্ধশতাধিক লোকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
রোববার(১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত উপজেলার ৯ নম্বর পুকড়া ইউনিয়নের কাঠখাল গ্রামের উত্তর পাড়ায় এই সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের অভিযোগ সূত্রে জানাযায়,পুকড়া ইউনিয়নের কাঠখাল গ্রামের বিএনপি নেতা লুৎফুর রহমান এর বাড়ির উত্তর পাড়ার মেয়েরা স্কুল,কলেজ ও মাদ্রাসায় যাতায়াতের সময় দীর্ঘদিন ধরে ইভটিজিং এবং বাড়ির পাছনে নারীদের গোসল করার দৃশ্য ধারণ করে আসছিলো একই এলাকার স্হানীয় বিএনপি নেতা এজারত মিয়ার বাড়ির ছেলেরা।
তাদেরকে ইভটিজিং করা সহ স্থানীয় নারী ও মেয়েরা পুকুরে গোসল করতে গেলে রাস্তা থেকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ছবি ও ভিডিও ধারণ করার অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিনের।
এমন ঘটনায় এরাজত মিয়ার বাড়ির ছেলেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে কয়েক দফা তাদের মুরব্বিদের কাছে বিচার দেন লুৎফুর রহমান সহ তাদের লোকজন।
কিন্তু এজারত মিয়া কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি বলে দাবি স্থানীয়দের।
এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করে করছিল।
এরই জেরে(রোববার) সকালে পুনঃরায় লুৎফুর রহমান এর বাড়ির পাছনে গোসল মেয়ে ও নারীদের গোসল করার দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে এজারত মিয়ার বাড়ির দু’টি ছেলে।
এই বিষয়টি আচ করতে পেরে নারীর বাড়ির পুরুষ অভিভাবকদেরকে জানালে,এজারত মিয়া সহ তার লোকজনকে জিজ্ঞেস করতে গেলে,উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়।
এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের নারী-পুরুষ সহ অন্তত অর্ধশতাধিক লোকজন আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিক জানাযায়।
খবর পেয়ে বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)শেখ নাজমুল হক সহ তার নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এদিকে আহতদের উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি)শেখ নাজমুল হক এর সাথে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে যোগাযোগ করা হলে,তিনি সংঘর্ষের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান,সংঘর্ষের খবর পেয়ে তিনি সহ একদল পুলিশ সদস্য নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছেন।
এবং বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে
।
এছাড়াও দাঙ্গা হাঙ্গামার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করতে ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করতে এলাকায় পুলিশ অবস্থান করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
তবে সংঘর্ষের ঘটনার পর থেকে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন এলাকার সাধারণ জনগন।
তবে উত্তেজনা এড়াতে পুলিশ অবস্থান করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওসি শেখ নাজমুল হক।
আকিকুর রহমান রুমন।
বানিয়াচং উপজেলা হবিগঞ্জ।।