খুলনা রূপসা নদীতে নৌকাভ্রমণের সময় স্ত্রীকে ধাক্কা দিয়ে নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকেলে চর-রূপসাস্থ সালাম সী ফুডস্-এর অদূরে রূপসা নদীতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর স্বামী-স্ত্রী দু’জনকেই পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান,যশোর থেকে স্ত্রী রুমা আক্তার হাসিকে (৩২) রূপসা খানজাহান আলী (রহঃ) সেতু এলাকায় বেড়ানোর কথা বলে পূর্ব রূপসা ঘাটে এনে ট্রলারযোগে যাওয়ার সময় নদীতে ফেলে দিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে পাষন্ড স্বামী রেজাউল ইসলাম রাসেল (৩৬)।
স্থানীয়রা রুমাকে উদ্ধার করে রূপসা বাসস্ট্যান্ড পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জকে অবহিত করলে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে যান। তাদের পুলিশের হাতে সোপর্দ করলে ফাঁড়ির হাজতখানায় রাখা হয়।
পুলিশ জানায়, যশোর জেলার কোতোয়ালী থানাধীন কাজিপাড়া পুরাতন এলাকার বাসিন্দা মৃত হিমায়েত হোসেনের ছেলে রেজাউল ইসলাম রাসেল (৩৬) তার স্ত্রী রুমা আক্তার হাসিকে (৩২) বেড়ানোর কথা বলে ঈদের চতুর্থ দিনে রূপসা খানজাহান আলী (রহঃ) সেতু এলাকায় নিয়ে আসে। তারা রূপসা ঘাট এলাকায় এসে ট্রলারযোগে যাত্রা শুরু করে।
ট্রলারটি চর-রূপসাস্থ সালাম সী ফুডস্-এর অদূরে পৌঁছালে স্বামী রাসেল স্ত্রীকে হত্যার উদ্দেশ্যে জোরপূর্বক নদীতে ফেলে দেয়। স্থানীয় জনতা দেখতে পেয়ে রুমাকে উদ্ধার করে এবং তার স্বামীকেও আটক করে।
রুমা যশোর কোতোয়ালি থানাধীন মানিকতলা এলাকার মো. বাদল মিয়ার মেয়ে। ঘটনার পর রুমা আক্তার বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
রাতে ভিকটিম রুমার পিতা-মাতা যশোর থেকে খুলনায় এসে পুলিশ ফাঁড়িতে যান। রূপসা বাসস্ট্যান্ড পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ (আইসি) মো. আকরাম হোসেনের সাথে আলাপ-আলোচনা সাপেক্ষে রুমার পিতা-মাতা আইনী প্রক্রিয়ায় যেতে একপর্যায়ে দ্বিমত পোষণ করেন। ভিক্টিম রুমার পিতা-মাতার অবহেলা ও গাফিলাতির কারণে আইনী প্রক্রিয়া থেকে পার পেয়ে গেল অভিযুক্ত স্বামী রেজাউল।
রূপসা বাসস্ট্যান্ড পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ (আইসি) মো. আকরাম হোসেন বলেন, ভিকটিম রুমা আক্তারের পিতা-মাতা ফাঁড়িতে আসেন। তাদের সাথে আলাপ-আলোচনাকালে তারা আইনী প্রক্রিয়ায় যেতে রাজি হননি।