1. ashiskumarsaha90@gmail.com : Ashish Saha : Ashish Saha
  2. dainikbanglerprottoy@gmail.com : banglar : Nibas Dhali
মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
কালীগঞ্জে ভ্রাম্যমান আদালতে তিন ব্যবসায়ীকে অর্থদন্ড। নবাগত ইউএনও-এর সাথে কেশবপুর থানা প্রেসক্লাব সাংবাদিকদের সৌজন্য সাক্ষাৎ,। তিন মাস পর ১ সেপ্টেম্বর থেকে সুন্দরবনের দুয়ার খুলছে। বিপিএল সিজন ৫ এর ২৪ তম ম্যাচ অনুষ্ঠিত। মানুষের ভালোবাসা নিয়ে সাদিপুর ১ নম্বর ওয়ার্ডে পঞ্চম দিনের গণসংযোগে ইমদাদুল হক ইমদাদ। বিলাইছড়িতে সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নজরুল বর্ষের উদ্বোধন। কেশবপুরের পাঁজিয়ায় কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য-এর শততম জন্মবার্ষিকী । কেশবপুরে আনসার-ভিডিপি’র সদস্যারা স্বেচ্ছাশ্রমে দরিদ্র কৃষকেের পাকা পাট কেটে দিলেন। কেশবপুরের সুফলাকাটি ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ের উদ্বোধন। কেশবপুরে সমাধান এর ব্যবস্থাপনায় ফ্রি চক্ষু ক্যাম্প অনুষ্ঠিত।

বিলুপ্তির পথে ধামইহাটের ঐতিহ্যবাহী ধানের গোলা।

রিপোর্টার নাম
  • প্রকাশিত তারিখ : শুক্রবার, ২২ অক্টোবর, ২০২১
  • ২০২ বার পঠিত

সন্তোষ কুমার সাহা, ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ

 

নওগাঁর ধামইরহাটে গ্রামবাংলার সমৃদ্ধির প্রতীক ঐতিহ্যবাহী ধানের গোলা এখন বিলুপ্তির পথে। কালের বিবর্তে আধুনিক অবকাঠামোর ভিড়ে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে কৃষকের ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন ধানের গোলা। অথচ এক সময় সমাজের নেতৃত্ব নির্ভর করতো কার ক’টি বড় ধানের গোলা আছে এই হিসেব কষে। কেউ কন্যা পাত্রস্ত করতে গেলে কন্যা পক্ষের আত্মীয়-স্বজন বরের বাড়িতে ধানের গোলার খরব নিতো। যা এখন শুধুই রুপ কথার গল্প মাত্র। গ্রামাঞ্চলে জমি ওয়ালাদের প্রায় বাড়িতেই বাঁশ দিয়ে গোল আকৃতির ধানের গোলা নির্মাণ করা হতো উঁচু কোন স্থানে। যাতে গোলা ঘরটি বর্ষার পানিতে ভিজে চুপষে না ওঠে। গোলার মাথায় থাকতো পিরামিড আকৃতির টাওয়ারের মত যা তৈরী করা হত টিন অথবা খড় দিয়ে। সেটি দেখা যেত অনেক দুর থেকে। গোলা নির্মাণ করার জন্য দক্ষ শ্রমিক/কারিগর ছিল। শুধু মাত্র তারাই এটি নির্মাণ করত বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়ে। এখন আর গোলা নির্মাণের কারিগর দেখা যায় না বললেই চলে। তারা পেশা ছেড়ে অন্য পেশা বেঁছে নিয়ে জীবন জীবিকা নির্বাহ করছেন। আবার অনেকে বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন। নতুন করে আর গোলা তৈরির কারিগর বের হয়নি যেহেতু গোলার আর কদর নেই। বাঁশ ফাটিয়ে বাতা ও বাঁশের কঞ্চি দিয়ে প্রথমে গোল আকৃতির ঘরের কাঠামো তৈরী করা হয়। এরপর গোলার ভিতর ও বাহিরে কাঁদার সাথে ছোট ছোট করে খর কেটে তা কাঁদার সঙ্গে মিশিয়ে গোলার ভিতরে ও বাইরে পাতলা করে আবরন দেয়া হত। কারিগররা সমান করে কাঁচা মাটি দিয়ে লেপ পোঁচ দিতেন। গোলা ঘরে প্রবেশের জন্য একদম উপরে মুখ রাখা হত। সেই মুখে ২ ফুট লম্বা কাঠ দিয়ে দরজা বানিয়ে লাগানো হতো যাতে করে গোলাই প্রবেশ করে চোর অথবা ডাকাত ধান চুরি করতে না পারে। ধান বের করার জন্য একিবারে সমতল থেকে দু’হাত উপরে বিশেষ কায়দায় মুখ রাখা হত। যা প্রবেশ পথ দিয়ে ঢুকে কাঠ দিয়ে বন্ধ করে বাহির থেকে কাঁদা দিয়ে লেপ দেয়া হত। যাতে বাহিরের কোন অজানা লোক বুজতনা এদিক দিয়ে ধান বের করা যায়। ধান বের করার সময় হলে নির্ধারিত মুখে সাবল দিয়ে মাটি সরিয়ে ধান বের করত। সমতল থেকে দু’হাত উচু করে ইট বালি সিমেন্ট দিয়ে গোল করে গেঁথে তোলা হয়। নিচে দু’টি সুড়ঙ্গ থাকত যেখানে রাতের বেলায় হাঁস মুরগি রাখার উপযুক্ত ঘর হিসেবে ব্যাবহার হতো। এখন কৃষক তাদের কষ্টার্জিত ফসলের ধান রাখে ঘরে। তবে কালের স্বাক্ষী হয়ে বাব-দাদার ঐতিহ্য কে ধরে রেখেছে ধামইরহাট উপজেলার হাতে গোনা কয়েকটি পরিবার তার মধ্যে চকইলাম গ্রামের কৃষক সামসুদ্দিন মন্ডলের বাড়িতে এখনো পর্যন্ত ধানের গোলা রয়েছে। তিনি জানান, আমার বাপ-দাদার আমল থেকে ধানের গোলা রয়েছে আমার জীবন দশায় থাকবে। বাপ-দাদার স্মৃতি আজও ধরে রেখেছি আমার অনুপস্থিতে আমার ছেলেরা গোলাঘর রাখতেও পারে আবার আধুনিক যুগের সাথে তাল মিলিয়ে গোলা নাও রাখতে পারে।

 

 

 

 

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2021-2022
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: BDiT