1. dainikbanglerprottoy@gmail.com : admin : Nibas Dhali
  2. ashiskumarsaha90@gmail.com : Ashish Saha : Ashish Saha
মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ০৭:৫৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
খুবি শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় খুবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ। খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় অন্তত ৭৯ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন। খুবির আইন ডিসিপ্লিনের ছাত্রী মৌমিতা হালদারের মৃত্যুতে উপাচার্যের গভীর শোক প্রকাশ। চুয়াডাঙ্গায় বিপুল পরিমাণ মাদকসহ আটক -২। শিববাড়ি মোড়ে চলন্ত অ্যাম্বুলেন্সে অগ্নিকাণ্ডে। বিলাইছড়িতে কৃষিবিয়ক প্রশিক্ষণ ও মাঠ পরিদর্শনে উপ-সচিব । শ্যামনগরে আন্তর্জাতিক বর্ণ বৈষম্য বিলোপ দিবস পালিত। কয়রায় আইওয়াশ প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত । খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে বিএনপি’র নিরঙ্কুশ বিজয়। বিলাইছড়িতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ফিডিং কর্মসূচির উদ্বোধন।

খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় অন্তত ৭৯ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন।

রিপোর্টার নাম
  • প্রকাশিত তারিখ : মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬
  • ৪ বার পঠিত

 

নিজস্ব প্রতিবেদক।

খুলনা বিভাগে হঠাৎ করেই হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বাড়তে শুরু করেছে। গত কয়েক সপ্তাহে শিশুদের মধ্যে দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বেড়েছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিভাগের ১০ জেলায় অন্তত ৭৯ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে অন্তত ২৬ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন করে সতর্ক সংকেত দিচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের তথ্য পাওয়া গেছে কুষ্টিয়া জেলায়। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সদর হাসপাতাল মিলিয়ে ৬৩ জন শিশু বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে, যাদের বড় অংশই হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি। এছাড়া যশোরে ৬ জন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪ জন এবং ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা ও মাগুরায় ২ জন করে শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। অন্যান্য জেলাতেও হাম ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই অল্পবয়সি শিশু। বিশেষ করে এক বছরের কম বয়সি এবং ৬ থেকে ৯ মাস বয়সি শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে। যেসব শিশু এখনো পূর্ণ টিকাদান পায়নি বা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তারাই বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে জ্বর, সর্দি-কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং পরে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতাও তৈরি হচ্ছে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি তিন শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাদের বয়স ৫ থেকে ৮ মাসের মধ্যে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হওয়ায় তাদের জটিলতা বেড়েছে।

শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সৈয়দা রুখশানা পারভীন বলেন, ‘হাম অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ এবং নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা না থাকায় সাপোর্টিভ চিকিৎসার ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে।’

এদিকে রোগীর সংখ্যা বাড়লেও হাসপাতালগুলোতে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। আইসোলেশন ইউনিট চালু থাকলেও শয্যা ও প্রয়োজনীয় সুবিধা সীমিত। পুরনো অবকাঠামোর কারণে খুলনা সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালেও চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। জটিল রোগীদের জন্য এনআইসিইউ সুবিধা সীমিত থাকাও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভাগের সব জেলা হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আলাদা ওয়ার্ড চালুর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তবে সংক্রমণ বাড়ার প্রবণতা তাদেরও ভাবিয়ে তুলেছে।

খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে হঠাৎ করেই দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো খুলনা বিভাগেরও কোনো কোনো জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এটি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। বিশেষ করে সবগুলো জেলা হাসপাতালে আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড খোলার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে অধিকাংশ হাসপাতালে সে নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এছাড়া আমাদের চিকিৎসক, নার্সসহ চিকিৎসার সাথে জড়িত অন্যদেরও বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে এনআইসিইউ সংকট। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ অন্যান্য স্থানে এখনও এনআইসিইউ নেই। আমরা চেষ্টা করছি অন্তত বড় জেলাগুলোতে এনআইসিইউ সাপোর্ট দিতে, যাতে রোগীর জটিলতা বাড়লে এনআইসিইউতে চিকিৎসা করানো যায়।’

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে খুলনা বিভাগে প্রতি ১০ লাখে হামে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২.৪ জন, ২০২৫ সালে তা কমে ১ জনে নেমে এলেও ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬.৭ জনে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের বিস্তার ঠেকাতে নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা ছাড়া বিকল্প নেই। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সৈয়দা রুখশানা পারভীন বলেন, ‘দ্রুত হামের ভ্যাক্সিনেশনের প্রোগ্রাম শুরু করতে হবে। পাশাপাশি শিশুদের মধ্যে জ্বর বা ফুসকুড়ির মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে এবং আক্রান্তদের আলাদা রাখতে হবে।’

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2021-2022
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: BDiT