
মোঃ আনিসুর রহমান, বাগেরহাট প্রতিনিধি।
জ্বালানী তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে পরিবহণের ভাড়া বাড়িয়ে নির্ধারণের দাবীতে ডকাকা ধর্মঘট সফলভাবে পালিত হচ্ছে বাগেরহাটের সকল রুটে। এই ধর্মঘটে সবচেয়ে বেশি পালিত হচ্ছে মোংলায়।ধর্মঘটের ফলে জেলার সকল রুটে যাত্রীবাহী বাস এবং পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধ রয়েছে।গতকাল শুক্রবার ভোর থেকে বাগেরহাট-খুলনা,বাগেরহাট-ঢাকা, মোংলা থেকে ঢাকা-চট্রগ্রাম, মোংলা-খুলনা, মোংলা-বাগেরহাট-বরিশালসহ সকল রুটে বাস চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রেখেছে মালিক-শ্রমিকেরা। ফলে মোংলা বন্দর থেকে ভিন্ন পরিবহণে বিকল্প ব্যবস্থায় বাগেরহাট-খুলনা যেতে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া, এতে ক্ষুব্দ সাধারণ যাত্রীরা,একশ টাকার ভাড়ার পরবিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে যাত্রীদের ঘুনতে হচ্ছে তিনশ থেকে চারশ টাকা।
অপরদিকে বন্ধ রয়েছে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলও। মোংলা বন্দরের জেটির সম্মুখে ও দিগরাজ শিল্প এলাকার বিভিন্ন মিল-কলকারখানার সামনে সব সময় শত শত ট্রাকের জটলা থাকলেও শুক্রবার ও শনিবার সেসব জায়গা একেবারে ফাঁকা রয়েছে। পরিবহণ চলাচল বন্ধের কারণে তারা পণ্য পরিবহণ বন্ধ রেখেছেন। তাদের দাবী, তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে, এতে তাদেরও খরচ বাড়বে। তাই সরকার পরিবহণ ভাড়া নির্ধারণ করে না দেওয়া পর্যন্ত তাদের এ পরিবহণ ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।
এদিকে ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকায় মোংলা বন্দর জেটি, ইপিজেড ও শিল্প এলাকার তেল, গ্যাস, সিমেন্টসহ বিভিন্ন ফ্যাক্টরীর পণ্য এবং কাঁচামাল পরিবহণ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। বসে থেকে আর্থিক ক্ষতিতে পরিবহণ মালিক – শ্রমিকেরাও।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ট্রাফিক বিভাগ জানায়, পণ্য পরিবহণ বন্ধ থাকাটা সারাদেশেরই সমস্যা। ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকায় আমদানীকারকের তাদের মালামাল বন্দর জেটি থেকে পরিবহণ করতে পারছেন না। জেটি থেকে সড়ক পথে পণ্য পরিবহণ বন্ধ থাকলেও জেটির অভ্যন্তরে লোড আনলোডের কাজ চলছে।
মোংলা ইপিজেডের মহাব্যবস্থাপক মাহবুব আহমেদ সিদ্দিক বলেন, ইপিজেডের ফ্যাক্টরীগুলোর কাঁচামাল ও উৎপাদিত পণ্য মোংলা বন্দর ও বেনাপোল বন্দর দিয়েই পরিবহণ হয়ে থাকে। সেই ক্ষেত্রে পরিবহণ ধর্মঘটের প্রভাব এখানেও পড়ছে।তবে তেলের দাম বৃদ্ধির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিভিন্ন মহল।জনসাধারণের মনেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে জ্বালানি তেলের এই মূল্য বৃদ্ধি।