১৭ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৩রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।সোমবার

সিলেট-২ আসন থেকে নির্বাচিত: শপথ নিলেন মোকাব্বির খান

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

সোনাই নিউজ:সংসদ সদস্য হিসাবে শপথ নিয়েছেন উদীয়মান সূর্য প্রতীক নিয়ে সিলেট-২ আসন থেকে নির্বাচিত মোকাব্বির খান।

মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) বেলা ১২টায় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী জাতীয় সংসদ ভবনে তার দপ্তরে মোকাব্বির খানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

এর আগে মোকাব্বির খান জানিয়েছিলেন, দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই শপথ নিচ্ছেন তিনি। তবে তার দল গণফোরাম বলছে, এমন কোনো সিদ্ধান্তই হয়নি।

সোমবার দলের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সর্বশেষ সিদ্ধান্ত ছিল কেউ শপথ নেবে না। সুলতান মোহাম্মদ মনসুর যেমন দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে শপথ নিয়ে বহিষ্কৃত হয়েছেন। মোকাব্বিরের বেলায়ও দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সুব্রত চৌধুরী বলেন, আমরা জানতে পেরেছি মোকাব্বির খান দলের সাধারণ সম্পাদকের সই ছাড়াই দলীয় প্যাড ব্যবহার করে শপথ নেওয়ার জন্য চিঠি দিয়েছেন। এটা তিনি ঠিক করেননি। ২০ এপ্রিল দলের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মোকাব্বির খান বলেন, আমি নির্বাচিত হওয়ার পর সংসদ থেকে আমাকে শপথ নেওয়ার জন্য চিঠি দিয়েছে। সেই চিঠির জবাবে আমি সোমবার (১ এপ্রিল) শপথ নেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে স্পিকার বরাবরে চিঠি দিয়েছি। দশ মিনিটের মধ্যে চিঠির জবাবও পেয়েছি।

যেহেতু দলের সাধারণ সম্পাদকের দেওয়া মনোনয়নপত্র নিয়ে আপনি নির্বাচিত হয়েছেন, সেক্ষেত্রে শপথ নেওয়ার আগে সাধারণ সম্পাদকের এমন কোনো লিখিত অনুমতির প্রয়োজন আছে কি না জানতে চাইলে মোকাব্বির বলেন, না সে ধরনের কোনো আইন নেই। আমি সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছি। দলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক শপথ নেব। আমি নিজে সই করেই চিঠি দিয়েছি।

গণফোরামের প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পথিক বলেন, মোকাব্বির খান সত্য বলেননি। তার শপথ নেওয়ার বিষয়ে দল তাকে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। ৩০ ডিসেম্বরের পরে এখন পর্যন্ত দলের কোনো সভায়ই এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি যে, মোকাব্বির শপথ নেবেন। বরং তিনি দলীয় প্যাড চুরি করে নিজেই সই করে চিঠি দিয়েছেন।

কোনো কোনো গণমাধ্যমে ড. কামাল হোসেন তাকে অনুমতি দিয়েছেন বলে মোকাব্বির খান যে বক্তব্য দিয়েছেন সে বিষয়ে পথিক বলেন, গণফোরাম ড. কামাল হোসেনের একক সম্পত্তি নয়। এই দলের সকল সদস্য এটার মালিক। সুতরাং ড. কামাল হোসেন এ ধরনের সিদ্ধান্ত দিতে পারেন না। আমার জানামতে তিনি এমন সিদ্ধান্ত দেননি।

এর আগে ৭ মার্চ শপথ নেয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে ৬ মার্চ সন্ধ্যায় সিদ্ধান্ত পাল্টান মোকাব্বির খান। দলীয় চাপের মুখে তিনি তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। তবে ওই দিন অর্থাৎ ৭ মার্চ শপথ নেন গণফোরামের আরেক সংসদ সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে শপথ নেওয়ায় গণফোরামের আরেক নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুরকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণফোরামের প্রতীক উদীয়মান সূর্য নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মোকাব্বির খান। তিনি সিলেট-২ আসনে মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে পরাজিত করে জয়ী হন তিনি। এই আসনে প্রথমে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল বিএনপির নিখোঁজ নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনাকে। তার মনোনয়ন বাতিল হলে মোকাব্বিরকে সমর্থন দেয় ঐক্যফ্রন্ট।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি