২২শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৮ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।শনিবার

শুধুমাত্র হিন্দু অতিথি হওয়ায় বন্ধ হলো স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

সোনাই নিইজ:শুধুমাত্র হিন্দু অতিথি হওয়ায় ফরিদপুর সদর উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নে পরপর দুই দিনে দুটি বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বন্ধ হয়ে গেছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বী বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ সিআইপি ড. যশোদা জীবন দেবনাথকে বিশেষ অতিথি করায় এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

চাঁদপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শামসুন নাহার মহিদের নির্দেশে দুটি অনুষ্ঠান বন্ধ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ইউনিয়নের বঙ্গেশ্বরদী সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. খায়ের মিয়া।

রবিবার বিদ্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।

খায়ের মিয়া বলেন, রবিবার ইউনিয়নের ধোপাডাঙ্গা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা হওয়ার কথা থাকলেও তা স্থগিত করে দেন চেয়ারম্যান শামসুন নাহার মহিদ। আমন্ত্রণপত্রে তাঁর পরিবারের সদস্যদের নাম নিচের দিকে দেওয়ায় বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বন্ধের নির্দেশ দেন তিনি।

এবার ধোপাডাঙ্গা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি) ড. যশোদা জীবন দেবনাথকে বঙ্গেশ্বরদী সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি করা হয়। ড. দেবনাথ টেকনো মিডিয়া লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বেঙ্গল ব্যাংকের পরিচালক। পাঠানো আমন্ত্রণপত্রে বিশেষ অতিথির নাম দেখে চটে যান ইউপি চেয়ারম্যান।

হিন্দু ধর্মাবলম্বী লোকের নাম কেন চিঠিতে দেওয়া হলো এ কারণে ইউপি চেয়ারম্যান বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সব কার্যক্রম বন্ধ করতে বলেছেন বলে অভিযোগ করেন বঙ্গেশ্বরদী সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. খায়ের মিয়া।

‘শামসুন্নাহার মহিদ জানিয়ে দেন, তিনি নিজে অতিথি তালিকা দেবেন এবং সে অনুযায়ী চিঠি করে পরবর্তীতে অনুষ্ঠান করতে হবে, তা না হলে তিনি অনুষ্ঠান করতে দেবেন না।’

বঙ্গেশ্বরদী সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, শুধু নামের কারণে যদি একটি স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বন্ধ করে দেওয়া হয় তাহলে এর চেয়ে দুঃখের কিছু নেই।

সিআইপি ড. যশোদা জীবন দেবনাথের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমাকে অতিথি করা নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান শামসুন নাহার মহিদ যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে আমি খুবই মর্মাহত ও দুঃখ পেয়েছি। বঙ্গেশ্বরদী সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে যেতে পারলে স্কুলের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারতাম। কিন্তু চেয়ারম্যান তা থেকে বঞ্চিত করলেন।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি