1. dainikbanglerprottoy@gmail.com : admin : Nibas Dhali
  2. ashiskumarsaha90@gmail.com : Ashish Saha : Ashish Saha
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩১ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
কেশবপুরে আধুনিক কোরাল বা ভেটকি মাছের পরিচর্যা ও চাষ পদ্ধতি অনুশীলন বিষয়ে কর্মশালা। কেশবপুরে উন্নয়ন ফোরামের উদ্যোগে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের নিয়ে দোয়া ও উপহার বিতরণ। সুন্দরবনের হরিণ লোকালয়ে উদ্ধারের পর বনেই অবমুক্ত। হাসপাতালের চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিএনপির সভাপতি এমএ সালাম ফকির। কয়রায় ঘূর্ণিঝড় ও দূর্যোগ প্রস্তুতি বিষয়ক মহড়া । কয়রায় নৌ-বাহিনীর বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ প্রদান। কেশবপুরে বর্ষবরণ ও বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ উৎযাপন উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। নগরীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত -২। শ্যামনগরে বর্ণিল সাজে বাংলা নববর্ষ পালিত। কয়রায় নানা কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ উদযাপন ।

শিশু যখন শ্রমিক

রিপোর্টার নাম
  • প্রকাশিত তারিখ : রবিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৮
  • ৩৪৪ বার পঠিত

সম্পাদকীয় ॥

যে বয়সে বইখাতা হাতে নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা, খেলার মাঠে নিমগ্ন হওয়ার কথা, সে বয়সে যেতে হয় আয়-রোজগারে। নামতে হয় ঝুঁকিপূর্ণ কাজে। বেঁচতে হয় শ্রম। দু’বেলা দু’মুঠো যোগাড়ে অবস্থা হয় প্রাণান্তকর। কুঁড়িগুলো তাই আর ফুল হয়ে ফুটতে পারে না। অচিরেই যায় ঝরে।

‘শিশুরাই জাতির ভবিষ্যত’ এই নীতিবাক্য তাদের জীবনে কখনই ধরা দেয় না। এক অন্ধকারাচ্ছন্ন জগত তাদের সবকিছুতেই জড়িয়ে যায়। শ্রমে যুক্ত হওয়ার কারণে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ হয় ব্যাহত।

এই রাজধানীতেই প্রতিদিন দৃশ্যমান হয় শিশু শ্রমিকদের কষ্টকর শ্রমজীবন। কোমল যে হাত, সে হাতে ভারি জিনিস বহন করতে হয়। তুলে নিতে হয় হাতুড়িও। ভাঙতে হয় ইট, কিংবা পাটকেল, কিংবা বাস, টেম্পো, লেগুনায় হেলপারের মতো কঠিন কঠোর কাজও আয়ত্ত করে নিতে হয় অল্প বয়সেই। হোটেলে ‘পিচ্চি’ হিসেবে অভিহিত হয়ে কাজ করতে হয় নানারকম। শারীরিক সামর্থ্যে হয়ত কুলোয় না। একটু ভুলত্রুটি হলে কাজে, বকাঝকা বরাদ্দ হয়ে যায়, এমনকি গায়েও হাত তোলে।

বাসাবাড়ির কাজেও এই শিশুরা বারো ঘণ্টার মতো কাজ করে, প্রায়শই মারধর থেকে রেহাই মেলে না। পর্যাপ্ত খাবার কিংবা ঘুমোবার স্থানও থাকে না। পিতৃ-মাতৃ স্নেহবঞ্চিত এই শিশুরা বড় হয়ে ওঠে অনিশ্চয়তাকে ভর করে। এই করুণ কষ্টকর অবস্থা থেকে বুঝি মুক্তি নেই। যুগ যুগ ধরে তারা নিরন্তর ঝুঁকির ভেতর দিয়ে পাড়ি দেয়। রাষ্ট্রব্যবস্থা তাদের প্রতি সহমর্মী, সমব্যথী এমনটা নয়। তবে আইন রয়েছে। কিন্তু সে আইনও যেন কাজীর গরু কেতাবে থাকার মতো। আর শুধু আইন দিয়ে শিশুশ্রম নিরসন সম্ভব নয়। অথচ শ্রম আইনানুযায়ী শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োগ দেয়া যায় না।

এ ছাড়া শিশুদের দিয়ে পাঁচ ঘণ্টার বেশি কাজ করানো ও চৌদ্দ বছরের কম বয়সী শিশুদের শ্রম একেবারেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অথচ বাস্তব দৃশ্য যা তাতে এই আইন প্রয়োগের কোন অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না। আইনে আছে কোন শিশু বা কিশোরকে চাকরিতে নিয়োগ দিলে বা আইনের কোন বিধান লঙ্ঘন করে কোন শিশু বা কিশোরকে চাকরিতে নিয়োগ দিলে অথবা আইনের কোন বিধান লঙ্ঘন করে কোন শিশু বা কিশোরকে চাকরি করার অনুমতি দিলে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড দিতে হবে। আর কোন শিশুর বাবা-মা বা অভিভাবক এই পঁয়ত্রিশ ধারা অমান্য করে কোন শিশু সম্পর্কে চুক্তি করলে তাকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড দিতে হবে। অথচ বাস্তবে যেসব শিশুকে কাজে নিয়োগ দেয়া হয়, সেখানে কোন নিয়োগপত্র থাকে না। চুক্তিও নয়। যে কোন সময়ে যে কোন শিশু কর্মচ্যুত হতে পারে যে কোন কাজ থেকে। ফলে আইন আর সেখানে পৌঁছে না।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে দেশে মোট শিশুর সংখ্যা অন্তত সাড়ে পাঁচ কোটি। এর মধ্যে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা দেড় কোটিরও বেশি। ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা বাড়ছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার এক শিশুশ্রম সমীক্ষা অনুযায়ী দেশে কর্মজীবী শিশুর সংখ্যা প্রায় ৩৬ লাখ। এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে নিয়োজিত রয়েছে ১৩ লাখ শিশু। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বে পাঁচ থেকে চৌদ্দ বছর বয়সী শিশু শ্রমিকের সংখ্যা ১২০ মিলিয়ন। এদের মধ্যে ছেলে ও মেয়ে শিশু সমভাবে জড়িত। অবশ্য শিশুশ্রমের দিক থেকে বিশ্বের ১৪০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। দেশের তিন শতাধিক কাজে অন্তত ৭৪ লাখ শিশু নিয়োজিত। এরা কলকারখানা, বাসাবাড়ি, টেম্পো, বাস, লেগুনায় হেলপার ইটভাঙা, ময়লা-আবর্জনা টোকোনো, খাবার দোকান, ওয়ার্কশপের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে জড়িত। শ্রমে যুক্ত হওয়ার কারণে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হয়। বর্তমানে কলকারখানায় শিশুশ্রমের সংখ্যা বাড়ার কারণ এদের মজুরি নামমাত্র। বড়দের মতো কাজ করে ৮৫ শতাংশ শিশু।

কর্মক্ষেত্রে দূষিত পরিবেশে কাজ করছে ১৭ শতাংশ। কর্মক্ষেত্রে মালিক দ্বারা শোষিত ও নির্যাতনের শিকার হয় প্রায় শিশুই। সঙ্কট-দুর্যোগ যাই হোক, শিশুশ্রম বন্ধ হোক বলে যতই হাঁকডাক দেয়া হোক, বাস্তবতায় তা ধোপে টেকে না। সরকার ২০২১ সালের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। এর আগে তা করার কথা থাকলেও হয়নি। শিশুশ্রমকে সামাজিকভাবে বর্জন করা দুরূহ। কারণ হতদরিদ্র, অতিদরিদ্র অবস্থার পরিবর্তন না হলে দু’বেলা দু’মুঠো খাবার যোগাড় করতে শিশুদের শ্রমজীবী হতেই হয়। শুধু আইন দিয়ে কিছুই করা সম্ভব নয়।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2021-2022
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: BDiT