1. dainikbanglerprottoy@gmail.com : admin : Nibas Dhali
  2. ashiskumarsaha90@gmail.com : Ashish Saha : Ashish Saha
সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ০৬:২৪ অপরাহ্ন

পাহাড়ের শিশুরা  শিক্ষার পাশাপাশি বিনোদনেও পিছিয়ে ।

রিপোর্টার নাম
  • প্রকাশিত তারিখ : সোমবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৪ বার পঠিত

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি(রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধিঃ-দুর্গম পাহাড়ি পথ,আঁকা বাঁকা সচ্ছ জলের ঝিঁড়িপথ,শতবছরের প্রাচীন বৃক্ষ, সবুজ গণ পাহাড়, নির্জন আঁকাবাকা মেটো পথ, এবং গ্রামের পর গ্রাম, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের বসবাস, রয়েছে বম,চাকমা মার্মা,ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, পাংখোয়া, বাঙালী সহ জনসংখ্যা ৪০ হাজারের মতো। এই উপজেলার বিনোদন কেন্দ্র তো দুরের কথা।  শিক্ষার পাশাপাশি পাশাপাশি শিশুদের রয়েছে পুষ্টির ঘাটতিও।

তিন পার্বত্য জেলা মতো ২৫ টি উপজেলা মধ্যে রয়েছে বিলাইছড়িও একটি উপজেলা।জেলা সদরে কিছু বিদ্যালয় বিনোদন কেন্দ্র থাকলেও প্রায় নেই উপজেলাগুলোতে। একেবারে নেই বললে চলে বিলাইছড়ি উপজেলায়। এখানে বসবাসকারী মানুষদের প্রতি মূহুর্তে করতে হয় জীবন সংগ্রাম। বৈচিত্র্যময় জীবনে চলার পথে  জুমচাষ, মাছ ধরা,নদীর ধারে কিংবা পাহাড়ের ঢালে জুম চাষে জীবিকা নির্বাহ । নেই তেমন ব্যবসা বাণিজ্যও। এই এলাকার মানুষের সুখ- শান্তি থাকলেও নেই গড়ে ওঠার জন্য চাহিদাগুলো। তার মধ্যে অন্যতম অপুরণীয় চাহিদা হলো বিনোদন খাত। এই বিষয়টি সমতলের তুলনায় পাহাড়ের শিশুরা পুরোপুরি বঞ্চিত। উপজেলার  সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক ও হাইস্কুল মিলে ৬০ টিরও উপরে বিদ্যালয়। রয়েছে  ১ টি কলেজও। নেই প্রায় স্কুলভিত্তিক কোনো বিনোদন কেন্দ্র। উপজেলা সদরে একটিমাত্র নীলাদ্রি রিসোর্ট ও শিশুর পার্ক থাকলেও নেই বললে চলে বিদ্যালয় ভিত্তিক  শিশুদের বিনোদনের ব্যবস্থা। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিলাইছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, রাজগুরু অগ্রবংশ উচ্চ বিদ্যালয়,ফারুয়া উচ্চ বিদ্যালয়, বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, তক্তানালা ও কেংড়াছড়ি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বিলাইছড়ি মডেল, ভালাছড়ি, বঙ্গলতলী,দোসরী পাড়া, ধুপশীল, উলুছড়ি, তক্তানালা, এগুজ্যাছড়ি, তাড়াছড়ি, যমুনাছড়ি, ভালাছড়ি, হিজাছড়ি, কেংড়াছড়ি বাজার, বেগেনাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর ইনডোরে ছোট- খাটো মাঠ থাকলেও নেই শিশুর পার্কের মতো বিনোদনের ব্যবস্থা। আউটডোরেও নেই কোনো বিনোদন ব্যবস্থা।

এছাড়াও কেংড়াছড়ি নিম্ন মাধ্যমিক, কেরনছড়ি, ম্রাংছড়া, ডাউনপাড়া, জান্দিমোন, বল্লাল ছড়া, পাংখোয়া পাড়া, চাইন্দা পাড়া, গাছকাটাছড়া, ওড়াছড়ি, ফারুয়া, আমকাটা ছড়া, রোয়াপাড়া ছড়া শুক্করছড়ি, গবছড়ি  সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই কোনো মাঠ, কুতুব দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তো একেবারে মাঠ নেই বললেও চলে। তবে সবচেয়ে মাঠ, বিনোদন কেন্দ্র ও নেটওয়ার্ক সুবিধার আওতায় বাইরে বড়থলির বিদ্যালয় ও ওখান কার জনগণ। এছাড়াও বাড়ির ও পাড়ার আশেপাশে নেই তেমন কোনো খেলার মাঠ। হ্রদের পানি শুকালেও জমি ও পলির উপরে খেলাধূলা করা যায় না। নেই এই উপজেলার মানুষের  প্রত্যেকের ঘরে  টিভি, ফ্রিজ ও যাতায়াতের ও যোগাযোগের সুবিধা। 

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন,পাহাড়ি গ্রামের শিশুদের মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রয়োজন সরকারি – বেসরকারিভাবে আন্তরিকতা, পরিকল্পনা, সমন্বিত উদ্যোগ ও ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। অনেক মনে করছেন সরকার বা প্রশাসনের এই বিষয়ে নেই ভাবনা। পার্বত্য এলাকায় মেধা ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ না দিয়ে, আত্মীয় ও দলীয়করণের  মধ্যে দিয়ে  শিক্ষক নিয়োগে দেওয়া হয়। অনিয়মিত ক্লাস।  এ বিষয়ে রয়েছে সরকারের সদিচ্ছার অভাব। এই বিষয়ে  বিদায়ী ইউএনও মুহাম্মদ মামুনুল হক পাহাড়ে শিশুদের বিনোদনের পাশাপাশি সবচেয়ে পুষ্টি ঘাটতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেন। এজন্য তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠায় ১০ টি থেকে ৪৩ টি সরকারি  প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড দ্যা মিল্ক চালুর সুবিধার আওতায় আনার কথা থাকলেও তা এখনো কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে না।  

বিলাইছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম জানান,নিয়মিত খেলার জন্য স্লীপার,দোলনা, ব্যাটমিটন, বলিবল, শিশুতোষ খেলনা, ভারসাম্য স্কেট এবং বিনোদন মূল উপকরণ সংগ্রহ করা যেতে পারে। 

বিলাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি দেওয়ান ও ফারুয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিদ্যালাল তঞ্চঙ্গ্যা জানান, এই উপজেলায় কোনো বিদ্যালয়ে বিনোদন কেন্দ্র নেই। আগে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে থাকলেও বর্তমানে সেখানে হোস্টেল নির্মাণ করা হয়েছে। এখন পরিকল্পনা অনুযায়ী বিদ্যালয়গুলোতে বিনোদন কেন্দ্র করা হয় তাহলে বেশি সুবিধা হবে। এজন্য পার্বত্য উপদেষ্টার ও প্রধান উপদেষ্টার সুদৃষ্টি প্রয়োজন।

শিক্ষা অফিসার নিরালা কান্তি চাকমা জানান, গুনগত শিক্ষা কেবল পাঠ্যপুস্তকে সীমাবদ্ধ নয়। এটি একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া যা শিক্ষার্থীর সার্বিক বিকাশ নিশ্চিত করে। এর জন্য প্রয়োজন ভালো শিক্ষক,  বিদ্যালয় ভিত্তিক খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক চর্চা, বিনোদনের সুবিধা এবং ডিজিটাল লার্নিং প্ল্যাটফর্ম। এর মূল বৈশিষ্ট্য হলো-সম্পূর্ণতা, কার্যকারিতা,প্রাসঙ্গিকতা, সহনশীলতা। গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে কেবল প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার যথেষ্ট নয়, এটি একটি সামাজিক আন্দোলন রুপ দিতে হবে। সরকার, প্রতিষ্ঠান,শিক্ষক, অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পারে একটি কার্যকর শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে। এজন্য দরকার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা,পর্যাপ্ত বিনিয়োগ এবং সর্বপরি শিক্ষার প্রতি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন। 

স্থানীয় গবেষকদের মতে, , পাহাড়ের ঢালে স্থাপিত বিদ্যালয়গুলো আলাদা ভাবে উদ্যোগ নিয়ে শিশুদের জন্য শিক্ষার পাশাপাশি  বিনোদন কেন্দ্র ও খেলা ধূলার মনোনিবেশ যদি গড়ে তোলা যায়, তাহলে এখান থেকে তৈরি হবে, মিতুল মার্মা,ঋতুপর্ণা,জজ্ শ্রীজ্ঞান তঞ্চঙ্গ্যা,শিল্পী মং মার্মা, সাহিত্যিক মৃত্তিকা চাকমা, ধর্মীয়গুরু প্রয়াত রাজগুরু অগ্রবংশ, কম্পিউটার ইঞ্জিনীয়ার নম্রতা তঞ্চঙ্গ্যা, বাক্সার সুর কৃষ্ণ চাকমাসহ কতইনা নাম না জানা । তাহলে বিশ্ববাসী দেখতে পাবে চিরসবুজ পাহাড় এবং চিরসবুজ বাংলাদেশ। সবুজ সুন্দর পাহাড় থেকে ছোট্ট মিষ্টি বাচ্চাদের চোখে ধরা দেবে নতুন দিনের স্বপ্নের ঝিলিক। তবে শিশুদের এ স্বপ্ন দেখা প্রতিনিয়ত বাঁধাগ্রস্থ  হচ্ছে যাথাযত উদ্যোগ ও অভিজ্ঞতা না থাকার কারণে। তাই এখন শুধু সময়ের দাবি শিক্ষার পাশাপাশি শিশুদের জন্য   বিনোদনের ব্যবস্থা করা।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2021-2022
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: BDiT