1. ashiskumarsaha90@gmail.com : Ashish Saha : Ashish Saha
  2. dainikbanglerprottoy@gmail.com : banglar : Nibas Dhali
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
রংপুরে ছয় মাস সংসার করে স্বামীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা। কালীগঞ্জে মাদক বিরোধী মিনিবার ফুটবল টুনামেন্ট অনুষ্ঠিত। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শ্যামনগরে ৭১টি মন্দিরে ড.মনিরুজ্জামানের শুভেচ্ছা উপহার। বিলাইছড়িতে নেতৃত্ব বিকাশ ও সামাজিক উন্নয়ন বিষয়ক তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু। কয়রায় আন্তর্জাতিক দূর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত । খুলনা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের মনিটরিং সেল গঠন  রতন মিত্র আহবায়ক ও সুমন দাস সদস্য সচিব । কেশবপুরে অভিভাবক ও কিশোরীদের সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত। কেশবপুরে জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে স্ক্রিনিং ক্যাম্প অনুষ্ঠিত। কেশবপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে অসহায় মানুষের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণ। জনদুর্ভোগের কথা শুনলেন মেয়র পদপ্রার্থী, নির্বাচিত হলে উন্নয়নের আশ্বাসদেন ইমদাদুল হক ইমদাদ।

কয়রায় কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙ্গন   আতংকে এলাকাবাসী।

রিপোর্টার নাম
  • প্রকাশিত তারিখ : সোমবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩
  • ২৪৫ বার পঠিত

অরবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনা ঃ 

উপকূলীয় জনপদ সুন্দরবন সংলগ্ন খুলনার কয়রায় কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। হঠাৎ এক রাতে বেড়িবাঁধের ভাঙ্গনে এলাকার মানুষ আতংকে রয়েছে।  

১৮ সেপ্টেম্বর সোমবার ভোরে কয়রা উপজেলার ২ নং কয়রা গ্রামে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বাঁধের ১৩-১ নং পোল্ডারের ২০০ মিটার অংশ ভাঙ্গনের কারণে নদে ধ্বসে পড়ে।বেড়িবাঁধ ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে বাঁধসংলগ্ন ২ নং কয়রা, গোবরা, ঘাটাখালী, হরিণখোলা, মদিনাবাদ গ্রাম সহ কয়রা উপজেলা সদরের প্রায় ১০ হাজার মানুষ। এ ছাড়া ভাঙনরোধে অবিলম্বে পাউবোর পক্ষ থেকে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে প্রায় দুই হাজার একর আমনের ক্ষেতসহ অসংখ্য মাছের ঘের নদের লোনা পানিতে ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় লোকজন। ২ নং কয়রা গ্রামের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল রোববার সন্ধ্যায় গ্রামের কপোতাক্ষ নদের তীরবর্তী বাসিন্দারা বেড়িবাঁধে হঠাৎ ফাটল ও ধ্বস দেখেন। সহায়-সম্পত্তির ক্ষতির আশঙ্কায় এলাকার কিছু মানুষ ওই রাতেই বাঁধ রক্ষায় কাজ শুরু করেন। তবে আজ ভোরে ভাঙনরোধে পাউবোর দেওয়া পাঁচ শতাধিক জিও ব্যাগ ও বড় বড় মাটির খণ্ড নিয়ে বেড়িবাঁধের ২০০ মিটার অংশ মুহূর্তেই নদে বিলীন হয়ে যায়। ২নং কয়রা গ্রামের বেড়িবাঁধ এলাকার বাসিন্দা দুঃখীরাম মণ্ডল বলেন, গত রাত থেকেই মাটি-বালুভর্তি বস্তা ধ্বসে যাওয়া জায়গায় ফেলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে ভাঙন আটকানোর চেষ্টা করেছেন তাঁরা। তবে সকাল হতেই ভাঙনের পরিধি বেড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে কী হবে, তা বলা যাচ্ছে না। আজ সকালে বেড়িবাঁধ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বাঁধের যে স্থান ভেঙে গেছে, এর দুই পাশের মাটি সরে গিয়ে বালু বেরিয়ে গেছে। ওই বালু ঢেউ লেগে ধুয়ে যাচ্ছে। ধ্বসে যাওয়া স্থানে সংস্কারের চেষ্টা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কেউ পাশ থেকে মাটি কেটে ধ্বসে যাওয়া স্থানে ফেলছেন; আবার কেউ বাঁধের ঢাল থেকে জিও ব্যাগ তুলে ধ্বসে যাওয়া বাঁধের স্থানে দিচ্ছেন। ২নং কয়রা গ্রামের বাসিন্দা আবু মুসা ও আসলাম হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মাত্র দুই বছর আগে এই বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। অথচ এরই মধ্যে বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। তাঁরা আরও বলেন, বেড়িবাঁধ নির্মাণের সময় ওপরে এবং বাঁধের দুই পাশে মাটি দেওয়া হলেও ভেতরে বালু দেওয়া হয়। এ কারণে বাঁধ দুর্বল হয়ে ধ্বসে গেছে।

কয়রা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নং ওয়ার্ডের সদস্য আবুল কালাম শেখ বলেন, এর আগে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে বাঁধের ওই স্থান ভেঙে গিয়েছিল। সে সময় পাউবো ওই বাঁধ মেরামতের উদ্যোগ নেয়। তবে সঠিক তদারকি না থাকায় কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অপরিকল্পিতভাবে বাঁধটি মেরামত করে। এ কারণে দুই বছর না যেতেই বাঁধটি ভাঙনের শঙ্কার মুখে পড়েছে। তিনি আরও বলেন, আজ সকাল থেকে ভাঙন কবলিত স্থানে নদের পানিতে ঘূর্ণায়মান প্রবাহ দেখা যাচ্ছে। এতে বাঁধের নিচের অংশের মাটি দ্রুত সরে যাচ্ছে। বাঁধ যাতে না ভাঙে, সে জন্য নদের তীরে পাকা ব্লক দেওয়া দরকার।

কয়রা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এস এম শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ভাঙন কবলিত স্থানে গিয়েছিলাম, বিষয়টি পাউবোর কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় প্রাথমিকভাবে পানি প্রবেশ ঠেকাতে পারলেও ভাঙনরোধে দ্রুত পাউবোকে পদক্ষেপ নিতে হবে; অন্যথায় নদের তীরবর্তী জনপদের বিস্তীর্ণ এলাকা বিলীন হওয়ার আশঙ্কা আছে।
’খুলনা পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মুহম্মাদ জসীম উদ্দিন বলেন, ‘কয়রার এসব বেড়িবাঁধ এত দিন সাতক্ষীরা জেলার আওতাধীন ছিল। দুই বছর আগে ২ নং কয়রা এলাকার বেড়িবাঁধটি জাইকার অর্থায়নে সাতক্ষীরা পাউবো নির্মাণ করেছিল। আমরা খুলনা পাউবো সম্প্রতি দায়িত্ব পেয়েছি। তবে প্রশাসনিক জটিলতা এখনো কাটেনি। আমি আজ ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাঙন কবলিত ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ সংস্কার করা হবে।’

কয়রা, খুলনা প্রতিনিধি
তারিখ: ১৮/০৯/২৩ ইং।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2021-2022
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: BDiT