অরবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনাঃ
আজ ১৪ ফেব্রুয়ারী, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। বিশ্বজুড়ে যখন লাল গোলাপ আর ভালোবাসার আদান-প্রদান চলছে, ঠিক তখনই উপকূলের মানুষের কাছে এই দিনটি ধরা দিয়েছে এক ভিন্ন তাৎপর্যে। প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে আজকের এই দিনটি কেবল বসন্তের উদযাপন নয়, বরং বিশ্ব ঐতিহ্যের ধারক '‘সুন্দরবন দিবস’'। সুন্দরবন দিবসের অঙ্গীকার হোক - সুন্দরবন ভালো থাকলে, ভালো থাকবে দেশ।
২০০১ সাল থেকে শুরু হওয়া এই বেসরকারী উদ্যোগটি এখন উপকূলীয় জেলা ছাড়িয়ে রাজধানী পর্যন্ত বিস্তৃত। “সুন্দরবন ভালো থাকলে ভালো থাকবে বাংলাদেশ”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে আজ দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দিবসটি।
প্রায় ৬ হাজার বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই বিশাল বনভূমি কেবল গাছপালার সমাহার নয়, বরং এক জীবন্ত বাস্তুসংস্থান। জোয়ার-ভাটার ছন্দে প্রাণ পায় এই ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট। সুন্দরী, গোলপাতার নিবীড় অরণ্য আর রয়েল বেঙ্গল টাইগারের পদচারণায় মুখরিত এই বন আমাদের ৪২ প্রজাতির বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আশ্রয়স্থল।
কয়রা উপজেলা জলবায়ু পরিষদের সমন্বয়ক নিরাপদ মুন্ডা বলেন, "সুন্দরবন কেবল আমাদের সম্পদ নয়, এটি দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষের প্রাকৃতিক বর্ম। প্রতিটি ঘূর্ণিঝড় আর জলোচ্ছ্বাসে সুন্দরবন বুক পেতে আমাদের রক্ষা করে। এই ঐশ্বর্য্যকে টিকিয়ে রাখা আমাদের অস্তিত্বের লড়াই।”
সাধারণত ১৪ ফেব্রুয়ারি মানেই প্রিয়জনকে উপহার দেওয়া। কিন্তু কয়রা উপজেলার তরুণ সমাজ ও ‘ইয়ুথ ফর সুন্দরবন’-এর সদস্যরা ডাক দিচ্ছেন ভালোবাসার পরিধি বাড়ানোর। তাদের মতে, সুন্দর মন আর বনের সৌন্দর্য মিলেমিশে একাকার হওয়া উচিত। ইয়ুথ ফর সুন্দরবন-এর কোষাধ্যক্ষ মোঃ ফরহাদ হোসেন জোরা দাবী জানিয়ে বলেন, “নতুন সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা—সুন্দরবনকে রক্ষার গুরুত্ব বিবেচনা করে অবিলম্বে ১৪ ফেব্রুয়ারীকে ‘সরকারীভাবে’ সুন্দরবন দিবস ঘোষণা করা হোক।”
লবণাক্ত মাটি আর মিঠা পানির এই মিলনস্থলে গড়ে ওঠা পৃথিবীর একক বৃহত্তম এই ম্যানগ্রোভ বন আজ জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জের মুখে। সুন্দরবনের প্রতি মানুষের সচেতনতা ও মমত্ববোধ বৃদ্ধি পাওয়াই এই দিবসের সার্থকতা। এই ভালোবাসা দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হোক—“সুন্দরবন বাঁচলে, বাঁচবে দেশ; গড়ে উঠবে সবুজ বাংলাদেশ।”
কয়রা, খুলনা প্রতিনিধি
তারিখঃ ১৪/০২/২৬ ইং।