পরেশ দেবনাথ, বিশেষ প্রতিনিধি।
কেশবপুরের ঐতিহ্যবাহী সাগরদাঁড়িতে দীর্ঘ প্রায় পঁচিশ বছর পর একটি মন্দিরের জমি দখল মুক্ত হওয়ায় শান্তির বাতাস বইছে।
প্রায় পচিশ বছর পূর্বে যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামের সুভাষ বিশ্বাসের বাড়ি- ঘর কপোতাক্ষ নদের করাল গ্রাসে ভেঙ্গে তছনছ হয়ে যায়। নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় তার বসত ভিটা। অবশেষে স্হানীয় প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় বাড়ির পাশে আবারও কপোতাক্ষ নদের তীরে সরকারী একটু উঁচু জমিতে কোন প্রকারে মাথা গোঁজার ঠাঁই করে নেয়। কথা ছিল অন্যত্র জমি কিনে এ জমি ছেড়ে দেবে। কারণ এটি পূজা মন্দিরের আওতাভুক্ত খাস জমি। সেই থেকে সুভাষের বসতি সেখানে।
তার বাড়ির উত্তর পাশে সরকারী খাস জমিতে বড় একটি জায়গা জুড়ে রয়েছে প্রায় আড়াই শত বছরের প্রাচীন ঐতিহাসিক একটি বড় বটগাছ। মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের বাড়ির অদূরে পূর্ব দিকে কপোতাক্ষ নদের তীরে এ বটগাছটির অবস্হান। কবি তার বাল্যস্মৃতি রোমন্থন করতে যেয়ে বটগাছকে নিয়ে বটবৃক্ষ নামক একটি সনেট কবিতাও তিনি লিখেছেন।এ বটগাছের দুই পার্শ্বে হিন্দু সনাতনী মালো সম্প্রদায়ের বসবাস। ক্রমান্বয়ে এ বটতলাটি হয়ে ওঠে তাদের ধমীয় আচার অনুষ্ঠানের একমাত্র তীর্থস্হানে। বট গাছটি সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড়ে উপড়ে পড়েছে। এই বটগাছ তলায় গড়ে ওঠে নামযজ্ঞের উন্মুক্ত গোলচত্বর ও একটি মন্দির ঘর।
এবার এই প্রথম বারের মত তারা এখানে দূর্গা পূজা করার জন্য একটি পূজা মন্দির নির্মাণের জন্য উদ্যোগ নেয় আর তখনি সুভাষ বিশ্বাসের সঙ্গে পাড়া- প্রতিবেশীদের মধ্যে বাঁধে চরম বিরোধ। তাদের দাবী সুভাষ বিশ্বাসের বসতঘরের মধ্যে মন্দিরের জমি রয়েছে তা এবার ছেড়ে দিতে হবে। এ জমি ছেড়ে দেয়ার দাবী শুধু আজকের নয় প্রায় পঁচিশ বছরের।
সম্প্রতি, মালোপাড়া পূজা উদযাপন কমিটির আহবানে কেশবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী মেশকাতুল ইসলাম সরেজমিন ঘটনাস্হল পরিদর্শন করে দুই দিনপরে সার্ভেয়ার তোফাজ্জেল হোসেন-কে পাঠান। তিনি মেপে সুভাষ বিশ্বাসের বসত ঘরের মধ্যে ছয় ফুট জমি পূজা কমিটির পাওনা হয়। সুভাষ বিশ্বাসও উত্তর পার্শ্বের জমি ওয়ালার মধ্যে ছয় ফুট জমি পায় এবং তা নিজের দখলেও নিয়ে নেয় কিন্তু সুভাষ বিশ্বাস এবার তার বসত ঘর ভাঙতে নারাজ।
এবার এ পাড়ার নিরানব্বই ঘর মানুষ এক দিকে আর সুভাষ বিশ্বাসের পরিবার একদিকে। বিরোধ যখন চরম পর্যায়ে ঠিক তখনি কেশবপুর প্রেসক্লাবের সদস্য ও দৈনিক পূর্বাঞ্চল পত্রিকার সাংবাদিক রাজ্জাক আহম্মেদ রাজু-এর একান্ত প্রচেষ্টায় দুই পক্ষের চরম বিরোধের অবসান ঘটে। সুভাষ বিশ্বাস দক্ষিণ পার্শ্ব থেকে তার বসতঘর ছয় ফুট নিজে ভেঙে নেয় আর পূজা উদযাপন কমিটি সুভাষ বিশ্বাসের ঐ বসত ঘরের উত্তর পার্শ্বে নতুন ইট দিয়ে ছয় ফুট ঘর তৈরী করে দেন। এখন সাগরদাঁড়ি মালোপাড়ায় শান্তির সুবাতাস বয়ে চলেছে।
ছবিঃ
২৪/০৮/২৬