নাজিরুল ইসলাম, শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:
বগুড়ার শাজাহানপুরের মানিকদিপা এলাকায় দূর্বৃত্তের শত্রুতায় বলি কৃষকের লাউ গাছ।
সোমবার দিবাগত রাতের আধারে মানিকদিপা উত্তরপাড়ার মৃত: আব্দুল লতিফের ছেলে কৃষক গোলাম মোস্তফার জমির তরতাজা লাউ গাছ কেটে দিয়েছে কিছু দূর্বৃত্তরা।
সরেজমিনে কৃষক মোস্তফা জানান, গত আশ্বিন মাসের শেষের দিকে ১২ শতক কচুর জমিতে হাইব্রিড জাতের লাউয়ের বীজ বোপণ করেছিলাম। কার্তিক মাসের মাঝামাঝি সময়ে গাছে গাছে ফুল আসতে শুরু করে। এখন প্রতিটি গাছের ডগায় ডগায় কেবল লাউ আর লাউ। গতকাল সোমবার প্রথম ঐ জমি হতে মাত্র ২৫টি লাউ কেটে প্রতি পিছ ৩০টাকা দরে বিক্রি করি।
মঙ্গলবার খুব সকালে লাউ জমি সেচ দিয়েছি তবু বুঝতে পারিনি। সেচ দেয়া শেষে হঠাৎ একটি লাউ গাছের গোড়া কাটা চোখে পরে। পরে দেখি আমার ১২ শতক জমির প্রত্যেক গাছের গোড়া কেটে দেয়া। সংস্বার জীবনে আমার তেমন কারো সাথে বিরোধ ছিল না বা নেই। কিন্তু হঠাৎ আমার এত বড় ক্ষতি কে বা কাহারা করল সেটা বুঝে উঠতে পারছি না।
একই গ্রামের কাঁচামাল ব্যবসায়ী আক্কাস আলী জানান, মোস্তফার লাউ গাছের প্রতিটি ডগায় ডগায় ফুল আর ফুল। সবেমাত্র গাছে গাছে লাউয়ের জালি দেখা যাচ্ছে। আমার কাছে গত সোমবার মাত্র ২৫টি লাউ বিক্রি করেছে ৭৫০ টাকায়। এবার লাউসহ সকল সবজি চড়া দামে ক্রয় করা হচ্ছে। সেই তুলনায় মোস্তফার জমির লাউ গাছ কেটে দেয়ায় এতে তার প্রায় ৭০-৮০ হাজার টাকার লোকসান হল।
অপর এক কৃষক গোলাম মিয়া বলেন, মানুষের সাথে শত্রুতা থাকতে পারে। সেই শত্রুতার বলি তো লাউ গাছ বা কোন জমির সবজির বাগান নিধন হতে পারে না। এরা মানুষ নামের নরপশু।
এমন জঘন্যতম ন্যাক্কারজনক কাজে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন অত্র গ্রামের অনেকেই।
এঘটনায় শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, জমির গাছ কেটে দেয়া আর প্রাণী হত্যা দুটাই সমান অপরাধ। এমন ঘটনায় জড়িতদের আইনানুগ শাস্তির ব্যবস্থা নেয়া হবে।