মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি::
মণিরামপুরে ৪৫ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলায় চাঁদপুর-মাঝিয়ালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন মুন্নাকে আদালত এবার এক বছরের সাজা দিয়েছেন। এ নিয়ে তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলায় মোট ৩ বছরের সাজা হলো। এবার ব্যবসায়ী হাশেম আলীর দায়ের করা মামলায় আদালত তাকে সাজা দিলেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে ৩ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এবং গ্রেফতার পরোয়ানাভূক্ত জামাল আত্মগোপনে রয়েছেন। ফলে পুলিশ এখনও তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
জানাযায়, প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন উপজেলার খেদাপাড়া ইউনিয়নের মাঝিয়ালী গ্রামের মৃত সুজাউদ্দিনের ছেলে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জামাল উদ্দিন মুন্না ছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান (২০১৪ সালে) আমজাদ হোসেন লাভলুর খুব আস্থাভাজন ব্যক্তি। ২০১৮ সালে নাজমা খানম উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবার পর খোলস পাল্টে রাতারাতি নাজমা খানমের আস্থা অর্জন করতে সমর্থ হন জামাল উদ্দিন মুন্না। ফলে দুই চেয়ারম্যানের আমলে এলাকার তার ছিল বেশ প্রভাব। সেই সুবাদে চাকুরি দেওয়ার নামে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। এছাড়া স্কুলে চাকুরির পাশাপাশি তিনি আত্বীয় স্বজনদের নামে ঠিকাদারী ব্যবসা শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে ঠিকাদারী ব্যবসায় পার্টনারশিপ দেওয়ার কথা বলে তিনি বেশ কয়েক ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। সর্বশেষ তিনি ব্যবসায়ী হাশেম আলীর কাছ থেকে ৪৫ লাখ টাকা নেন। এর বিপরীতে তিনি হাশেম আলীকে পূবালী ব্যাংক পিএলসি, মনিরামপুর শাখার নিজ একাউন্টের একটি ৪৫ লাখ টাকার চেক প্রদান করেন। কিন্তু একাউন্টে কোন টাকা জমা না থাকায় হাশেম আলী ২০২৪ সালে আদালতে একটি মামলা করেন। সেই মামলায় যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ শান্তনু কুমার মন্ডল জামাল উদ্দিনকে গত ১ জুলাই এক বছরের সাজা ও ৪৫ লাখ জারিমানা করেন।
এছাড়া ইতোপূর্বে ব্যাংক কর্মকর্তা আলতাফ হোসেনের স্ত্রী নাজমা বেগমের কাছ থেকে জামাল উদ্দীন মুন্না কয়েক দফায় ১২ লাখ ধার নেন। পরে নাজমা বেগমকে-পূবালী ব্যাংক পিএলসি মনিরামপুর শাখার নিজ একাউন্টের ১২ লাখ টাকার একটি চেক দেন। কিন্তু একাউন্টে টাকা না থাকায় ২০২৩ সালের ২২ জুন জামাল উদ্দীন মুন্নার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী নাজমা বেগম আদালতে মামলা করেন। যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ শান্তনু কুমার মন্ডল জামাল উদ্দিনকে গত ৪ মে এক বছরের সাজা ও ১২ লাখ জারিমানা করেন।
এছাড়া উপজেলার মাতৃভাষা কলেজের অধ্যক্ষ হাসানুল কবিরের স্ত্রীকে রোহিতা ইউনিয়নে গাঙ্গুলিয়া প্রতিবন্ধী স্কুলে চাকুরি দেওয়ার নামে ৮ লাখ টাকা নেন প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন। কিন্তু চাকুরি দিতে ব্যর্থ হওয়ায় অধ্যক্ষকে আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি মনিরামপুর শাখার আট লাখ টাকার একটি চেক প্রদান করেন মুন্না। কিন্তু তার একাউন্টেও কোন টাকা না থাকায় অধ্যক্ষ আদালতে মামলা করেন। ২০২২ সালের ৩১ জুলাই যশোরের যুগ্ম দায়রা জজ শিমুল কুমার বিশ্বাস প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন কে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড ৮ লাখ টাকা জরিমানা করেন। মোট তিন মামলায় ৬৫ লাখ টাকার মামলায় পৃথকভাবে ৩ বছরের কারাদন্ড হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে তিন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এবং গ্রেফতার পরোয়ানাভূক্ত জামাল আত্মগোপনে রয়েছেন। ফলে পুলিশ এখনও তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি। মনিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু সাঈদ জানান, ওয়ারেন্টভূক্ত আসামি জামাল উদ্দিনকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের জোর তৎপরতা রয়েছে। এদিকে আদালতে সাজা হওয়ার খবর প্রচার হলে চাঁদপুর-মাঝিয়ালি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সম্রাট হোসেন জানান, অতি শিঘ্রই সাজাপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নূরুল হক
মনিরামপুর, যশোর।
তারিখ-০৩/০৭/২০২৬ইং।