সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,
বিলাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি
রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল ১১টায় উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা অফিসের আয়োজনে দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রাজেশ প্রসাদ রায়, ইন্সট্রাক্টর বখতেয়ার হোসেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসার নিরালা কান্তি চাকমা, প্রভাষক ইয়াসমিন সুলতানা এবং শিক্ষক সমিতির সভাপতি রঞ্জন তঞ্চঙ্গ্যা। সভাটি সঞ্চালনা করেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রুবেল বড়ুয়া।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন থানা পুলিশের এসআই তৌকির আহমেদ, কেংড়াছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শান্তিবরণ তালুকদার, উপজেলা সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন এবং শিক্ষক পুতুল চন্দ্র তঞ্চঙ্গ্যা, জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা, সুমী চক্রবর্তী, মনিষা দেওয়ানসহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে অনেক সময় শিক্ষকদের হেনস্তার শিকার হতে হয়। এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে সবাইকে বেরিয়ে আসতে হবে। একটি সাধারণ অ্যাসেম্বলি পরিচালনা করতে গিয়েও শিক্ষকদের নানা ধরনের হেনস্তার শিকার হতে হয়। অথচ শিক্ষকরা মানুষ গড়ার কারিগর এবং একটি সুন্দর সমাজ ও দেশ গঠনে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শিক্ষকরাই পারেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিকভাবে গড়ে তুলে পৃথিবীকে বদলে দিতে।
বক্তারা আরও বলেন, অতীতে সমাজে শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান দেওয়া হতো। বর্তমানে সেই সম্মান অনেক ক্ষেত্রে কমে গেছে। শিক্ষার্থীদের শাসন করতে গেলেও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। ফলে অনেক শিক্ষক শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় শাসন ও দিকনির্দেশনা দিতে সংকোচ বোধ করেন। শিক্ষাক্ষেত্রে মূল্যবোধের অবক্ষয় পরিবার, সমাজ, শিক্ষক নাকি রাষ্ট্র—সবারই এ বিষয়ে দায়িত্ব রয়েছে।
তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিলেই হবে না; পাশাপাশি মানবিক শিক্ষা, ধর্মীয় মূল্যবোধ, সামাজিক শৃঙ্খলা ও নৈতিক শিক্ষা দেওয়া জরুরি। পরিবার থেকেই শিক্ষার্থীদের সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের শিক্ষা দিতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে পরিবার ও সমাজকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
বক্তারা শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান, আবাসন সুবিধা, বেতন বৃদ্ধি, মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।