সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,
বিলাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি:
রাঙ্গামাটির বিলাইছড়িতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আশিকা ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েটস-এর বাস্তবায়নাধীন “এক্সেস টু অ্যান্ড ইউটিলাইজেশন অব লাইফসেভিং সার্ভিসেস বাই দ্য মার্জিনালাইজড কমিউনিটিস ইন সিএইচটি ইন বাংলাদেশ” প্রকল্পের উপকারভোগী ও স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট ২০২৬) সকাল ১১টায় উপজেলা কনফারেন্স কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রামাচরণ মার্মা (রাসেল)-এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মেডিকেল অফিসার ডা. মো. ওমর ফারুক। প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর রবীন চন্দ্র চাকমা পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে প্রকল্পের কার্যক্রম, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শান্তি রায় চাকমা (রায় বাবু), মহিলা মেম্বার কবিতা চাকমা, মনিলতা তঞ্চঙ্গ্যা, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রুবেল বড়ুয়া, ওয়ার্ড মেম্বার সুবানন্দ তঞ্চঙ্গ্যা, যতীন তঞ্চঙ্গ্যা, দয়ারঞ্জন চাকমা, থুই প্রু কার্বারী, প্রাণিসম্পদ অফিসের শান্তি চাকমা, পাবলিক হেলথের বসন্ত চাকমা, আশিকা সংস্থার সুজন তঞ্চঙ্গ্যাসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনালের অর্থায়নে তিন পার্বত্য জেলায় সমন্বিত পুষ্টি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (WASH) কার্যক্রমের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাঁচ বছরের কম বয়সী ঝুঁকিপূর্ণ শিশু ও তাদের পরিবারের পুষ্টিগত অবস্থা, স্বাস্থ্যগত সহনশীলতা এবং সামগ্রিক কল্যাণের উন্নয়ন করাই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের তীব্র অপুষ্টি প্রতিরোধ, দ্রুত শনাক্তকরণ ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি SAM ও MAM আক্রান্ত শিশুদের পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা ও টেকসই জীবিকা শক্তিশালী করা এবং লক্ষ্যভুক্ত জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ পানীয় জল ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন সুবিধার প্রাপ্যতা বৃদ্ধি করা।
মূলত জীবিকা উন্নয়ন ও হাইজিন প্রমোশনের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের MUAC ও Z-score পরিমাপের মাধ্যমে মাঝারি ও তীব্র অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের শনাক্ত করা হচ্ছে।
প্রকল্পের মাধ্যমে ইতোমধ্যে বিলাইছড়ি উপজেলায় ২৯ জন মাঝারি অপুষ্টিতে আক্রান্ত এবং ৩ জন তীব্র অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশু শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া প্রকল্পের আওতায় ১২টি অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশু পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে IGA সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।