অরবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনাঃ
বিজয় দশমীর বিজয়াতে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হলো দীর্ঘ প্রতীক্ষায়িত শারদীয় দুর্গোৎসব ২০২৬।
বিপদনাশিনী আদ্যাশক্তি মহামায়া মা দুর্গা ১০ অক্টোবর মহালয়ার শুভ তিথিতে ঘোড়ায় আগমন ঘটিয়ে ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠী, মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী ও মহানবমীতে এই ধরাধামে বাপেরবাড়ীতে অবস্থান করে ২১ অক্টোবর বিজয় দশমীতে কৈলাসে স্বামীর ঘরে গমন করার মাধ্যমে শারদীয় দুর্গোৎসব ২০২৬ এর পরিসমাপ্তি ঘটলো।
এবছর কয়রা উপজেলায় ৫৭ টি সহ খুলনা জেলায় ৮৯০ টি দুর্গা পূজা অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।
যেয়ো না, রজনী, আজি লয়ে তারাদলে!
গেলে তুমি, দয়াময়ি, এ পরাণ যাবে!
উদিলে নির্দ্দয় রবি উদয়-অচল,
নয়নের মণি মোর নয়ন হারাবে!"
আজ বিজয়া দশমী। শরতের নীল আকাশে কাশফুলের দোলা আর শিউলির সুবাসে বাংলার প্রকৃতির সাথে ঢাকের বাদ্যে কয়েক দিন ধরে মুখর ছিল চারপাশ। মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীর আরাধনার পর আজ এসেছে বিদায়ের পালা। বিজয়া দশমী তাই একদিকে উৎসবের সমাপ্তি, অন্যদিকে মায়ের ফিরে যাওয়ার বিষণ্ণতা। প্রতিমা বিসর্জনের সঙ্গে শেষ হয় পূজার আনুষ্ঠানিকতা, কিন্তু থেকে যায় আনন্দের স্মৃতি, মানুষের ভালোবাসা আর আগামী বছরের অপেক্ষা।
হিন্দু পুরাণে মাতৃশক্তির প্রতীক দেবী দুর্গাকে বলা হয় আদ্যাশক্তি মহামায়া। মহিষাসুরবধের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার বিজয় অশুভের ওপর শুভের প্রতীকায়িত বিজয়ের স্মরণেই পালিত হয় বিজয়া দশমী। শারদীয় দুর্গোৎসব কেবল ধর্মীয় আচার নয়; এটি বাঙালির সামগ্রিক সাংস্কৃতিক জীবনেরও এক আনন্দময় উৎসব। আর বিজয়া দশমী এই উৎসব সমাপ্তি হলেও ধর্ম-বর্ণের গণ্ডি পেরিয়ে সকলের মধ্যে আনন্দ, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিয়ে শুভবুদ্ধির উদয়ের এক আবেগঘন উপলক্ষ।
আজ দেবী দুর্গা ফিরে যাবেন কৈলাসে। মায়ের বিদায়ে মন ভার হলেও এই বিশ্বাস আছে সবার মনে যে আবারও শরৎ আসবে, ঢাক বাজবে, মণ্ডপ সাজবে, আর মা ফিরবেন তাঁর সন্তানদের মাঝে। ততদিন উৎসবের আনন্দ ও বিজয়ার শুভেচ্ছা বেঁচে থাকুক আমাদের আচরণে, সম্পর্কের উষ্ণতায় এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসায়।