মোস্তাফিজুর রহমান মিন্টু, কেশবপুর প্রতিনিধি:।
যশোরের কেশবপুর পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি, আইডিয়াল কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এবং সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় থাকা প্রভাষক গাজী ফারুকে আজম দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, সমাজসেবা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের কাছে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি ব্যক্তিগত অর্থায়নে জনগণের চলাচলের সুবিধার্থে বিভিন্ন এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারে সহযোগিতা করেছেন। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় নিজ উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে ২০২৬ সালে কেশবপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন সড়কের পাশে অসংখ্য গাছ রোপণ করেছেন। পরবর্তীতেও পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ধারাবাহিকভাবে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
শুধু অবকাঠামো বা পরিবেশ নয়, অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়েও তিনি স্থানীয়দের প্রশংসা অর্জন করেছেন। বিভিন্ন সময়ে আর্থিক সহায়তা, সামাজিক উদ্যোগ এবং মানবিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন বলে এলাকাবাসী জানান।
শিক্ষা ক্ষেত্রেও তার অবদান উল্লেখযোগ্য। আইডিয়াল কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি শিক্ষা বিস্তারে কাজ করেছেন। এছাড়া মসজিদ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নেও সহযোগিতা করেছেন বলে স্থানীয়রা জানান।
সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে তিনি বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে আসছেন। সম্প্রতি কেশবপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বালিয়াডাঙ্গায় হিন্দু সম্প্রদায়ের এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে যোগ দিলে বিপুলসংখ্যক মানুষ তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত তার সমর্থকদের একাংশ তাকে কেশবপুর পৌরসভার ভবিষ্যৎ মেয়র হিসেবে দেখতে চান বলে মত প্রকাশ করেন।
একইভাবে পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে অনুষ্ঠিত সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া অনুষ্ঠানে নিয়মিত অংশগ্রহণ করে তিনি মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, "ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষ আমার আপন। সুযোগ পেলে জনগণের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করবো। কেশবপুর পৌরসভাকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও উন্নত পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করবো।"
এছাড়া সমাজে মাদক ও অনলাইন জুয়ার কুফল সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে তিনি বিভিন্ন সামাজিক সচেতনতামূলক প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন বলে তার সহযোগীরা জানান। তরুণ সমাজকে মাদক ও অনলাইন জুয়া থেকে দূরে রাখতে বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও জনসংযোগ কার্যক্রমেও তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
নাগরিক সেবাকে আরও সহজ ও আধুনিক করার লক্ষ্যে একটি ডিজিটাল ও মডেল পৌরসভা গড়ে তোলার স্বপ্নের কথাও বিভিন্ন সময় তুলে ধরেছেন তিনি। তার মতে, প্রযুক্তিনির্ভর নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা গেলে পৌরবাসী আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ সেবা পাবেন।
এদিকে, তার সমর্থকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সবুজায়ন কর্মসূচিকে আরও বেগবান করতে তিনি বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। তারা জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত পরিবেশ ও সবুজায়ন-সংক্রান্ত কর্মসূচির আলোকে এই বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬-এর ফাইনাল উপলক্ষে ৩ নম্বর ওয়ার্ডে দরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ এবং খেলাপ্রেমীদের জন্য একসঙ্গে খেলা উপভোগ ও আপ্যায়নের ব্যবস্থাও করেন তিনি। এ উদ্যোগ এলাকাবাসীর মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলে।
তার সমর্থকদের দাবি, একজন শিক্ষিত, সৎ, ভদ্র ও সমাজসেবায় নিবেদিত ব্যক্তি হিসেবে প্রভাষক গাজী ফারুকে আজম সুযোগ পেলে কেশবপুর পৌরসভার উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন। বিভিন্ন হাট-বাজার, মহল্লা ও সামাজিক আড্ডায় তাকে নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হচ্ছে বলেও তারা জানান।
এছাড়া বিভিন্ন ওয়ার্ডের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মীরা তাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে ভবিষ্যৎ পথচলায় সাফল্য কামনা করেছেন বলে তার সমর্থকদের বক্তব্য। তাদের মতে, উন্নয়ন, মানবিকতা, শিক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে তিনি মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, শিক্ষা, সমাজসেবা, পরিবেশ সংরক্ষণ, জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রভাষক গাজী ফারুকে আজমকে ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে নির্বাচনী ফলাফল শেষ পর্যন্ত ভোটারদের রায়ের ওপরই নির্ভর করবে।
ছবি
২১/০৭/২৬