মুক্তাগাছা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি :।
দীর্ঘদিনের রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে বিএনপির ছাত্ররাজনীতিতে পরিচিত মুখ মো. জাহাঙ্গীর আলম। আসন্ন মুক্তাগাছা উপজেলার ৭ নম্বর ঘোগা ইউনিয়ন যুবদলের কমিটিতে সভাপতি পদে তার নাম আলোচনায় রয়েছে বলে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
ছাত্রদল ও যুবদলের একাধিক নেতাকর্মী জানান, দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ের রাজনীতিতে সক্রিয় জাহাঙ্গীর আলম দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন, আন্দোলন-সংগ্রাম এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। দলের দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় থাকার কারণে তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে তিনি একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে পরিচিত।
মুক্তাগাছা উপজেলার ৭ নম্বর ঘোগা ইউনিয়নের চানপুর গ্রামের সন্তান জাহাঙ্গীর আলমের রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে। এরপর উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তিনি স্থানীয় রাজনীতিতে পরিচিতি লাভ করেন। তার ছোট ভাই শওকত হোসেন উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি।
দলীয় সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার কারণে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। মামলা এড়াতে বিভিন্ন সময়ে তাকে আত্মগোপনে থাকতে হয়েছে। এ সময় তার ব্যবসায়ও ক্ষতির মুখে পড়ে বলে পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীরা জানান। পাশাপাশি রাজনৈতিক কারণে তিনি ও তার পরিবার বিভিন্ন ধরনের চাপ, হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন দলীয় নেতাকর্মীরা।
সূত্র আরও জানায়, একাধিকবার তার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পারিবারিকভাবে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় তাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধরনের চাপ ও নিপীড়নের মুখে ছিল বলে দাবি করা হয়।
২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ সালের সরকারবিরোধী আন্দোলনসহ বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে জাহাঙ্গীর আলম সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। এছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মুক্তাগাছার বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনে অংশ নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনায় আসেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় এবং ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়নের বিষয়টি বিএনপির বর্তমান সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্ব পাচ্ছে। সেই বিবেচনায় ঘোগা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি পদে জাহাঙ্গীর আলমের নামও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে।
এ বিষয়ে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “দল আমাকে যে দায়িত্ব দেবে, তা নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে পালনের চেষ্টা করব। আমার কাছে দলীয় সিদ্ধান্তই সর্বোচ্চ। ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও মুক্তাগাছা-৫ আসনের সংসদ সদস্য জাকির হোসেন বাবলু ভাইয়ের নেতৃত্বের প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তিনি যে সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটিই আমি মেনে নেব।”