নিজস্ব প্রতিবেদক।
আউটসোর্সিং কর্মচারী নিয়োগের ভাইভা পরীক্ষা নিয়ে তুলকালাম কান্ড ঘটেছে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (খুমেক)। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ ডাকতে বাধ্য হন কর্তৃপক্ষ। তবে টেন্ডারে অংশ নেওয়া এক ঠিকাদারের নিযুক্ত কর্মী ও বহিরাগতদের হুমকির মুখে পরীক্ষা না দিয়ে ফিরে গেছেন অনেকে। এ নিয়ে ঘন্টাব্যাপী উত্তেজনা বিরাজ করছিল হাসপাতালের তৃতীয় তলায়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৩টি লটে মোট ১৮৪ জন আউটসোর্সিং কর্মচারী নিয়োগের লক্ষ্যে দরপত্র আহ্বান করে। এর অংশ হিসেবে সোমবার (২ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টায় লট নং- ১১৬৪৯৮২ এর আওতায় ৬০ জন কর্মচারীর ভাইভা অনুষ্ঠানের সময় নির্ধারিত ছিল। তিনটি প্রতিষ্ঠান- মাছরাঙা সিকিউরিটি সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেড, তাকবীর এন্টাপ্রাইজ ও আল আরাফা সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেডের তালিকাভূক্ত কর্মীরা ভাইভা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে উপস্থিত হন। এ সময় হাসপাতালে পূর্বে থেকে কর্মরত কয়েকজন কর্মচারীর সাথে বহিরাগতরা মিলে পরীক্ষা দিতে আসা প্রার্থীদের ভয় ভীতি দেখিয়ে অবিলম্বে হাসপাতাল ত্যাগ করতে হুকুম দেয়।
নাহলে পরিণতি খারাপ হবে বলে হুঁশিয়ার করলে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতন্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। বাঁধার মুখে অন্তত ১২জন পরীক্ষার্থী ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তাকবীর এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী মো: ইকতিয়ার উদ্দিন হাসপাতালের পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ জানান, তার কর্মচারীরা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য এলে মাছরাঙা সিকিউরিটিজের কর্মীরা মব সৃষ্টি করে এবং অতর্কিত হামলা চালিয়ে লাঞ্ছিত করে।
ভয়ে তার কর্মীরা হাসপাতাল ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। তিনি পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণের দাবি জানিয়ে বলেন, সুষ্ঠু পরিবেশে সবাই ভাইভায় অংশ নেওয়ার সুযোগ না পেলে তিনি আইনের আশ্রয় নেবেন।
পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার জন্য ভুক্তভোগীরা দায়ী করেন আউটডোর শাখার ক্লিনার আসাদুজ্জামান ও কর্মচারী লিজা আক্তারকে। ঘটনা সম্পর্কে জানতে আসাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে লিজা আক্তার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মন্ত্রণালয় নির্দেশ দিয়েছে যারা আগে থেকে কাজ করছেন নতুন কাজের ক্ষেত্রে তারা অগ্রাধিকার পাবে।
হাসপাতালে আমরা প্রায় চারশ’ কর্মী বর্তমানে কর্মরত আছি। ৮ মাস যাবৎ কোন বেতন পাচ্ছিনা। আজকে দেখি বটিয়াঘাটা ও রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে কয়েকজন ভাইভা দিতে এসেছে। আমার তাদেরকে ভাইভায় অংশ না নিতে অনুরোধ করি। কোন মব বা সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটেনি।
খুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. কাজী মো. আইনুল ইসলাম জানান, ভাইভার শুরুতে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। পুরনো কর্মীরা মনে করেছিলেন তাদের বাদ দিয়ে নতুন কর্মী নেওয়া হবে। এজন্য তারা জোরালো ভাবে বাঁধা দেয়। পরিস্থিতি খারাপ ছিল স্বীকার করে পরিচালক বলেন, আমি পুলিশ ডেকে এনে শান্ত করি। পরে ভাইভা হয়েছে।
সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, হাসপাতালের অভ্যন্তরে ঝামেলা হচ্ছে জেনে আমি থানা থেকে ফোর্স পাঠাই। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জানা গেছে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একাধিকবার আউটসোর্সিং কর্মচারী নিয়োগে টেন্ডার আহ্বান করলেও মাছরাঙা সিকিউরিটি সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেডের টালবাহান ও ছলছাতুরির কারণে সে উদ্যোগ ভেস্তে যায়।