অরবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনাঃ
খুলনার কয়রায় রাতের অন্ধকারে সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে ভবতােষ মৃধা (৪৭) নামের এক ঔষধ ব্যবসায়ীকে এলোপাথাড়ী কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
১৭মে রবিবার দিনগত রাত ২ দিকে উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের মধ্য মহেশ্বরীপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত ভবতোষ মৃধা ঐ এলাকার একজন সুপরিচিত ঔষধ ব্যবসায়ী। একই ইউনিয়নের গিলাবাড়ী বাজারে তার অনুষ্কা ফার্মেসি নামে একটি ঔষধের দোকান রয়েছে। তিনি মহেশ্বরীপুর গ্রামের যশো মৃধার ছেলে। তিনি নাবালোক ২ সন্তানের জনক।
ভবতোষ মৃধা দীর্ঘদিন এলাকার বাইরে থেকে একটি এনজিওতে চাকরী করতেন। বছর ২ আড়াই এলাকায় এসে গিলাবাড়ী বাজারে ঔষধের ব্যাবসা শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান খোকন জানান, রবিবার দিনগত গভীর রাতে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ভবতোষ মৃধার ঘরের সিঁধ কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। ঘরে ঢোকার শব্দ পেয়ে ভবতোষ জেগে ওঠেন এবং তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এসময় দুর্বৃত্তরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ী কুপিয়ে গলার শ্বাসনালী কেটে দেয়। তার স্ত্রী স্বামীকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা তাকেও কুপিয়ে জখম করে।
তিনি আরো বলেন, তার স্ত্রীর হাঁক চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ভবতোষ মৃধাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত স্ত্রী একই হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে স্বামীর শবদাহ করার জন্য বাড়ীতে ফিরে এসেছেন।
তার স্ত্রী বিভা রাণীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুর্বৃত্তরা সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমার স্বামীকে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে। আমি বাধা দিতে গেলে আমাকে লাথি-ঘুঁসি মেরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। আমি আমার স্বামীকে বাঁচাতে তার গায়ের উপরে পড়ে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করতে থাকি। তখন তারা আমাকেও এলোপাথাড়ী কুপিয়ে জখম করে এবং আমার স্বামীর গলার শ্বাসনালী কেটে দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
দুর্বৃত্তরা টাকা-পয়সা বা সোনা-গহনা কোন কিছু নিয়ে গেছে বা নিতে চেয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা টাকা-পয়সা, সোনা-গহনা কিছুই নেয়নি বা চায়নি। আমার স্বামীকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে চলে গেছে। আমি স্বামী হত্যার বিচার চাই।
দুর্বৃত্তদের কাউকে চিনতে পেরেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাতের আঁধারে কাউকে চিনতে পারেনি বা তারা কতজন ছিলো সেটাও আমি দেখতে পায়নি।
এলাকায় কাহারো সাথে শত্রুতা আছে কিনা জানতে চাইলে বিভা রাণী বলেন, এলাকায় কাহারো সাথে আমাদের সাথে কোনো শত্রুতা নেই। তবে ঘেরের জমি-যায়গা নিয়ে একজনের সাথে মনোমালিন্য আছে। তাদের স্ট্যাম্প আমাদের কাছে আছে। এই স্ট্যাম্পের ঝামেলা নিয়ে কয়েকদিন আগে গিলাবাড়ী বাজারে এ ওয়ার্ডের মেম্বরের মাধ্যমে বসাবসি হয়েছিল, কিন্তু তার কোনো সমাধান হয়নি। তাই ২/৩ দিন ধরে স্ট্যাম্প ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য তারা হুমকি দিয়ে আসছিল।
যারা স্ট্যাম্পের জন্য হুমকি দিয়ে আসছিল তারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাহারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা আমি বলতে পারবো না আমি কাউকে চিনতে পারেনি। তবে যে বা যাহারা আমার স্বামীকে হত্যা করেছে, তাদের শাস্তি চাই।
এ নিউজ লেখা পর্যন্ত ভবতোষ মৃধার লাশ খুমেক হাসপাতাল থেকে ময়না তদন্ত শেষে তার বাড়ীতে শবদাহের প্রস্তুতি চলছিল।
কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শাহ আলম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ময়না তদন্ত শেষে লাশ বাড়ীতে আনা হয়েছে। শবদাহ শেষে বাদীপক্ষ থানায় এসে এজাহার করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও
এই অপরাধের সাথে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান চলছে।
কয়রা, খুলনা প্রতিনিধি
তারিখঃ ১৮/০৫/২৬ ইং।