অরবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনাঃ
খুলনার কয়রায় এক মৎস ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবীর অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি আমলে নিয়ে বিজ্ঞ আদালত সিআইডি খুলনা শাখাকে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ প্রদান করেন। কয়রা উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উক্ত মামলাটি দায়ের করেছেন উপজেলার দক্ষিণ মদিনবাদ গ্রামের মোজাফফর হোসেন। মামলা নং- সিআর ৫২৬/২৬, তারিখ- ১৭/০৮/২৬।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত (১০ আগস্ট) সোমবার সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে উপজেলা সদরের ২নম্বর কয়রা গ্রামের রশিদ মোল্লার মোড়ে বাদীর মাছ-কাঁকড়া ব্যাবসায়িক (ডিপো) প্রতিষ্ঠান রয়েছে । সেখানে উপস্থিত হয়ে বাদীর কাছে অভিযুক্ত মামলার ১নং আসামী ২নং কয়রা গ্রামের সোলাইমান শেখের ছেলে মনিরুজ্জামান ওরফে মনি ( ৪৫) ও ২ নং আসামী হরিণখোলা গ্রামের মোঃ আনছার শেখের ছেলে আলাউদ্দীন শেখ দীঘদিন ধরে মৎস্য ব্যাবসায়ী মোজাফফর হোসেনের কাছে ৩ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে আসছিল এবং তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার বাদী মাছ -কাঁকড়া ব্যাবসায়ী মোজাফফর হোসেন জানান, মনি ও আলাউদ্দীন এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও দস্যু শ্রেণীর লোক তারা আমার কাছে ৩ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে আমাকে বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়ে আসছিল। আমি তাদের চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা আরো বেপোরোয়া হয়ে ওঠে। তারা সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে আমার ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে দেশীয় অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে জিম্মি করে (মাছ -কাঁকড়া) বিক্রির আনুমানিক ৪ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা ও একটি এনড্রযেড মোবাইল ফোন দোকানের ক্যাশ বক্স থেকে নিয়ে চলে যায়। এসময় এলাকার অনেকের সামনে এই ঘটনা ঘটলেও তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি। তিনি আরো বলেন, চাঁদা দাবীর ঘটনায় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেছিলেন। অতঃপর এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি ন্যায় বিচারের দাবী জানান। এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যাক্তিদের ব্যাবহৃত মোবাইল ফোনে বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও সংযোগটি বন্ধ থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবু বকর সিদ্দীক বলেন , আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলাটি পুলিশের খুলনা সিআইডি শাখাকে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।