অরবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনাঃ
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে খুলনার কয়রা উপজেলার জনগুরত্বপূর্ণ ৪নং মহারাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির একক মনোনীত প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্ধিতা করতে চান ক্লিন ইমেজের নেতা শরিফুল আলম।
মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষ নদের পার্শ্ববর্তী আটরা গ্রামের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া শরিফুল আলম মনে করেন, ইউনিয়নের মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে এখনো আশানুরূপ কাজ হয়নি। যে কারণে তিনি এলাকাবাসীর অনুরোধে এবং মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে একটি উন্নত ও সুশৃঙ্খল মহারাজপুর ইউনিয়ন গড়ে তুলতে চেয়ারম্যান প্রার্থী হচ্ছেন।
ছাত্র ও যুব রাজনীতির আইকন শরিফুল আলম ১৯৯৪ সালে কয়রা কপোতক্ষ মহাবিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্য, ১৯৯৮ সালে কয়রা উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক, ২০০৩ সালে কয়রা উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং ২০১১ সালে কয়রা উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক নির্বাচিত হন। ২০২২ সালে কয়রা উপজেলা যুবদলের আহবায়ক নিবাচিত হয়ে এখনো পর্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৩ সালে কয়রা উপজেলা বিএরপির যুগ্ম আহবায়ক নির্বাচিত হন। বর্তমানে উপকূল বার্তা পত্রিকার সম্পাদক এবং কয়রা উপজেলা প্রেসকাবের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
কয়রা উপজেলার মধ্যে মহারাজপুর একটি গুরত্বপূর্ণ ইউনিয়ন। উপজেলার সমস্ত রাজনৈতিক দলের নেতাদের বাড়ি ঐ ইউনিয়নে। এই ইউনিয়ন থেকে সমস্ত আন্দোলন সংগ্রাম শুরু হয়। যে কারণে মহারাজপুর ইউনিয়নকে রাজনৈতিক সুতিকাগার বলা হয়ে থাকে। অতীতে যারা মহারাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন তারা আশানারূপ উন্নয়ন করতে পারেনি। সে জন্য আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ইউনিয়নবাসী শিক্ষিত ও মার্জিত জনবান্ধব নেতা শরিফুল আলমকে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান। জনসাধারনের চাওয়া-পাওয়াকে গুরুত্ব দিয়ে শরিফুল আলম ইতিমধ্যে ইউনিয়ানের ৯ টি ওয়ার্ডে গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। দলের কর্মসূচীর পাশা-পাশি বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছেন।
সাধারন ভোটাররা মনে করেন, শরিফুল আলম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে উন্নয়নের জন্য অগ্রণী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন। ইউনিয়নের সাধারন ভোটারা মনে করেন, ক্লিন ও পরিচ্ছন্ন ইমেজের ঔঔব্যক্তি শরিফুল আলম ছাত্র রাজনীতি থেকে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। সে জন্য দল যদি তাকে একক প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করে তাহলে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন। আর নির্বাচিত হলেই ইউনিয়নের রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যখাতসহ বহুমুখী উন্নয়ন বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। সততা, ন্যায়নীতির প্রতীক হিসেবে মহারাজপুর ইউনিয়নটিকে একটি মডেল ইউনিয়নে রূপ দিতে তিনি কাজ করবেন বলে তারা মনে করেন।
বিগত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামে বহুবার মামলা হামলার শিকার হয়েছেন। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সম্মুখ সারির যোদ্ধা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে বারবার কারাবরণ করেন।
শরিফুল আলম বলেন, দল ও জনগণের জন্য তিনি যে ত্যাগ করেছেন তা দলীয় হাইকমান্ড অবশ্যই মূল্যায়ন করবেন। তিনি বলেন, প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং দলের কর্মসূচী সততা, শৃঙ্খলার সাথে দায়িত্ব পালন করেছি। তাই মহারাজপুর ইউনিয়নের মানুষের কাছে তিনি নিজেকে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হিসেবে দেখছেন। তিনি দলীয় মনোনয়নে একক প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। সে জন্য তিনি দলের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন। এবং আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মহারাজপুর ইউনিয়নের মানুষের কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন, যাতে দলের মনোনয়ন পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে ইউনিয়নকে মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলে মানুষের সেবক হিসেবে কাজ করতে চান।
কয়রা, খুলনা প্রতিনিধি
তারিখঃ ২৬/০৪/২৬ ইং।